প্রশ্ন: জুমুআ বা ঈদের দিনের প্রথম খুতবার পর মিম্বরে বসে ইমাম সাহেব কি পড়েন? জানতে চাই।
জবাব: ইমাম সাহেব জুমুআর দু’খুতবাহ এর মধ্যবর্তী মিম্বরে যে বৈঠক করেন, ইহা সুন্নাত। এ সম্পর্কে সহীহ বুখারী শরীফে বর্ণিত হাদীসে এসেছে-
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ يَقْعُدُ بَيْنَهُمَا
-হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ e দু’টি খুতবাহ দিতেন এবং এতদুভয়ের মধ্যে বৈঠক করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস-৯২৮)
সুনান আবূ দাউদের এক বর্ণনায় এসেছে-
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: “كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ خُطْبَتَيْنِ، كَانَ يَجْلِسُ إِذَا صَعِدَ الْمِنْبَرَ حَتَّى يَفْرَغَ – أُرَاهُ قَالَ: الْمُؤَذِّنُ – ثُمَّ يَقُومُ، فَيَخْطُبُ، ثُمَّ يَجْلِسُ فَلَا يَتَكَلَّمُ، ثُمَّ يَقُومُ فَيَخْطُبُ “
-হযরত ইবন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ e দুটি খুতবাহ দিতেন। মিম্বরে আরোহন করার পর মুআযযিনের আযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বসতেন। অতপর দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিয়ে বসতেন এবং কোন কথা বলতেন না। অতপর দাঁড়িয়ে (দ্বিতীয়) খুতবাহ দিতেন। (সুনান আবূ দাউদ, হাদীস নং ১০৯২)
তাই রাসূলুল্লাহ সা. এর অনুসরণে ইমাম সাহেবগণের জন্যে দুই খুতবার মধ্যে বসা সুন্নাত।
যদিও উক্ত বৈঠকে রাসূলুল্লাহ সা. স্বশব্দে কোন কিছু পড়তেন বলে হাদীসে উল্লেখিত হয়নি। অবশ্য জুমুআর দিনে দুআ কবূলের উত্তম সময়ের মধ্যে উভয় খুতবাহ চলাকালীন সময় কিংবা এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সময় বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে। যেমন হাদীস শরীফে এ সম্পর্কে এসেছে-
হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসূল সা. আমাদের সঙ্গে একদিন শুক্রবারের ফযীলত ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন- জুমুআর দিনে এমন একটি সময় আছে, সে সময়ে যদি কোনো মুসলিম নামায আদায়রত অবস্থায় থাকে এবং আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ অবশ্যই তার সে চাহিদা বা দুআ কবূল করবেন এবং এরপর রাসূল সা. তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করে সময়টির সংক্ষিপ্ততার ইঙ্গিত দেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস-৬৪০০)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূল সা. বলেছেন- ইমামের মিম্বরে বসার সময় থেকে নামায শেষ করা পর্যন্ত সময়টিই সেই বিশেষ মুহূর্ত। (সহীহ মুসলিম, ইবন খুজাইমা, বাইহাকী)
অবশ্য উক্ত সময়ের ব্যাখ্যা হিসেবে অন্যান্য সময়ের কথাও হাদীসের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে।
তাই উক্ত বসা অবস্থায় খতীব কিংবা মুসল্লির যে কেউ নিরবে মনে মনে যে কোন দুআ পড়তে কোন অসুবিধা নেই।
উল্লেখ্য যে, উক্ত বৈঠক মূলত: কোন দুআ পাঠের উদ্দেশ্যে নয়। দুই খুতবাহকে পৃথক করার জন্য ও ইমামের প্রশান্তি লাভের উদ্দেশ্যে ইহা শরীআতে প্রণীত হয়েছে। এ সম্পর্কে ‘ইরশাদুস সারী শরহে সহীহুল বুখারী’ কিতাবের ২য় খণ্ডের ১৮৬ পৃষ্টায় লিখেছেন:
انما قالوا بسنيتها للفصل بين الخطبتين
(হানাফী, মালিকী ও হাম্বলী মাযহাবের) মনিষীগণের মতে খুতবাহদ্বয়ের মধ্যবর্তী বৈঠক সুন্নাত। এর কারণ হচ্ছে, উভয় খুতবাহকে পৃথককরণ।
‘ফাতহুল বারী শরহে সহীহুল বুখারী’ কিতাবের ৬ষ্ঠ খণ্ডের ২২৮ পৃষ্ঠায় লিখেছেন:
وقال الكرماني: وفى الحديث ان خطبة الجمعة خطبتان وفيه الجلوس بينهما لاستراحة الخطيب ونحوها
আল্লামা কিরমানী (র.) বলেন, বর্ণিত হাদীসের ভাষ্যে জুমুআর নামাযে দুটি খুতবাহ হওয়া সাব্যস্ত এবং খতীবের প্রশান্তি লাভের উদ্দেশ্যে ও অনুরূপ কারণে এতদুভয়ের মধ্যবর্তী বৈঠক প্রমাণিত।

