আল্লাহ তাআলা মুসলিম জাতির জন্য অসংখ্য নিআমত দান করেছেন। তন্মধ্যে কুরবানী গুরুত্বপূর্ণ একটি নিআমত। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তে নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কোনো পশু জবাই করাকে কুরবানী (الْأُضْحِيَّة) বলা হয়। ঈদুল আযহায় পশু কুরবানী করে বান্দা তার রবের হুকুম পালন করে, রবকে খুশি করার চেষ্টা করে। আল্লাহ তা‘আলা কুরবানীর পশুর গোশত বা চামড়া কিছুই নিয়ে যান না, সবটুকুই বান্দাদের উপভোগের জন্য হালাল করেছেন। আল্লাহ বলেন,
لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ
-আল্লাহর কাছে কখনোও ওগুলির (কুরবানীর পশুর) গোশত পৌঁছে না এবং রক্তও না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।[1]
১. কুরবানীর ফদীলত
কুরবানীর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করেন। এতে তার তাকওয়ার একটা পরীক্ষা হয়ে যায়। এই ত্যাগের ফযীলত অপরিসীম। নিম্নে দুটো হাদীস উল্লেখ করা হলো। আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ e বলেছেন,
مَا عَمِلَ آدَمِيٌّ مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ أَحَبَّ إِلَى اللهِ مِنْ إِهْرَاقِ الدَّمِ، إِنَّهُ لَيَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُونِهَا وَأَشْعَارِهَا وَأَظْلَافِهَا، وَإِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللهِ بِمَكَانٍ قَبْلَ أَنْ يَقَعَ مِنَ الْأَرْضِ، فَطِيبُوا بِهَا نَفْسًا
-“কুরবানীর দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহ তা’আলার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় হলো রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী করা)। কিয়ামতের দিন তা নিজের শিং, পশম ও ক্ষুরসহ হাযির হবে। তার (কুরবানীর পশুর) রক্ত যমিনে পড়ার আগেই আল্লাহ্ তা’আলার নিকটে এক বিশেষ মর্যাদায় পৌছে যায়। অতএব তোমরা আনন্দিত মনে কুরবানী কর।”[2]
যায়দ ইবনু আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا هَذِهِ الأَضَاحِيُّ قَالَ “سُنَّةُ أَبِيكُمْ إِبْرَاهِيمَ“. قَالُوا فَمَا لَنَا فِيهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ “ بِكُلِّ شَعَرَةٍ حَسَنَةٌ “ . قَالُوا فَالصُّوفُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ “ بِكُلِّ شَعَرَةٍ مِنَ الصُّوفِ حَسَنَةٌ
-রাসূলুল্লাহ e-এর সাহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই যে কুরবানী, এর হাকীকত বা বাস্তবতা কী?’ রাসূলুল্লাহ e উত্তরে বললেন, ‘এটি তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নাত।’ সাহাবীগণ পুনরায় আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এই কুরবানী করলে আমাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে?’ রাসূলুল্লাহ e বললেন, ‘পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে তোমাদের জন্য একটি করে সওয়াব রয়েছে।’ সাহাবীগণ তখন জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! ভেড়া বা উটের পশমের (সূফ) ক্ষেত্রেও কি একই প্রতিদান পাওয়া যাবে?’ (কারণ এ জাতীয় পশুর পশম অনেক ঘন ও বেশি থাকে)।উত্তরে রাসূলুল্লাহ e নিশ্চিত করে বললেন, ‘হ্যাঁ, লোমশ পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকী রয়েছে’।[3]
১. কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার দলীল
সামর্থ্যবান মুসলিমদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। সামর্থ্যবান হওয়ার অর্থ হলো জীবনধারণের মৌলিক প্রয়োজন ও ঋণ বাদ দিয়ে নিসাবপরিমাণ সম্পদ অতিরিক্ত থাকা। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন মুসলিম, যারা ১০ যিলহজ্ব ফজর থেকে ১২ যিলহজ্ব সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিসাবপরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন, তাদের ওপর কুরবানী করা ওয়াজিব।
কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ -অতএব আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন।[4]
রাসূলুল্লাহ e-এর বিভিন্ন হাদীস থেকেও এর গুরুত্ব ও আবশ্যকতা প্রমাণিত হয়। মিখনাফ ইবনু সুলাইম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كُنَّا وُقُوفًا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِعَرَفَاتٍ فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ عَلَى كُلِّ أَهْلِ بَيْتٍ فِي كُلِّ عَامٍ أُضْحِيَّةٌ
-আমরা নবী কারীম e-এর সাথে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছিলাম। তখন আমি তাঁকে বলতে শুনেছি: ‘হে লোকসকল! প্রত্যেক পরিবারের ওপর প্রতি বছর কুরবানী করা আবশ্যক’।[5]
কুরবানী সামর্থ্যবানদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা আবূ হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এই হাদীসটি থেকে বোঝা যায়। রাসূলুল্লাহ eবলেছেন:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: مَنْ كَانَ لَهُ سَعَةٌ، وَلَمْ يُضَحِّ، فَلَا يَقْرَبَنَّ مُصَلَّانَا
