Logo
জঙ্গে জামাল: সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি
জুনাইদ আহমদ মাশহুর
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬

৩৫ হিজরী সন। ইসলামের তৃতীয় খলীফা সায়্যিদুনা উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র দানা বেঁধেছে চারিদিকে। মুসলিম ছদ্মবেশে থাকা ইয়াহুদী আবদুল্লাহ ইবন সাবা ও তার অনুসারী সাবায়ীরা এই চক্রান্তের পেছন থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিগত বেশ কয়েকবছর ধরে খলীফা উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে বিরামহীনভাবে চলতে থাকা তাদের কু-প্রচার ও প্রতারণা এতটাই তীব্র রূপ ধারণ করেছে যে, সাবায়ী ও কতিপয় স্বার্থান্বেষী ছাড়াও সাধারণ লোকেরা তা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। খলীফার অনিষ্টের মাধ্যমে, ইসলামের ক্ষতি করার জন্য সাবায়ীরা শক্তিও সঞ্চয় করে ফেলেছে। যার প্রতিক্রিয়া কূফা, বসরা, শাম ও মিশরে ধীরে ধীরে লক্ষণীয় হয়ে উঠছে।

বিদ্রোহীরা মদীনা শরীফে একত্রিত হতে শুরু করলো। সায়্যিদুনা উসমান (রা.) কয়েক দফায় তাদের বিভ্রান্তির সরাসরি জবাব দিলেও সাবায়ীরা তা উপেক্ষা করলো। বহু চেষ্টার শেষে খলীফা (রা.) ও বিদ্রোহীদের মাঝে একটি সুরাহা হলো। যে যার যার এলাকায় চলে যেতে লাগলো। কিন্তু, অনর্থের মূল সাবায়ীরা তা আর হতে দিলো না। তারা মিশরের বিদ্রোহীদের হত্যাার নির্দেশসহ সেখানকার গভর্নরের কাছে খলীফার নামে ভুয়া চিঠি পাঠায়। তা আবার বিদ্রোহীদের কাছে ধরা পড়ে। ফিরতি বাকি সকল বিদ্রোহীদের কাছেও এ খবর তীব্র বেগে ছড়িয়ে পড়ে। পুনরায় সবাই একযোগে মদীনা শরীফ অবরোধ করলো।

ভুয়া চিঠির ব্যাপারটা খোলাসা হওয়ার পরও বিদ্রোহের তীব্রতা দিনের পর দিন বাড়তেই থাকলো। পর্যায়ক্রমে তারা খলীফা উসমান (রা.)-এর জুমুআ পড়ানো বন্ধ করে। অতঃপর তাকে তাঁর ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে। তাঁর খাবার-পানীয় সব বন্ধ রাখা হয়। হযরত আলী (রা.), উম্মাহাতুল মুমিনীন ও বেশ কয়েকজন সাহাবীর চেষ্টার পরেও তাদের কাছে খাবার-পানীয় পৌঁছানো গেলো না। পাপিষ্ঠরা বরং তাঁদের সাথে খারাপ ব্যবহার করলো। হযরত উসমান (রা.) বিদ্রোহীদের অনর্থক দাবী-দাওয়া মেনে নিলেন না, বরং সত্যের পথে অনড় রইলেন। আবার এদের প্রতিরোধ করতে যেয়ে মুসলমানের রক্তে তাঁর হাত রঞ্জিত হোক, তাও তিনি চাচ্ছিলেন না।

দীর্ঘদিনের অবরোধের পর, সে বছর যিলহজ্জ মাসের ১৮ তারিখে ইসলামের ইতিহাসে এক কলঙ্কের অধ্যায় রচিত হলো; যুন নূরাইন, সায়্যিদুনা উসমান (রা.)-কে নির্মমভাবে শহীদ করা হলো। হযরতের শাহাদতের মাধ্যমে ফিতনার দরজা চিরকালের জন্য খুলে গেলো। বিদ্রোহীদের নেতা আশতার নাখয়ীকে লক্ষ্য করে তিনি বলেছিলেন- “আল্লাহর কসম! যদি তোমরা আমাকে হত্যা করো, তবে এরপর তোমরা কখনোই আর পরস্পর ভালোবাসতে পারবে না, কখনো একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জামাআতে নামায আদায় করতে পারবে না এবং কখনো একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোনো শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারবে না”। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় হযরত উসমান (রা.)-এর এই কথা পরবর্তীকালে অক্ষরে অক্ষরে মিলে গিয়েছিল।

