Logo
মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জায়গা বিক্রি করে মসজিদের কাজে লাগানো যাবে কি না?
জবাবদাতা: মাওলানা আবূ নছর মোহাম্মদ কুতুবুজ্জামান তাফাদার
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

প্রশ্ন: মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জায়গা বিক্রি করে মসজিদের কাজে লাগানো যাবে কি না? যদি কেউ মসজিদের নামে ওয়াকফকৃত জায়গা বিক্রি করে মসজিদ নতুন করে তৈরির কাজে লাগায় সেই মসজিদে নামায আদায়ের হুকুম কী?
জবাব: ওয়াকফ এর শর্তাবলীসহ বিশুদ্ধ হলে ওয়াকফকৃত জায়গা-জমি পরিবর্তন কিংবা বিক্রয় নাজায়িয। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজনে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গা মসজিদ পরিচালনা কমিটি মসজিদের স্বার্থে রদবদল কিংবা বিক্রয় করলে কোন কোন ফকীহগণ ইহাকে বৈধ বলেছেন। তাই বিশেষ কোন প্রয়োজন ব্যতীত এমনটা করা অনুচিত। আর বিশেষ কারণে ওয়াকফকৃত জায়গা রদবদল কিংবা বিক্রয় করলে এর পরিবর্তে অনুরূপ জমি পরবর্তিতে মসজিদের জন্য ওয়াকফ করে রাখা উচিত বলে কোন কোন ফকীহ রায় দিয়েছেন।
কোন মসজিদ কমিটি দ্বারা এরকম হয়ে থাকলে সে মসজিদে নামায আদায়ে মুসল্লিগণের জন্যে কোন অসুবিধার কারণ নেই। মসজিদ কমিটি মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জমির বিষয়ে মসজিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নয় কিংবা শরীআত অনুমোদিত নয় এমন কোন হস্তক্ষেপ করে থাকলে সে বিষয়ের দায়ভার তাদের উপর বর্তাবে। এ সম্পর্কে ‘বিদায়াতুল মুবতাদী’ কিতাবে লিখেছেন-
وَإِذ صَحَّ الْوَقْف لم يجز بَيْعه وَلَا تَمْلِيكه إِلَّا أَن يكون مشَاعا عِنْد أبي يُوسُف رَحمَه الله فيطلب الشَّرِيك الْقِسْمَة فَيصح مقاسمته
-ওয়াকফ শুদ্ধ হলে তা বিক্রয় কিংবা মালিকানাধীন করে দেওয়া বৈধ নয়। তবে যদি তাতে অন্যান্যের অংশীদার হওয়া সাব্যস্ত থাকে, তাহলে ইমাম আবূ ইউসুফ (র.) এর মতে অংশীদারগণের কারো অংশ সে দাবি করলে তা যথাযথ বণ্টনপূর্বক মিমাংশা করা শুদ্ধ হবে। (বিদায়াতুল মুবতাদী, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৯; আল হিদায়াহ, ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮)

প্রশ্ন: শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময় ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ও গবেষণায় অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে থিসিস ও অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে বিদেশে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থী, যেমন—বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা, পড়াশোনার পাশাপাশি আয়-রোজগারে ব্যস্ত থাকার কারণে নিজেরা এই কাজগুলো যথাযথভাবে করতে পারেন না। ফলে তারা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কিছু এজেন্সি বা ব্যক্তির সহায়তা নেন, যারা তাদের হয়ে থিসিস বা অ্যাসাইনমেন্ট লিখে দেয়। এক্ষেত্রে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে জানতে চাই: ১. এভাবে অ্যাসাইনমেন্ট বা থিসিস করিয়ে নেওয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য কতটুকু ন্যায়সঙ্গত? ২. টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে থিসিস বা অ্যাসাইনমেন্ট লেখা কি ইসলামে বৈধ? ৩. এটি কি হারাম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত হবে?
ফেইসবুকে আমরা...