-“সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কুরবানী করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের ধারে-কাছেও না আসে।”[6]
এই হাদীসে সামর্থ্যবান ব্যক্তিকে কুরবানী না করার কারণে ঈদগাহে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। ফকীহগণের মতে, এটি একটি কঠোর সতর্কবাণী; যা প্রমাণ করে যে কুরবানী করা ওয়াজিব। কারণ ওয়াজিব ত্যাগ করা ছাড়া অন্য কোনো সাধারণ কারণে এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয় না।[7]
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী e বলেছেন,
مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ الصَّلَاةِ فَلْيُعِدْ
-“সালাতের আগে যে জবাই করবে, তাকে আবার জবাই (কুরবানী) করতে হবে।”[8]কুরবানী ওয়াজিব হওয়ারসপক্ষে একটি জোরালো প্রমাণ এই হাদীস থেকে পাওয়া যায়। ঈদের নামায আদায় করার আগেই পশু জবাইকরার কারণে রাসূলুল্লাহ e পুনরায় কুরবানী জবাই করার নির্দেশ দিয়েছেন। কুরবানী যদি ওয়াজিব না হতো, তবে তা সঠিক সময়ে আদায় না হওয়ার কারণে পুনরায় আদায় করার নির্দেশ আসত না।[9] যেহেতু পশুটি ভুল সময়ে (নামাযের আগে) জবাই হওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ e তা পুনরায় আদায়ের হুকুম দিয়েছেন, এতেই সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে কুরবানী একটি অত্যাবশ্যকীয় বা ওয়াজিব ইবাদত।
২. যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব
কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য চারটি শর্ত রয়েছে: ১. মুসলিম হওয়া, ২. মুকীম বা নিজ আবাসে অবস্থান করা; মুসাফির না হওয়া, ৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া, যার ওপর সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয় (সম্পদের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া এখানে শর্ত নয়), ৪. স্বাধীন হওয়া। কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য পুরুষ হওয়া শর্ত নয়। সুতরাং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে নারীর ওপরও কুরবানী করা ওয়াজিব।[10]
কুরবানীর নিসাবনির্ধারণের ক্ষেত্রে নগদ টাকা, সোনা-রূপা ও অলঙ্কারের পাশাপাশি প্রয়োজন-অতিরিক্ত জমিও হিসাবে আসবে। এছাড়া বসবাসের প্রয়োজন নেই এমন বাড়ি, ব্যবসায়িক পণ্য এবং ঘরে থাকা অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও নিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।শরী‘আহ নির্ধারিত নিসাবের পরিমাণ হলোসাড়ে সাত ভরি সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন ভরিরূপা।টাকা-পয়সা বা অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রে এর মূল্যমান যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার বাজারদরের সমপরিমাণ হয়, তবেই তাকে নিসাব ধরা হবে।যদি কারো কাছে সামান্য কিছু স্বর্ণালঙ্কার এবং সামান্য কিছু নগদ টাকা থাকে; যা পৃথকভাবে নিসাব নয়, কিন্তু একত্রে করলে সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপার বাজারমূল্যের সমান হয়ে যায়, তবে তাকেও কুরবানী দিতে হবে।
কুরবানীর পুরো সময়জুড়ে (১০ থেকে ১২ই যিলহজ) সচ্ছল থাকা জরুরি নয়। যদি সময়ের শুরুতে কেউ দরিদ্র থাকে এবং শেষ সময়ে সে সচ্ছল হয়ে যায়, তবে তার ওপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।[11] প্রত্যেক স্বাধীন, মুসলিম ও মুকীম ব্যক্তির ওপর কুরবানী ওয়াজিব, চাই তিনি শহরে বসবাস করুন কিংবা গ্রামে অথবা মরু অঞ্চলে। সফর অবস্থায় থাকা হাজীদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। তবে মক্কাবাসীগণ যদি হজ্জ করেন, তবুও তাদের ওপর কুরবানী ওয়াজিব থাকবে।[12]
যদি কেউ কুরবানীরমানত করে, তবে ধনী হোক বা দরিদ্র—সবার ওপরই তা পূরণ করা ওয়াজিব হয়ে যায়। যেমন কেউ বলল, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমি একটি বকরী বা উট কুরবানী করার মানত করলাম’ অথবা নির্দিষ্ট কোনো পশুকে দেখিয়ে বলল, ‘আমি এই পশুটি কুরবানী করার মানত করলাম।’এমনকি কোনো দরিদ্র ব্যক্তি যদি মানত করার সময় অভাবী থাকে, কিন্তু কুরবানীর দিনগুলোতে সে সচ্ছল হয়ে যায়, তবে তাকে দুটো কুরবানী করতে হবে। একটি তার মানত পূর্ণ করার জন্য, আর অন্যটি শরীয়তের সাধারণ বিধান অনুযায়ী ধনী হওয়ার কারণে।[13]
যদি কোনো দরিদ্র ব্যক্তি কুরবানী করার নিয়তে কোনো পশু কেনে, তবে সেই পশুটি কুরবানী করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়।[14]
যদি কুরবানীর পশুটি মারা যায়, তবে ধনী ব্যক্তিকে অন্য একটি পশু সংগ্রহ করতে হবে; কিন্তু দরিদ্রের ওপর এটি আবশ্যক নয়। এমনকি পশুটি যদি নির্দিষ্ট করে মানত করা হয়ে থাকে এবং সেটি মারা যায় বা হারিয়ে যায়, তবে মানতের বাধ্যবাধকতা বাতিল হয়ে যায়। তবে ধনী ব্যক্তির ক্ষেত্রে মানত বাতিল হলেও শরী‘আহর মূল বিধান অনুযায়ী তার ওপর কুরবানী করার যে আবশ্যকতা (ওয়াজিব) রয়েছে, তা পালন করতে হবে। অন্যদিকে দরিদ্র ব্যক্তির ওপর নতুন করে আর কিছুই বর্তাবে না।[15]