এই ক্রান্তিলগ্নে মুসলিম জাহানের পরবর্তী খলীফা কে হবেন তা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর বিদ্রোহীরা পাঁচদিন মদীনায় অবস্থান করে। খিলাফতের সবচেয়ে উপযুক্ত তিনজন সাহাবী হযরত আলী, হযরত যুবাইর ও হযরত তালহা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুম তিনজনকেই বিদ্রোহীরা এ গুরু দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আহ্বান জানায়। তাঁরা সকলেই তা প্রত্যাখ্যান করেন। কেউ দায়িত্ব না নেওয়ায়, বিদ্রোহীরা রেগে তিনজনকেই হত্যার হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। ফলে মদীনার অধিবাসী সবাই মিলে হযরত আলী (রা.)-এর কাছে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আবেদন করেন। এতেও আলী (রা.) রাযী হননি। পরবর্তীতে হযরত যুবাইর ও তালহা (রা.)-এর অনুরোধে তিনি রাযী হন এবং তাঁরাই প্রথম তাঁর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করেন।

খিলাফতের মসনদে আসীন হওয়ার পরপরই আলী (রা.)-এর সামনে সবচেয়ে বড় যে চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছিলো তা হলো—হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যার বিচার করা। হদ কায়িমের জন্য নির্দিষ্ট দোষী, সাক্ষ্য ও প্রমাণের অভাব, বিষয়টাকে আরো জটিল করে তুলেছিল।

সাধারণতই কোনো অভ্যুত্থান বা গণবিদ্রোহের পরপর রাষ্ট্রীয় কাঠামো স্থিতিশীল হতে বেশ সময়ের প্রয়োজন হয়। বিদ্রোহ চলাকালীন বিশৃঙ্খলার তাৎক্ষণিক বিচার করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। কারণ এত বিশাল সংখ্যোক বিদ্রোহীদের মাঝে আপনি কাকে রেখে কাকে দোষী সাব্যস্ত করবেন? এতে পরিস্থিতি আরো বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে, নিরপরাধও ফেঁসে যাবে। আধুনিক রাষ্ট্রনীতিতেও এ ধরণের অনেক নমুনা দেখতে পাওয়া যায়। নিকট অতীতে ঘটে যাওয়া কয়েকটি গণঅভ্যুত্থানও এখানে লক্ষণীয়।

তো, হযরত আলী (রা.) চিন্তা করলেন খলীফা হত্যার কিসাস তো অবশ্যই কায়িম করতে হবে। কিন্তু তা যদি রাষ্ট্রের এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে করা হয়, তাহলে অনেক নিরপরাধ মানুষও জান খোয়াবে। কাজেই আগে রাষ্ট্রের ভিত মজবুত করা প্রয়োজন। চলমান সব সমস্যার সমাধান করে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে হযরত উসমান (রা.)-এর হত্যার বিচার করা হবে। তাছাড়া, এমন অনেক বিদ্রোহীরও হদীস পাওয়া যায়, যারা হযরতের হত্যায় শামিল ছিলো না, তারা মূলত সাবায়ীদের চক্রান্তের শিকার। অর্থাৎ তারা সাধারণ বিদ্রোহী হিসেবেই ছিল। বিদ্রোহীদের অনেকেই তাওবা করে হযরত আলী (রা.)-এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে। তাই চাইলেই তিনি তখন  যাচাই-বাছাই ছাড়া সব বিদ্রোহীদের বিচার করতে পারেন না। ফলে দেরীতেই কল্যাণ।

সাহাবীদের অনেকেই হযরত উসমান (রা.) হত্যার বিচার সংক্রান্ত আলী (রা.)-এর এই ইজতিহাদকে সমর্থন জানান। অপরদিকে, সাহাবীদের প্রবীণ ও উল্লেখযোগ্য একটি অংশ এর বিপরীত মত পোষণ করেন। যাদের মধ্যে হযরত তালহা, হযরত যুবাইর, হযরত আয়িশা ও হযরত মুআবিয়া (রা.) অন্যতম।