যদি পশুটি হারিয়ে যায় বা চুরি হয়ে যায় এবং এর পরিবর্তে অন্য একটি পশু কেনা হয়, এরপর প্রথম পশুটি ফিরে পাওয়া যায়; তবে ধনী ব্যক্তি যেকোনো একটি কুরবানী করবেন। যদি তিনি প্রথমটি কুরবানী করেন তবে তা যথেষ্ট হবে, এমনকি সেটির মূল্য দ্বিতীয়টির চেয়ে কম হলেও। আর যদি তিনি দ্বিতীয়টি কুরবানী করেন এবং সেটির মূল্য প্রথমটির চেয়ে কম হয়, তবে অতিরিক্ত মূল্যটুকু সদকা করে দিতে হবে। অবশ্য যদি তিনি দুটোই কুরবানী করেন, তবে আর সদকা করতে হবে না। দরিদ্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিধান হলো, তাকে উভয় পশুই কুরবানী করতে হবে।[16]
৩. কুরবানীর সময়সীমা
কুরবানীর নির্ধারিত সময় হলো তিন দিন অর্থাৎ যিলহাজ্জ মাসের ১০, ১১ এবং ১২ তারিখ। ১২ই যিলহাজ্জ সূর্যাস্তের সাথে সাথে কুরবানীর সময় শেষ হয়ে যায়; এর পরে আর কুরবানী করা বৈধ নয়।[17] কুরবানীর এই তিন দিনের মধ্যে প্রথম দিন জবাই করা সবচেয়ে উত্তম, এরপর দ্বিতীয় দিন এবং সবশেষে তৃতীয় দিন।[18]
ঈদের নামায শেষে কুরবানী আদায় করতে হয়। জুনদাব (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম e ঈদের দিন সালাত আদায় করলেন, এরপর খুতবা দিলেন এবং সবশেষে পশু জবাই করলেন। তিনি ইরশাদ করেছেন:
مَنْ ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلْيَذْبَحْ أُخْرَى مَكَانَهَا، وَمَنْ لَمْ يَذْبَحْ فَلْيَذْبَحْ بِاسْمِ اللهِ
-“যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের আগেই জবাই করেছে, সে যেন তার পরিবর্তে আরেকটি পশু কুরবানী করে। আর যে এখনো জবাই করেনি, সে যেন আল্লাহর নামে জবাই করে।”[19]
বারা‘ ইবনু আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
خَطَبَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْأَضْحَى بَعْدَ الصَّلَاةِ فَقَالَ: مَنْ صَلَّى صَلَاتَنَا، وَنَسَكَ نُسُكَنَا، فَقَدْ أَصَابَ النُّسُكَ، وَمَنْ نَسَكَ قَبْلَ الصَّلَاةِ، فَإِنَّهُ قَبْلَ الصَّلَاةِ وَلَا نُسُكَ لَهُ. فَقَالَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ، خَالُ الْبَرَاءِ: يَا رَسُولَ اللهِ، فَإِنِّي نَسَكْتُ شَاتِي قَبْلَ الصَّلَاةِ، وَعَرَفْتُ أَنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ، وَأَحْبَبْتُ أَنْ تَكُونَ شَاتِي أَوَّلَ مَا يُذْبَحُ فِي بَيْتِي، فَذَبَحْتُ شَاتِي، وَتَغَدَّيْتُ قَبْلَ أَنْ آتِيَ الصَّلَاةَ، قَالَ: شَاتُكَ شَاةُ لَحْمٍ. قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، فَإِنَّ عِنْدَنَا عَنَاقًا لَنَا جَذَعَةً هِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ شَاتَيْنِ، أَفَتَجْزِي عَنِّي؟ قَالَ: نَعَمْ، وَلَنْ تَجْزِيَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ
-“নবী e ঈদুল আযহার দিন নামাযের পর আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দান করেন। খুতবায় বলেন, যে আমাদের মত নামাযআদায় করল এবং আমাদের মত কুরবানী করল, সে কুরবানীর রীতিনীতি যথাযথ পালন করল। আর যে নামাযেরআগে কুরবানী করল, তা নামাযেরআগে হয়ে গেল, কিন্তু এতে তার কুরবানী হবে না। বারা‘ এর মামা আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রা.) তখন বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জানামতে আজকের দিনটি পানাহারের দিন। তাই আমি পছন্দ করলাম যে, আমার ঘরে সর্বপ্রথম জবাই করা হোক আমার বকরীই। তাই আমি আমার বকরীটি জবাই করেছি এবং নামাযে আসার পূর্বে তা দিয়ে নাশতাও করেছি। নবী e বললেন, তোমার বকরীটি মাংসের উদ্দেশ্যে জবাই করা হয়েছে। তখন তিনি আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের কাছে এমন একটি ছয় মাসের মেষ শাবক আছে, যা আমার কাছে দু’টি বকরীর চাইতেও পছন্দীয়। এটি (কুরবানী দিলে) কি আমার জন্য যথেষ্ট হবে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবে তুমি ব্যতীত অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না।”[20]
কুরবানীর সময়ের শুরু হলো ঈদের নামাযের পরঅর্থাৎ ঈদের সবচেয়ে প্রথম নামাযটি সম্পন্ন হওয়ার পর। এমনকি যদি তা খুতবা প্রদানের আগে হয় (তবুও তা জায়েয হবে), তবে খুতবা শেষ হওয়ার পর জবাই করা অধিক পছন্দনীয়। আর যদি কোনো ওজরের কারণে ঈদের নামায আদায় করা না হয়, তবে নামাযের ওয়াক্ত পার হওয়ার পর জবাই করা যাবে। কুরবানীর দ্বিতীয় দিন ও তার পরবর্তী দিনে নামাযের আগেই জবাই করা জায়েয; কারণ পরের দিনের নামায ‘আদা’ হিসেবে নয়, বরং ‘কাযা’ হিসেবে গণ্য হয়।[21]
কুরবানী করার ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজের অবস্থান ধর্তব্য নয়; বরংপশুটি যেখানে জবাই করা হবে,সেখানকার ঈদের নামায শেষ হওয়াটা ধর্তব্য। যদি কোনো ব্যক্তি এক শহরে অবস্থান করেন এবং অন্য কোনো শহরে তাঁর পক্ষ থেকেকুরবানীর ব্যবস্থা করেন; তবে এক্ষেত্রে যেখানেকুরবানীকরা হচ্ছে, সেই স্থানের সময়ের প্রতি লক্ষ্য করা হবে। সুতরাং যে শহরে তাঁর পক্ষ থেকেকুরবানীকরা হচ্ছে, সেখানকার ইমামের ঈদের নামায শেষ করার পর তাঁর পক্ষ থেকে পশু জবাই করতে হবে।[22]