হযরত যুবাইর, তালহা ও আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর মত ছিলো যে, হযরত আলী (রা.)-এর উচিত যতদ্রুত সম্ভব উসমান (রা.) হত্যার বিচার কার্যকর করা এবং বিদ্রোহী সবার উপরই হদ কায়িম করা। অন্যথায় তাঁরা নিজেরাই কিসাসের জন্য বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মাঠে অবতীর্ণ হবেন। হযরত মুআবিয়া (রা.)-এর মতও এরকমই ছিল। শুধু পার্থক্য হলো, হযরত আলী (রা.)-এর নিকট বাইয়াত গ্রহণে হযরত যুবাইর, তালহা, আয়িশা (রা.) এর কোনো অসুবিধা ছিলো না। আর হযরত মুআবিয়া (রা.)-এর শর্ত ছিলো¬—হযরত আলী (রা.) প্রথমে উসমান (রা.) হত্যার কিসাস কার্যকর করবেন, পরে তিনি তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবেন।

খলীফা হযরত আলী (রা.) ধীরে ধীরে সবদিকের অবস্থা স্বাভাবিক করতে উদ্যত হন। বিদ্রোহীরা খুব দ্রুতই মদীনা থেকে নিজ নিজ জায়গায় চলে যায়। এদিকে হযরত তালহা (রা.)-সহ অনেক সাহাবারা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে তাড়াতাড়ি কিসাস কার্যকরের দাবি জানান। আলী (রা.) তাদেরকে আশ্বস্ত করেন ও ধৈর্য্যধারণের জন্য আহ্বান করেন। সাহাবীদের মধ্যকার এই ইজতিহাদী ইখতিলাফকে কেন্দ্র করে সাবায়ীরা তাদের নতুন ফন্দি আঁটে। এবার চারিদিকে তারা আলী (রা.) বিরোধী প্রচারণা চালানো শুরু করে। ভাবখানা এমন, যেন হযরত উসমান (রা.) হত্যাার পিছনে স্বয়ং আলী (রা.) জড়িত। সাধারণ মানুষ আবার তাদের ফাঁদে পা দিতে শুরু করে। বিশেষত- শামবাসী হযরত উসমান (রা.) হত্যার বিচারের আগে খলীফা হযরত আলী (রা.)-এর নিকট বাইয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

উম্মাহাতুল মুমিনিনরা হজ্জ পালনের জন্য মক্কায় গিয়েছিলেন। মদীনায় ফেরার পথে হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদতের খবর তাদের কাছে পৌছায়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে তারা মদীনায় ফেরার চেয়ে মক্কায় অবস্থানকে নিরাপদ মনে করে সেখানে ফিরে যান। আম্মাজান হযরত আয়িশা সিদ্দিকা (রা.)-ও তখন মক্কায় অবস্থান করছিলেন।

ইতোমধ্যে হযরত উসমান (রা.) এর হত্যাকাণ্ডের চার মাস অতিবাহিত হয়েছে। হযরত তালহা ও যুবাইর (রা.) আম্মাজান আয়িশা (রা.)-এর সাথে খলীফা হত্যার বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে পরামর্শের জন্য মক্কায় আসেন। তাঁরা তিনজনই আলী (রা.)-এর খিলাফতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, উক্ত হত্যাকাণ্ডে তাঁর বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি দ্বিমত পোষণ করতেন। তাঁরা মনে করতেন, এই পাষণ্ডদের বিচারে দেরি করা হলে এটা খুনিদের অন্তরে সাহস যোগাবে, খিলাফতের মসনদের সম্মান অক্ষুণ্ন থাকবে না এবং বাকি খলীফারাও এমন হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া থেকে বাঁচতে পারবেন না। যদিও অধিকাংশের ইজমা অনুযায়ী এ বিষয়ে হযরত আলী (রা.)-এর সিদ্ধান্তই ছিল হক্বের অধিক নিকটবর্তী।

হারামের আঙিনায় জনসাধারণকে লক্ষ্য করে আম্মাজান আয়িশা (রা.) একটি বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বিদ্রোহীদের দ্বারা ভূলুণ্ঠিত হওয়া খিলাফতের মসনদ, হারাম মাসের পবিত্রতা লঙ্ঘন, মদীনার পবিত্র ভূমিতে সম্মানিত খলীফার ন্যাক্কারজনক হত্যাাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এছাড়াও, বিদ্রোহীদের তাৎক্ষণিক বিচারের জন্য মানুষকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান। উপস্থিত মানুষেরা তার ডাকে সাড়া দেয়।

সিদ্ধান্ত হলো, আম্মাজান (রা.), হযরত যুবাইর ও তালহা (রা.)-সহ একটি কাফেলা মক্কা থেকে বসরা ও কূফার দিকে রওয়ানা হবে। সেখানে থাকা মানুষদের সাহায্য নিয়ে উসমানবিরোধী বিদ্রোহীদের থেকে হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে এবং মুসলমানদের মধ্যকার বিবিধ ঝামেলার সুরাহা করা হবে। উসমান (রা.)-এর সময়কার কয়েকজন প্রশাসনিক দায়িত্বশীল সাহাবী তখন মক্কায় অবস্থান করছিলেন। তারাও এ সিদ্ধান্তে একাত্মতা পোষণ করেন। আম্মাজান আয়িশা সিদ্দীকা (রা.)-এর জন্য উটের উপরে বিশেষ হাওদার ব্যবস্থা করা হয়। আম্মাজানের উটের উপরে সাওয়ার হয়ে সফর পরিচালনার বিরল দৃষ্টান্তের কারণেই পরবর্তী ঘটনাকে “জামাল” বা উটের সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

প্রায় ৬০০ জনের একটি কাফেলা মক্কা থেকে বসরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। আম্মাজান (রা.) এই কাফেলায় শরীক হওয়ার মূল কারণ ছিলো, সাধারণ মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলা। স্পষ্টত কাফেলায় তাঁর উপস্থিতির কারণে দলে দলে মানুষ সংযুক্ত হতে থাকে। বসরায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে যার সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়।

পথিমধ্যে এক জায়গায় আম্মাজান আয়িশা (রা.) কুকুরপালের খুব তীর্যক আওয়াজ শুনতে পান। তিনি সঙ্গীদের জিজ্ঞেস করেন, এ জায়গার নাম কী? তারা বলেন, বাওয়াব। তিনি চমকে ওঠেন। কারণ, কোনো একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর স্ত্রীদের লক্ষ্য করে বলেছিলেন, “ইশ! আমি যদি জানতে পারতাম তোমাদের থেকে কার জন্য বাওয়াবের কুকুর কান্না করবে”।

স্বাভাবিকভাবেই রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ভবিষ্যদ্বাণীর চাক্ষুষ প্রতিফলনে আয়িশা (রা.) কিছুটা চমকে যান। ঘটনা এতটুকুই। কিন্তু এর উপর ভিত্তি করে ফিরে যাওয়া বা ইতস্তত হওয়ার বর্ণনাগুলো অধিকাংশই বানোয়াট।

কাফেলা বসরা সীমান্তে পৌঁছালে শহরের অদূরে একটি স্থানে শিবির স্থাপন করা হয়। এখান থেকেই আম্মাজান (রা.) বসরার গণ্যমান্য লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেন, তাদেরকে তাঁর বসরা আসার সকল উদ্দেশ্যও জানান।

উসমান ইবনু হুনাইফ (রা.) তখন বসরার গভর্নর। তিনি হযরত আয়িশা (রা.)-এর সাথে দেখা করতে শিবিরে পৌঁছান। আম্মাজান সাফ জানিয়ে দেন, এত দূর সফর করার পেছনে তাঁর কোন গোপন উদ্দেশ্য নেই, এসবই মূলত উম্মাহের মধ্যকার সমস্যার সমাধানের অভিপ্রায়ে। হযরত তালহা ও যুবাইরও জানান যে, হযরত আলী (রা.)-এর খিলাফত নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই।

এদিকে বসরার মানুষরা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একদল মক্কা থেকে আসা কাফেলায় শামিল হয়। বিশেষত আম্মাজান (রা.) ও প্রবীণ বিশিষ্ট সাহাবীগণের উপস্থিতি মানুষকে এই কাফেলায় যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করে। অপরদিকে বসরায় ঘাপটি মেরে থাকা সাবায়ীরা নিজেদেরকে আলী (রা.)-এর কল্যাণকামী দাবী করে, মানুষকে এই কাফেলার বিরুদ্ধে ফুসলিয়ে তুলে। যার নেতৃত্ব দেয়, হুকাইম ইবন জাবালা। হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদতের পেছনেও এই পাপিষ্ঠের হাত ছিল।