কুরবানীর সময়সীমার মধ্যবর্তী রাতগুলোতে পশু জবাই করা জায়েয। তবে রাতের অন্ধকারে জবাই করা মাকরূহ; কারণ অন্ধকারের দরুন জবাই করার সময় ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।[23]এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, কুরবানীর সময় কেবল ১০ ও ১১ তারিখের দিবাগত রাত দুটোই অন্তর্ভুক্ত, ১০ তারিখের আগের রাত বা ১২ তারিখের পরের রাত এর অন্তর্ভুক্ত নয়।[24]
৪. কুরবানীর পশুর প্রকার ও বয়স
কুরবানীর পশু অবশ্যই তিনটি নির্দিষ্ট প্রজাতির যেকোনো একটি হতে হবে: উট, গরু বা ছাগল।এই প্রজাতিগুলোর মধ্যে পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গের পশু দিয়ে কুরবানী করা জায়েয।[25] খাসি করা পশুর কুরবানী জায়েয।[26] উভয়লিঙ্গ (হিজড়া) পশুকুরবানী করা জায়েয নয়।[27] মহিষ গরুর প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত এবং ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।
বন্যপ্রাণী (যেমন হরিণ, বনগরু) দিয়ে কুরবানী করা বৈধ নয়। যদি কোনো পশু গৃহপালিত এবং বন্য পশুর সংকর হয়, তবে তার বিধান নির্ধারিত হবে মায়ের ধরণ অনুযায়ী। কারণ শাবক সবসময় মায়ের অনুগামী হয়। যদি মা গৃহপালিত হয়, তবে সেই সন্তান দিয়ে কুরবানী করা যাবে; অন্যথায় নয়।[28]
সব ধরণের পশুর ক্ষেত্রেই সেটিনির্দিষ্ট বয়সে উপনীত পূর্ণাঙ্গ পশু হতে হবে। ছাগল বা ভেড়ার ক্ষেত্রে এর বয়স হতে হবে কমপক্ষে এক বছর, গরুর ক্ষেত্রে দুই বছর এবং উটের ক্ষেত্রে পূর্ণ পাঁচ বছর।[29]
ছয় মাস বয়সী হৃষ্টপুষ্ট ভেড়া(জাযা‘) দিয়ে কুরবানী করা জায়েয। এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ e-এর বিশেষ অনুমতি রয়েছে। তিনি বলেন,
نِعْمَ الْأُضْحِيَّةُ الْجَذَعُ مِنَ الضَّأْنِ
-“কুরবানীর জন্য ভেড়ারজাযা‘ (কমপক্ষে ছয় মাস বয়সী হৃষ্টপুষ্ট বাচ্চা) কতই না চমৎকার!”[30]
কিন্তুএক বছরের কম বয়সী ছাগল দিয়ে কুরবানী করা জায়েয নয়।[31]জাবের (রা.) থেকেবর্ণিত, রাসূলুল্লাহ e বলেছেন,
لَا تَذْبَحُوا إِلَّا مُسِنَّةً، إِلَّا أَنْ يَعْسُرَ عَلَيْكُمْ فَتَذْبَحُوا جَذَعَةً مِنَ الضَّأْنِ
-(কুরবানীর জন্য) মুসিন্নাহ ব্যতীত যবাই করো না। যদি সম্ভব না হয় তবে ছয়মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা।[32] আল-মুসিন্নাহ হলো উট, গরু এবং ছাগল—প্রত্যেকটির মধ্য থেকে ‘ছানিয়্যাহ’ (নির্দিষ্ট বয়সের পশু) এবং তার চেয়ে বেশি বয়সের পশু। আর এটি এই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা যে, ভেড়া বা দুম্বা (দা’ন) ব্যতীত অন্য কোনো পশু থেকে জাযা (অল্প বয়সী পশু) কোনো অবস্থাতেই জায়েয হবে না; আর এই বিষয়টি সর্বসম্মত।[33]
হৃষ্টপুষ্ট পশু কুরবানী করা উত্তম।[34] উম্মুল মু’মিনীন আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে,
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ضَحَّى بِكَبْشَيْنِ سَمِينَيْنِ عَظِيمَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ مُوْجَيَيْنِ
-রাসূলুল্লাহ e দুটো হৃষ্টপুষ্ট, বিশালাকৃতি, সাদা-কালো রঙের, শিংযুক্ত এবং খাসি করা দুম্বা কুরবানী করেছেন।[35]
৫. ত্রুটিযুক্ত পশুর কুরবানী
জন্মগতভাবে শিংহীন পশু দিয়ে কুরবানী করা জায়েয।[36]একইভাবে যে পশুর শিংয়ের কিছু অংশ ভেঙে গেছে বা অন্য কোনোভাবে পড়ে গেছে, তা দিয়েও কুরবানী করা বৈধ।[37] কিন্তু শিং ভাঙার গভীরতা যদি পশুর মগজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে তা দিয়ে কুরবানী করা জায়েয হবে না।[38]একইভাবে শিং ভাঙার ক্ষত যদি হাড়ের মূল বা সংযোগস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে তা দিয়ে কুরবানী আদায় হবে না।[39]
উন্মাদ পশুর কুরবানী জায়েয। তবে উন্মাদ পশুর ক্ষেত্রে শর্ত হলো, উন্মাদনা যেন এমন পর্যায়ে না যায় যা তাকে মাঠে চরে খেতে বাধা দেয়। চর্মরোগগ্রস্ত পশু যদি হৃষ্টপুষ্ট হয়, তবে তার কুরবানী বৈধ; কিন্তু চর্মরোগের কারণে পশুটি জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেলে তা বৈধ হবে না, কারণ এতে মাংসের মান নষ্ট হয়।[40]
অন্ধ, একচোখা এবং এমন জীর্ণশীর্ণ পশুযার হাড়ে মজ্জাটুকুও নেই—এগুলো কুরবানী করা জায়েয নয়। একইভাবে এমন খোঁড়া পশু, যা জবাই করার স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না এবং স্পষ্ট অসুস্থ পশুর কুরবানীও বৈধ নয়।[41] বারা ইবনু আযিব (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ e বলেছেন,
لَا يُضَحَّى بِالْعَرْجَاءِ بَيِّنٌ ظَلْعُهَا، وَلَا بِالْعَوْرَاءِ بَيِّنٌ عَوَرُهَا، وَلَا بِالْمَرِيضَةِ بَيِّنٌ مَرَضُهَا، وَلَا بِالْعَجْفَاءِ الَّتِي لَا تَنْقَى
-খোড়া জন্তু যার খোড়ামী স্পষ্টভাবে প্রকাশিত; অন্ধ পশু যার অন্ধত্ব সম্পূর্ণভাবে প্রকাশিত; রুগ্ন পশু যার রোগ দৃশ্যমান এবং ক্ষীণকায় পশু যার হাড়ের মজ্জা পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে- তা দ্বারা কুরবানী করা যাবে না।[42]