সাবায়ী হুকাইমের প্ররোচনার ফলে উভয় দলের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। মক্কার কাফেলা ও বসরা প্রশাসনের মধ্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের মধ্যেই এরা কাফেলায় আক্রমণ করে বসে। আত্মরক্ষার্থে কাফেলায় থাকা মানুষেরাও প্রতিঘাত করতে শুরু করেন। তীব্র যুদ্ধের শেষে বিদ্রোহীরা পরাভূত হয়। হুকাইমসহ বসরার নেতৃস্থানীয় সাবায়ীরা এতে মারা যায়। সিদ্ধান্ত হয় বসরায় থাকা সাবায়ী বিদ্রোহীদের উপর হদ কায়িম হবে। ফলে, বসরায় লুকিয়ে থাকা সাবায়ী মুনাফিকরা নির্মূল হয়।

এদিকে হযরত আলী (রা.) মদীনা থেকে কূফায় আগমন করেন। কূফাবাসী তাকে সাদরে বরণ করে এবং সরাসরি তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করে। অতঃপর আলী (রা.) চিন্তা করলেন মক্কার কাফেলার সাথে ভালোভাবে বোঝাপড়ার জন্য কাউকে প্রেরণ করা প্রয়োজন। তিনি ক্বা’ক্বা ইবন আমর (রা.)-কে এ কাজের জন্য প্রেরণ করেন। এসময় ক্বা’ক্বা নিখুঁত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন। তিনি প্রথমে হযরত আয়িশা (রা.)-এর সাথে দেখা করে তাঁর উদ্দেশ্য জানতে চান। আম্মাজান সাধারণভাবেই সব বলেন। তখন ক্বা’ক্বা তাঁর সামনে পরিস্থিতির জটিলতা ভালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বসরার উদাহরণ টেনে আনেন। সেখানে বিদ্রোহীদের উপর হদ কায়িম হলেও বিশৃঙ্খলা দূরীভূত হয়নি। একই কাজ পুরো ইসলামী রাষ্ট্র জুড়ে করতে গেলে উপরন্তু তা গৃহযুদ্ধের রূপ নিবে। ক্বা’ক্বার কথা উম্মুল মুমিনীন উপলব্ধি করতে পারলেন। হযরত তালহা ও যুবাইর (রা.)-ও সায় দিলেন। সুরাহা হলো—পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত কিসাস সম্পাদন থেকে বিরত থাকা হবে।

এ খবর কূফায় হযরত আলী (রা.)-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বসরায় আগমনের সিদ্ধান্ত নিলেন। মালউন আবদুল্লাহ ইবন সাবা ও সাবায়ীদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তখন কূফায় অবস্থান করছিল। তারা টের পেলো, তাদের আর রক্ষা নেই। কারণ মক্কার কাফেলা ও হযরত আলী (রা.)-এর মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে আজ হোক কিংবা কাল, তাদের পরিণতিও বসরার সাবায়ীদের মতো হবে। তাই তারা নতুন চক্রান্তের ছক আঁকতে লাগলো। চিরায়তভাবেই তারা দুই দলের ভিতরে ভাগ হয়ে ফিতনা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে।

ক্বা’ক্বা ইবন আমর (রা.)-এর মাধ্যামে উভয় দল সমঝোতায় আসলেও কোন আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদিত হয়নি তখনো। তাই হযরত আলী (রা.) বসরায় পৌঁছেই মক্কার বাহিনীর শিবিরের মুখোমুখি হন। উভয় শিবিরের মানুষেরাই একে অন্যের সাথে মিশে গিয়েছিলেন। কারণ সবাই তো একে অপরের পূর্বপরিচিত, একসাথেই তাদের চলাফেরা। তাদের মধ্যে মৌলিক কোনো সমস্যা বিদ্যমান ছিল না।

এদিকে ঝামেলার নিষ্পত্তিকল্পে হযরত আলী (রা.) হযরত তালহা ও যুবাইর (রা.)-এর সাথে কয়েক দফায় আলোচনায় বসেন। এসময় তারা আলী (রা.)-এর খিলাফতে অসন্তুষ্ট কি-না, সেটাও জেনে নিতে চাইলেন। উভয়ের কারোরই আলী (রা.)-এর খিলাফতে কোন অসন্তোষ ছিলো না। তাছাড়াও, উভয় বাহিনীর মধ্যে কোন যুদ্ধ না বাঁধিয়ে পরামর্শের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অথচ শান্তিপূর্ণ এ অবস্থায় তাদের অজান্তেই সাবায়ীরা নীলনকশা সাজাচ্ছিল।

১০ জমাদিউল আখির, ৩৬ হিজরী সন। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা সাবয়ীরা কাজে নেমে পড়লো। উভয় শিবিরে ঘাপটি মেরে থাকা তাদের সদস্যরা একে অন্যের সাথে ঝগড়া বাঁধিয়ে দিলো। কিছুক্ষণ পর তারা বিপরীত শিবিরকে লক্ষ্য করে তির ছুঁড়তে শুরু করে। কিছু বোঝার আগেই শুরু হয়ে যায় তুমুল লড়াই। অথচ, উভয় শিবিরের নেতৃস্থানীয় জায়গা থেকে যুদ্ধের ব্যাপারে কোন আদেশই আসেনি। এরপর সাবায়ীরা উভয় দিকের নেতাদের কাছেও বিপরীত দলের সম্পর্কে ভুয়া খবর পৌঁছাতে থাকে। আলী (রা.) যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য অনেক চেষ্টা চালিয়েও সফল হননি। অনেক অপেক্ষার পর দুই পক্ষের নেতৃস্থানীয়রা যুদ্ধের অনুমতি দিতে বাধ্য হন। পুরোদমে শুরু হয় যুদ্ধ।

হযরত তালহা (রা.) চেষ্টা করছিলেন যুদ্ধ বন্ধ করার। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকাকালীন উড়ো একটি তির এসে বিদ্ধ হয় তার দেহে। এই তির মারওয়ান ইবন হাকাম ছুড়েছিল মর্মেও সহীহ বর্ণনা পাওয়া যায়। তাঁর যখম এত গভীর ছিলো যে, রক্তক্ষরণের কারণেই তিনি শাহাদতবরণ করেন।

যুদ্ধের তীব্রতা দেখে হযরত যুবাইর (রা.) আগেই যুদ্ধক্ষেত্র ত্যাগ করেছিলেন। তিনি মদীনার দিকে রওয়ানা হন। কিন্তু আমর ইবন জুরমুয নামক সাবায়ী এক পাপিষ্ঠ তাঁর পিছু নেয় এবং পথিমধ্যে তাঁকে হত্যা করে। আলী (রা.) আগেই যুবাইর (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর একটি ভবিষ্যদ্বাণী মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ  যুবাইর (রা.)-কে বলেছিলেন, “একদিন তুমি ও আলী মুখোমুখি হবে, সেদিন তুমি তাঁর উপর যালিম হবে”। এটা মনে পড়তেই যুবাইর (রা.) এ যুদ্ধে না জড়ানোর ক্ষেত্রে মনস্থির করে ফেলেন। তবে, যেহেতু তখন যুদ্ধের কোন পরিস্থিতিই ছিলো না, তাই উম্মাহের মাঝে সুলাহার জন্য তিনি শিবিরেই রয়ে যান।

উম্মুল মুমিনীন যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দূরে অবস্থান করছিলেন। যুদ্ধের খবর পেয়ে তিনি ময়দানে ছুটে যান। তাঁকে দেখে যদি অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, এই ছিলো আশা। তিনি ময়দানে আসতেই সাবায়ীরা তাঁর হাওদা লক্ষ্য করে তির চালানোর দুঃসাহস দেখায়। আম্মাজান আয়িশা (রা.) নিজের জানের পরোয়া না করে বারবার যুদ্ধ বন্ধের জন্যক আহ্বান করছিলেন। কে শুনে কার কথা! এদিকে আম্মাজানের উটকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। অনেকেই তাঁর নিরাপত্তার জন্য যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন। আহতও হন আরো বেশ কয়েকজন।

এদিকে হযরত আলী (রা.) কীভাবে এ যুদ্ধ থামানো যায় এর কোন উপায়ই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বিভীষিকাময় এ অবস্থায় কা’কা ইবন আমর পরামর্শ দেন যে, এখন যুদ্ধ যেহেতু আম্মাজানের উটকে কেন্দ্র করে চলছে, তাই উটটাকে বসিয়ে দিতে পারলে যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। পরামর্শ অনুযায়ী হযরত আয়িশা (রা.)-এর উটকে বসিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর হাওদাকে সসম্মানে আলী (রা.)-এর সামনে আনা হয়।