কান, লেজ, অণ্ডকোষ অংশ যদি অর্ধেকের বেশি কাটা যায় অথবা চোখের দৃষ্টির অর্ধেকের বেশি নষ্ট হয়ে যায়, তবে সেই পশু দিয়ে কুরবানী হবে না।[43] আলী (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
أَمَرَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالْأُذُنَ، وَأَنْ لَا نُضَحِّيَ بِمُقَابَلَةٍ وَلَا مُدَابَرَةٍ وَلَا شَرْقَاءَ وَلَا خَرْقَاءَ
-রাসূলুল্লাহ e আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা যেন কুরবানীর পশুর চোখ-কান ভালো করে দেখে নেই। তিনি আমাদের আরো নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা যেন এমন পশু দিয়ে কুরবানী না করি, যার কানের অগ্রভাগ বা গোড়ার অংশ কাটা; যার কান ছিদ্র করে দেয়া হয়েছে বা যার কান লম্বালম্বিভাবে ফেড়ে দেয়া হয়েছে।[44]
দাঁতহীন পশু দিয়েও কুরবানী হবে না, তবে অধিকাংশ দাঁত অবশিষ্ট থাকলে বা ঘাস চিবিয়ে খেতে পারলে তা জায়েয।[45]
জন্মগতভাবে কান নেই এমন পশুর কুরবানী বৈধ নয়, তবে জন্মগতভাবে কান ছোট হলে সমস্যা নেই। এছাড়া ওলানের বাঁট কাটা বা ওলান শুকিয়ে যাওয়া পশু, নাক কাটা পশু এবং কৃত্রিমভাবে দুধ শুকিয়ে ফেলা হয়েছে এমন পশুর কুরবানী করা জায়েয নয়। জন্মগতভাবে লেজ নেই এমন পশুর কুরবানীও বৈধ হবে না। কেবল অপবিত্র বস্তুভক্ষণকারী পশু, যা অন্য কিছুই খায় না; তাও কুরবানী করা জায়েয নয়।[46]
যে পশুর পুরুষাঙ্গ কর্তিত, সঙ্গমে অক্ষম, তা কুরবানী করা জায়েয।কাশিতে আক্রান্ত পশু, বার্ধক্যজনিত বন্ধ্যা পশু, দাগ দেওয়া বা চিহ্নিত পশুকুরবানী করা জায়েয। বকরী বা দুম্বা জাতীয় পশুর যদি জিহবা না থাকে, তবে সেটি দিয়েও কুরবানী করা বৈধ।[47] তবে গরু জাতীয় পশুর জিহবা না থাকলে বা জিহবা কাটা থাকলে সেটি দিয়ে কুরবানী জায়েয হবে না।[48]
কোনো ব্যক্তি যদি কুরবানীর জন্য একটি সুস্থ পশু ক্রয় করেন, কিন্তু জবাই করার আগে তাতে এমন কোনো ত্রুটি দেখা দেয় যা কুরবানী শুদ্ধ হওয়ার পথে বাধা (যেমন ইতিপূর্বে বর্ণিত ত্রুটিসমূহ), তবে এর বিধান ক্রেতার আর্থিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। ক্রেতা যদিধনীহন, তবে তার ওপর ওয়াজিব হলো ঐ পশুটির পরিবর্তে অন্য একটি সুস্থ পশু কুরবানী করা। আর ক্রেতা যদিদরিদ্রহন, তবে ঐ ত্রুটিযুক্ত পশুটি কুরবানী করলেই তার জন্য যথেষ্ট হবে। কারণ দরিদ্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে পশুটি কেনার মাধ্যমেই কুরবানীর জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়।[49]
জবাই করার জন্য পশুকে শোয়ানোর সময় বা পশুটির ছটফটানির কারণে যদি কোনো ত্রুটি তৈরি হয়, তবে তাতে কুরবানীর কোনো ক্ষতি হবে না। এমনকি যদি এই অবস্থায় পশুটি কোনোভাবে ফসকে গিয়ে পালিয়ে যায় এবং পরে ধরে এনে জবাই করা হয়, তবুও তা জায়েয হবে।[50]
কুরবানীর পশুর পেট থেকে যদি জীবিত কোনো বাচ্চা বের হয়, তবে মায়ের ন্যায় এই বাচ্চাকেও যবেহ করতে হবে।যদি কুরবানীর নির্ধারিত দিনগুলো পার হয়ে যায় অথচ বাচ্চাটিকে যবেহ করা না হয়, তবে সেক্ষেত্রে বাচ্চাটিকে জীবিত অবস্থায় দরিদ্রদের মাঝে সদকাহ করে দেওয়া ওয়াজিব।যদি সেই বাচ্চাটি হারিয়ে যায় কিংবা কোনো ব্যক্তি তা যবেহ করে খেয়ে ফেলে, তবে ওই বাচ্চার সমপরিমাণ বাজারমূল্য দরিদ্র ও অভাবী মানুষের মাঝে সদকাহ করে দিতে হবে।[51]
৬. শরীকানি কুরবানী
কুরবানীর ক্ষেত্রে একটি ছাগল কেবল একজনের পক্ষ থেকে আদায় করা যাবে।একটিছাগল, ভেড়াবাদুম্বা যত বড় ও হৃষ্টপুষ্ট হোক না কেন—এমনকি যদি তা দেখতে দুটো ছাগলের মতো বড় হয়, তা দ্বারা শুধু একজনই কুরবানী দিতে পারবে। এমন একটি পশু দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে কুরবানী করলে কারোটাই সহীহ হবে না।[52] আরউট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি শরীক হতে পারেন। যদি কোনো বড় পশুতে (উট বা গরু) সাতজনের কম ব্যক্তি, অর্থাৎ ছয়, পাঁচ, চার, তিন বা দুইজন শরীক হন, তবে তাও জায়েয। তবে এক পশুতে সাতজনের বেশি শরীক হওয়া জায়েয নেই।[53] হযরত জাবির (রা.) বর্ণনা করেছেন:
حَجَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. فَنَحَرْنَا الْبَعِيرَ عَنْ سَبْعَةٍ. وَالْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ
-আমরা রাসূলুল্লাহ e-এর সাথে হজ্জ করেছি। তখন একটি গরু সাতজনের পক্ষ থেকে এবং একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে কুরবানী করেছি।[54]
শরীকদের প্রত্যেকের ভাগের পরিমাণ সমান হওয়া আবশ্যক নয়। একটি পশুতে তিনজন শরীক থাকলে একজনের অর্ধেক অংশ, অন্যজনের এক-তৃতীয়াংশ এবং অপরজনের এক-ষষ্ঠাংশ হতে পারে।অংশীদারদের ভাগ কম-বেশি হলেও কোনো অংশীদারের ভাগই সাত ভাগের এক ভাগের কম হতে পারবে না। যদি কোনো অংশ সাত ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম হয়, তবে কুরবানী সহীহ হবে না।[55]
শরীকানি কুরবানী সহীহ হওয়ার প্রধান শর্ত হলো সকলের নিয়ত। যদি সাতজন ব্যক্তি একটি গরু বা উটে শরীক হন এবং তাদের প্রত্যেকের উদ্দেশ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি, তবে তা প্রত্যেকের পক্ষ থেকে আদায় হবে। কিন্তু যদি শরীকদের মধ্যে কোনো একজনের উদ্দেশ্য কেবল গোশত খাওয়া হয় এবং ইবাদতের নিয়ত না থাকে, তবে কারো কুরবানীই সহীহ হবে না।[56]