হযরত আলী (রা.) পরিপূর্ণ শ্রদ্ধার সাথে তাঁর কাছে যান, বলেন—আল্লাহ আমাদেরকে ও আপনাকে ক্ষমা করুন। আম্মাজান (রা.)-ও একই রকম দুআ করেন। ইতি ঘটে আমাদের ইতিহাসের প্রথম গৃহযুদ্ধের। মালউন, ফিতনাবাজ সাবায়ীদের চক্রান্তে সংঘটিত হওয়া এই মর্মান্তিক যুদ্ধে ৩ হাজার, মতান্তরে ১০ হাজার মানুষ প্রাণ হারান।

মাওলা আলী (রা.) আবার অবস্থা স্বাভাবিক করার দিকে মনোযোগ দেন। বিপরীত দলের থেকে প্রাপ্ত সব মালামালকে গনীমত ধরা হবে না। এক জায়গায় জমা করা হবে এবং যার যার জিনিস সে প্রমাণ দিয়ে নিয়ে যাবে। কারোর প্রতিই তিনি অবিচার করতে চাইলেন না। নিহত এদিকের হোন কিংবা ওদিকের, সবাইকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হলো। এমনকি তাদের জানাযাও তিনি পড়ালেন।

আম্মাজান আয়িশা সিদ্দীকা (রা.)-কে বসরার একটি বিশেষ বাড়িতে সসম্মানে অবস্থানের ব্যবস্থা করা হলো। তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটালে শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হলো। কয়েকদিন বসরায় অবস্থান করে তিনি মদীনার জন্য রওয়ানা হন। সম্মানার্থে বসরার সম্ভ্রান্ত পরিবারগুলোর থেকে ৪০ জন নারীকে তাঁর সাথে দেওয়া হলো। যাওয়ার আগে তিনি জনসাধারণকে লক্ষ্যে করে বলেন, “তোমরা নিজেদের মাঝে অভিমান পুষে রেখো না। আল্লাহর কসম, অতীতে আমার আর আলী (রা.)-এর মাঝে যা কিছু হয়েছিল, তা কেবল একজন নারীর ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সম্পর্কের মতোই; এর বেশি কিছু নয়। (অর্থাৎ, শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সাথে মহিলাদের সাধারণ মনোমালিন্য যেমন স্বাভাবিক, তেমনি হযরত আলী ও আয়িশা (রা.)-এর মধ্যকার ছোটখাটো বিষয়গুলোও ছিলো তেমন স্বাভাবিক) তিনি নিশ্চিতভাবেই আমার দৃষ্টিতে নেককারদের একজন”। হযরত আলী (রা.)-এর কাছে এ বক্তব্য পৌঁছালে তিনি বললেন—অবশ্যই তিনি সত্য বলেছেন, আর তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ইহকাল-পরকাল উভয়কালের স্ত্রী।

আম্মাজান (রা.) তাঁর বাকি জীবনে এ যুদ্ধের কথা মনে করে আফসোস করতেন। তাবারীর এক বর্ণনানুযায়ী, জামালের যুদ্ধের কথা মনে করলেই তিনি বলতেন, “হায়! আমি যদি এ ঘটনার বিশ বছর আগে মারা যেতাম”। তিনি এত বেশি কান্না করতেন যে, তাঁর ওড়না চোখের পানিতে ভিজে যেত। আলী (রা.)-ও এ যুদ্ধের জন্য অনেক আফসোস করতেন।

দেখুন, জামালের যুদ্ধ পুরোটাই অনিচ্ছাকৃত। দুই পক্ষের কেউই চাননি এই যুদ্ধ সংঘটিত হোক। আলী (রা.) ও অন্যান্য সাহাবীদের মূল ইখতিলাফ ছিল ফিকহী। এটা এমন একটা বিষয় নিয়ে ছিলো যার আর কোনো নিদর্শন বিদ্যমান ছিলো না। তাই সাহাবীরা তাদের ইজতিহাদ অনুযায়ী মতামত পোষণ করেন। এজন্য এক্ষেত্রে কাউকেই দোষারোপ করা যাবে না। তবে উম্মাহের ইজমা হয়েছে এর উপর যে, হযরত উসমান হত্যার বিচারকার্যের বিষয়ে হযরত আলী (রা.)-এর ইজতিহাদই সবচেয়ে বেশি যৌক্তিক ছিল। তাছাড়া, হযরত আয়িশা (রা.) ও তালহা, যুবাইর (রা.) কেউই যুদ্ধের নিয়তে বসরার দিকে রওয়ানা হননি। আলী (রা.)-এর খিলাফত নিয়েও তাদের কোনো অসুবিধা ছিলো না। তাদের উদ্দেশ্য ছিলো, সাধারণ জনগণের সাহায্য নিয়ে হযরত উসমান (রা.) হত্যার বিচার করা। যাতে বিদ্যমান বাকি সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। কিন্তু, পাপাচারী সাবায়ীদের চক্রান্তে তা অন্যদিকে রূপ নেয়।

মনে রাখতে হবে, জঙ্গে জামালের এই ঘটনা মুশাজারাতে সাহাবার অন্তর্ভুক্ত। সাহাবীদের মধ্যকার বিভিন্ন ইখতিলাফের ঘটনার জন্য আদব রক্ষার ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইমামগণ এই পরিভাষা ব্যবহার করেন। “মুশাজারাহ” এর অর্থ হলো—গাছের এক ডালের সাথে অন্য ডালের সংঘর্ষ হওয়া। বাতাসের কারণে গাছের শাখা-প্রশাখার সংঘর্ষ হওয়াটা যেমন স্বাভাবিক, তেমনি ইজতিহাদের কারণে সাহাবীদের মধ্যে সংঘটিত হওয়া বিষয়াদিও স্বাভাবিক ছিল। ইমাম কুরতুবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন- “আমরা সাহাবীদের মধ্যে ঘটা মুশাজারাত নিয়ে বাড়াবাড়ি করবো না। তারা সকলেই আমাদের ইমাম। আমরা উত্তমভাবে তাদের আলোচনা করবো”। (তাফসীরে কুরতুবী- ৩২১/১৬) কিন্তু, ইসলামের এই সময়কাল থেকেই রাফিজী, নাসিবীসহ ইত্যাদি ভ্রান্ত দলের উৎপত্তি হয়। ফলে, মুশাজারাতের ঘটনাগুলো নিয়ে ভুরি-ভুরি মিথ্যা, ভুয়া ও বানোয়াট ইতিহাস রচিত হয়। যেখানে কেউ কেউ উম্মাহাতুল মুমিনীন-সহ জলীলুল কদর সাহাবীদের মান ক্ষুণ্ন করে মনগড়া ইতিহাস বানিয়েছে। কেউ কেউ তা ভরে রেখেছে আহলে বাইতের বিদ্বেষ দিয়ে। যার পরিণাম আজও আমাদের সয়ে যেতে হচ্ছে। এসব অনির্ভরযোগ্য ইতিহাসের উপর ভর করে প্রাচ্যবিদরা আজ আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর সাহাবীদের পবিত্র চরিত্র কলঙ্কিত করার মাধ্যমে ইসলামকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এজন্য সাহাবীদের সম্পর্কে আগে আমাদের আকীদা ঠিক করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহর রাসূল ﷺ -এর প্রিয় সাহাবারা সবাই মাগফূর। তারা মাসুম নন, তবে মাহফুয। আমরা তাদের সকলকে ভালোবাসি এবং তাদের সম্পর্কে ভালো ছাড়া খারাপ কিছু বলি না। ইমাম আবূ জাফর তাহাবী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা আসহাবে রাসূলকে ভালোবাসবো। তাঁদের কারও মহব্বতের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করবো না, তাদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদ করবো না। যারা তাদেরকে ঘৃণা করে আমরাও তাদেরকে ঘৃণা করবো। শুধু তাদের ভালোদিকগুলোই আলোচনা করবো। তাদেরকে মহব্বত করা দ্বীন, ঈমান ও ইহসানের অংশ; তাদেরকে ঘৃণা করা হলো কুফরী, মুনাফিকী ও অবাধ্যতা। (শরহে আকীদাতুত তাহাবী-বাবিরতী- ১২৭/১২৮)

যখন কোনো একটি বিষয়ে একজনের আকীদা সঠিক হয়ে যায় তখন তার আকীদাটি অন্য সব বাতিল মত-পথকে পার্থক্য করার কাজ করে। ইতিহাস আমাদের জানা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু ইতিহাস জানার পথ বেশ কণ্টকাকীর্ণ। এখানে প্রতিটি পদে পদে ফাঁদ পাতা থাকে। তাই যেই ইতিহাস- কুরআন-সুন্নাহ ও ইজমালব্দ আকীদার বিরোধী হবে তা সরাসরি পরিত্যাজ্য।

 

ফেইসবুকে আমরা...