কোনো ব্যক্তি যদি কুরবানীর উদ্দেশ্যে একটি গরু কেনেন এবং এরপর অন্য কাউকে শরীক করতে চান, তবে তা জায়েয আছে, যদিও বিষয়টি মাকরুহ। এক্ষেত্রে ধনী এবং দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে বিধানগতপার্থক্য রয়েছে।ধনী ব্যক্তি একা কুরবানীর নিয়তে পশু কেনার পর অন্যকে শরীক করতে পারেন, তবে এটি মাকরূহ। এক্ষেত্রে তিনি অন্য শরীকদের কাছ থেকে যে টাকা গ্রহণ করবেন, তা সদকা করে দেওয়া উচিত।দরিদ্র ব্যক্তিযদি কুরবানীর নিয়তে পশু কেনেন, তবে তার জন্য অন্যকে শরীক করা জায়েয নেই। কারণ পশুটি কেনার মাধ্যমে তিনি তা নিজের ওপর ওয়াজিব করে নিয়েছেন; ফলে সেই দায়বদ্ধতা থেকে তিনি অন্যকে অংশ দিতে পারেন না। তাই অন্যকে শরীক করার সম্ভাবনা থাকলে কুরবানীর পশু কেনার সময়েই অন্যকে শরীক করার নিয়ত করে নেওয়াই উত্তম।[57]
শরীকদের মধ্যেযদি একজন মারা যান এবং তার প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরাধিকারীরা সবার পক্ষ থেকে জবাই করার অনুমতি দেন, তবে সবার কুরবানীই সহীহ হবে। কারণ মৃত্যু আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে বাধা নয়; যেমন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে সদকা করা বা হজ্জ করা জায়েয। উত্তরাধিকারীদের অনুমতি ছাড়া যদি শরীকানা পশুটি জবাই করা হয়, তবে কারো কুরবানীই শুদ্ধ হবে না।[58]
যখন কোনো পশুতে একাধিক অংশীদার থাকে, তখন গোশত অবশ্যই ওজন করে বণ্টন করতে হবে; কারণ গোশত ওজনযোগ্য বস্তু। ওজন না করে কেবল অনুমানের ভিত্তিতে ভাগ করা জায়েয নেই। তবে যদি গোশতের সাথে পশুর পায়া, চামড়া বা মাথার কোনো অংশ যুক্ত করে ভাগ করা হয়, তবে অনুমানের ভিত্তিতে বণ্টন করা যেতে পারে।[59]
৭. অন্যের পক্ষ থেকে কুরবানী
কেউ চাইলে অন্যের পক্ষ থেকেও কুরবানী করতে পারবেন, এটা জায়েয আছে।[60]
পিতা নিজের সম্পদ থেকে তার নাবালক সন্তানের পক্ষ থেকে কুরবানী করা ওয়াজিব নয়বরং মুস্তাহাব। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান কিংবা স্ত্রীর পক্ষ থেকে কুরবানী করতে হলে তাদের অনুমতি নেওয়া আবশ্যক। তাদের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়া তাদের কুরবানী আদায় হবে না। তবে ইমাম আবু ইউসুফ (রাহ.)-এর মতে, অনুমতি না নিলেও তা জায়েজ হবে। যদি পরিবারে এমন একটি অভ্যাস চালু থাকে যে, পিতা বা অভিভাবক প্রতি বছরই সবার পক্ষ থেকে কুরবানী করেন, তবে সেই প্রথাকে পরিবারের সদস্যদের ‘মৌন সম্মতি’ হিসেবে গণ্য করা হবে। এক্ষেত্রে পৃথকভাবে মুখে অনুমতি না নিলেও চলবে।[61]
মৃত ব্যক্তির সওয়াবের উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছায় কুরবানী করলে এর নিয়ম সাধারণ কুরবানীর মতোই।এর সওয়াব মৃত ব্যক্তি পাবেন এবং কুরবানীদাতা এর গোশত নিজে খেতে পারবেন, অন্যদের বিতরণ করতে পারবেন। তবে মৃত ব্যক্তি যদি ওসিয়ত করে গিয়ে থাকেন এবং সেই ওসিয়ত পালনার্থে কুরবানী করা হয়, তবে সেই গোশত কুরবানীদাতা নিজে খেতে পারবেন না; বরং এর সম্পূর্ণটাই দরিদ্রদের মধ্যে সদকা করে দিতে হবে।[62]
রাসূলুল্লাহ e-এর পক্ষ থেকে কুরবানী করা যাবে। এটা তাঁর প্রতি মুহাব্বাতের প্রকাশ এবং সৌভাগ্যের বিষয়। এ ব্যাপারে হাদীস রয়েছে। আলী (রা.) হতে বর্ণিত আছে,
أَنَّهُ كَانَ يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ أَحَدُهُمَا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالْآخَرُ عَنْ نَفْسِهِ، فَقِيلَ لَهُ فَقَالَ: أَمَرَنِي بِهِ – يَعْنِي النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَلَا أَدَعُهُ أَبَدًا
-তিনি দুটো মেষ কুরবানী করতেন, একটি রাসূলুল্লাহ e-এর পক্ষ থেকেএবং অপরটি নিজের পক্ষ হতে। এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ e আমাকে এই হুকুম করেছেন। অতএব আমি কখনও তা বাদ দেব না।[63]
তাবিঈ হানাশ (রাহ.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
رَأَيْتُ عَلِيًّا يُضَحِّي بِكَبْشَيْنِ فَقُلْتُ لَهُ: مَا هَذَا؟ فَقَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَوْصَانِي أَنْ أُضَحِّيَ عَنْهُ فَأَنَا أُضَحِّي عَنْهُ
-আমি আলী (রা.)-কে দুটো দুম্বা কুরবানী করতে দেখে জিজ্ঞেস করলাম, ব্যাপার কী (দুটো কেন)? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ e আমাকে ওসিয়ত করেছেন, আমি যেন তাঁর পক্ষ থেকে কুরবানী করি। তাই তাঁর পক্ষ থেকেও কুরবানী করছি।[64]
৮. একই পশুতে কুরবানী ও আকীকার ভাগ
যদি কোনো অংশীদার কুরবানীর পশুর এক বা একাধিক ভাগে তার পূর্বে জন্ম নেওয়া সন্তানের পক্ষ থেকেআকীকাকরার ইচ্ছা পোষণ করেন, তবে তা শরী‘আহসম্মত এবং বৈধ।[65]শৈশবে আকীকা করা না হলে বড় হওয়ার পরও আকীকা করা যাবে। যার আকীকা সে নিজে এবং তার মা-বাবাও আকীকার গোশত খেতে পারবে।[66] অংশীদারদের নিয়ত যদি ভিন্ন ভিন্ন হয়—যেমন কেউ সাধারণ কুরবানী, কেউ মানত আর কেউ আকীকার নিয়ত করলেন—কিন্তু প্রত্যেকের মূল লক্ষ্য যদি হয় আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, তবে তা জায়েয আছে।[67]কুরবানীর যে পশুতে সাত জন পর্যন্ত শরীক হওয়া যায় অর্থাৎগরু, মহিষও উটে কোনো শরীক কুরবানীর নিয়তে এবং কোনো শরীক আকীকার নিয়তে অংশীদার হতে পারবে। এক্ষেত্রে কুরবানী ও আকীকা উভয়ই বিশুদ্ধ হবে। ছেলের জন্য দুই অংশ আর মেয়ের জন্য এক অংশ দিতে হবে।
হাসান (রাহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِذَا ضَحَّوْا عَنِ الْغُلَامِ، فَقَدْ أَجْزَأَتْ عَنْهُ مِنَ الْعَقِيقَةِ
-যখন তারা বালকের পক্ষ থেকে কুরবানী করে, তবে তা তার পক্ষ থেকে আকীকাহিসেবে যথেষ্ট হয়ে যায়।[68]
হাসান এবং ইবনু সীরীন (রাহ.) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেছেন,
يُجْزِئُ عَنْهُ الْأُضْحِيَّةُ مِنَ الْعَقِيقَةِ
-কুরবানীর মাধ্যমেই তার পক্ষ থেকে আকীকাআদায় হয়ে যায়।[69]
কাতাদাহ (রাহ.) বলেন,
مَنْ لَمْ يُعَقَّ عَنْهُ أَجْزَأَتْهُ أُضْحِيَتُهُ
-যার পক্ষ থেকে আকীকা করা হয়নি, তার কুরবানীই তার জন্য (আকীকা হিসেবে) যথেষ্ট হবে।[70]
কুরবানী বা ‘নুসুক’-এর ক্ষেত্রে শরীআহর প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি হলো, ছাগল ও ভেড়ার মতো ছোট পশুর ক্ষেত্রে একটি জবাই কেবল একজনের কুরবানী হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু উট ও গরুর মতো বড় পশুর ক্ষেত্রে একটি জবাই সাতজনের কুরবানী হিসেবে গণ্য হতে পারে। অর্থাৎ, বড় পশুতে অংশীদার হওয়াও কুরবানী আদায়ের জন্য যথেষ্ট। যেহেতু আকীকাও এক ধরণের ‘নুসুক’ বা ইবাদতের উদ্দেশ্যে পশু জবাই, তাই এই সাধারণ মূলনীতি আকীকার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সুতরাং একটি স্বতন্ত্র পশু জবাই করলে যেমন আকীকাহবে, তেমনি নিয়ম মেনে বড় পশুর এক বা একাধিক অংশে শরীক হওয়ার মাধ্যমেও তা শুদ্ধ হবে।তাই ‘আকীকার জন্য আস্ত একটি পশু জবাই করতে হবে’—এমন দ্বিধার কোনো সুযোগ নেই। কারণ শরী‘আহর দৃষ্টিতে ইবাদতের উদ্দেশ্যে পশু জবাই বা রক্ত প্রবাহিত করার (ইরাকাতুদ দাম) দায়িত্বটি যেমন একটি পূর্ণ পশুর মাধ্যমে আদায় হয়, তেমনি বড় পশুতে অংশীদার হওয়ার মাধ্যমেও সম্পন্ন হয়।
তবে কুরবানী ও আকীকা পৃথকভাবে আদায় করাই উত্তম। এ ব্যাপারে ইমাম আবু ইউসুফ (র.) তাঁর ‘আল-আমালী’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, বড় পশুতে শরীক হওয়া সবার কুরবানীর উদ্দেশ্য এক হওয়া উত্তম।[71] ইমাম আবু হানীফাহ (র.) একটি পশুতে বিভিন্ন ধরণের ইবাদতের নিয়তে শরীক হওয়াকে মাকরূহ বলেছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, যদি কেউ এমনটি করেন, তবে তা জায়েয হবে।[72]
1 কুরবানীর পশু জবাই ও জবাই পরবর্তী করণীয়
জবাই করার সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে কুরবানীদাতা নিজ হাতে পশু জবাই করা উত্তম। আর যদি তিনি জবাই করতে না জানেন, তবে অন্তত জবাই করার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা উচিত।[73]
যদি জবাই করার সময় কুরবানীদাতা পশুর গলায় ছুরি চালাতে কসাইকে সরাসরি সাহায্য করেন (অর্থাৎ উভয়ে মিলে ছুরি ধরেন), তবে জবাইকারী ও সাহায্যকারী উভয়ের ওপরই পৃথকভাবে বিসমিল্লাহ (অর্থাৎ বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার) বলা ওয়াজিব। যদি তাদের একজনও ইচ্ছাকৃতভাবে বিসমিল্লাহ না বলে, তবে সেই পশুর গোশত খাওয়া হারাম হয়ে যাবে।[74]
কিবলামুখী হয়ে জবাই করা মুসতাহাব। জবাই করার সময় যে দুআ পড়তে হবে, তা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ e কুরবানীর দিন দুটো শিং বিশিষ্ট সাদা ও কালো মিশ্রিত দুম্বাকে কুরবানীর উদ্দেশ্যে কিবলামুখী করে শোয়ান এবং এই দুআ পাঠ করেন:
إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ عَلَى مِلَّةِ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ، إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ، اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ، عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ، بِاسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرُ
-“আমি একনিষ্ঠভাবে সেই মহান সত্তার অভিমুখে আমার মুখ ফেরাচ্ছি, যিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন। আমি ইবরাহীম (আ.)-এর মিল্লাত বা আদর্শের ওপর অবিচল এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার জীবন এবং আমার মরণ—সবই জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তাআলার জন্য। তাঁর কোনো শরীক নেই। আমাকে এই কাজের জন্যই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।হে আল্লাহ! এই পশু তোমারই পক্ষ থেকে প্রাপ্ত এবং তোমারই সন্তুষ্টির নিমিত্তে উৎসর্গীকৃত। হে আল্লাহ! এটি মুহাম্মাদ e এবং তাঁর উম্মাতের পক্ষ থেকে কবুল করুন।বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার (আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ সবচেয়ে মহান)।” অতঃপর তিনি (‘বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার’ বলে)জবাইকরেন।[75]
পশুকে জবাই করার নির্দিষ্ট স্থান হলো কণ্ঠনালী। জবাই করার সময় গলার নিচের দিক, মাঝখান কিংবা উপরের দিক—যেকোনোঅংশে জবাই করলে কুরবানী শুদ্ধ হবে।[76]
জবাই করার ক্ষেত্রে পশুর গলার চারটি নালী বা রগ কাটতে হয়। এগুলো হলো: শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, ও দুই রক্তনালী (খাদ্যনালী ও শ্বাসনালীর দুই পাশে অবস্থিত দুটো মোটা রক্তবাহী রগ)।জবাই করার সময় এই চারটি রগের সব কটি কাটা উত্তম। তবে যদি অন্তত তিনটি রগ কাটা হয়, তবুও জবাই শুদ্ধ হয়ে যাবে এবং পশুর গোশত হালাল হবে।[77]
পশু জবাই সম্পন্ন হওয়ার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা মুস্তাহাব। ততক্ষণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, যতক্ষণ না পশুর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্থির হয়, শরীর থেকে প্রাণের স্পন্দন সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয় এবং দেহটি ঠাণ্ডা হয়ে আসে। পশুটি পুরোপুরি নিস্তেজ হওয়ার আগেই তার মেরুদণ্ডের হাড় মটকানো কিংবা চামড়া ছাড়ানো শুরু করা মাকরূহ।[78]
কুরবানী পশু জবাই করে পারিশ্রমিক দেওয়া-নেওয়া জায়েয।[79] তবে কুরবানীর কোনো অংশ (গোশত, চামড়া, পায়া ইত্যাদি) কসাইকে বা যে কোনো সহযোগিতাকারীকে তাদের জবাই করার বিনিময়ে বা কাটাকাটির পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না।[80] তবে কসাইকে বা সহযোগিতাকারীকে সাদাকাহ (বা হাদিয়া) হিসেবে গোশত দেওয়া জায়েয।[81] আর জবাই ও কাটাকাটির পারিশ্রমিক হিসেবে টাকা প্রদান করা উত্তম।
১০. কুরবানীর পশুর চামড়া, গোশত ইত্যাদির বিধান
কুরবানীর পশুর চামড়া সদকা করে দেওয়া যায় অথবা নিজের প্রয়োজনে তা ব্যবহার করা যায়।যদি চামড়া বিক্রি করা হয়, তবে তার মূল্য সদকা করে দেওয়া ওয়াজিব।[82]
কুরবানীর জন্য নির্ধারিত পশুর দুধ পান করা বা অন্য কোনো উপায়ে তা থেকে উপকৃত হওয়া মাকরূহ। যদি কুরবানীর সময় খুব নিকটবর্তী হয়, তবে ওলানে ঠাণ্ডা পানি ছিটিয়ে দেওয়া উচিত যাতে দুধের চাপ কমে যায়। কিন্তু যদি কুরবানীর সময় দেরি থাকে এবং ওলানে দুধ জমে পশুর কষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে দুধ দোহন করে তা সদকাহ করে দিতে হবে।[83]তবে যদি মালিক নিজ খরচায় পশুকে ঘাস-খড় ইত্যাদি খাদ্য সরবরাহ করেন, তবে সেই পশুর দুধ বা গোবর বিক্রি করা মালিকের জন্য বৈধ। এক্ষেত্রে তাকে সদকাহ করতে হবে না।[84]
জবাই করার আগে পশুর পশম কাটা বা তা দ্বারা উপকৃত হওয়াও অপছন্দনীয়। যদি কেউ পশম কেটেই ফেলে, তবে সেই পশম বা তার সমমূল্য সদকাহ করা ওয়াজিব।[85]
কুরবানীর পশুকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করা, তার ওপর কোনো বোঝা বহন করা কিংবা তাকে ভাড়ায় খাটানো যাবে না। যদি কেউ পশুকে ভাড়ায় খাটায়, তবে প্রাপ্ত ভাড়া বা পারিশ্রমিক নিজের কাছে না রেখে তা দরিদ্রদের মাঝে সদকাহ করে দিতে হবে।[86]
কুরবানীর গোশত কোরবানীদাতা নিজে খেতে পারেন, আবার ধনী ও দরিদ্র—সবাইকে খাওয়াতে পারেন। এই গোশত প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণ করেও রাখা যায়।[87] ফ্রিজে সংরক্ষণ করাও জায়েয। বিত্তবানদের এই গোশত খাওয়ানো জায়েয হওয়ার কারণ হলো, কুরবানীদাতা নিজে সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও তার জন্য এটি খাওয়া বৈধ; সুতরাং তার মতো অন্য বিত্তবানদের খাওয়ানোতেও কোনো বাধা নেই।[88] কুরবানীর গোশত যিম্মি বা অমুসলিম (যেমন: হিন্দু বা অন্য ধর্মের) নাগরিককেও দেওয়া যাবে।[89]
কুরবানীর গোশত বণ্টনের ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি হলো তিন ভাগের নীতি অনুসরণ করা। অর্থাৎ এক-তৃতীয়াংশ নিজের পরিবারের জন্য রাখা।অপর এক-তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও মেহমানদের আপ্যায়নের জন্য রাখা। বাকি এক-তৃতীয়াংশ সদাকাহ হিসেবে দরিদ্রদের দিয়ে দেওয়া।[90] কারণ আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “তোমরা তা থেকে আহার করো (فَكُلُوامِنْهَا)” এবং “আহার করাও (وَأَطْعِمُوا)।” রাসূলুল্লাহ e-এই দুটো উল্লেখ করে আরেকটি বলেছেন: “সঞ্চয় করে রাখ (وَادَّخِرُوا)।” যেমন: আল্লাহ তাআলা বলেন:
فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ
-তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ-দরিদ্রকে খেতে দাও।[91]
কেউ যদি দান না করে সবটুকু গোশত নিজে রেখে দেয়, সেটিও জায়েয হবে। কিন্তু মুস্তাহাব হলো কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশদান করা। মূলত কুরবানীর মূল উদ্দেশ্য হলো পশু জবাইয়ের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহিত করে আল্লাহর আনুগত্য করা; তাই পুরো গোশত দান করে দেওয়া সবচেয়ে উত্তম, তবে কিছুটা দান করলেওকুরবানী আদায় হয়ে যাবে।[92] ইসলামের শুরুর দিকে তিন দিনের বেশি কুরবানীর গোশত জমা করে রাখা নিষেধ ছিল। তবে পরবর্তীতে সেই নিষেধাজ্ঞা রহিত (মানসুখ) হয়ে যায়। বুরায়দা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ e বলেছেন,
إِنِّي كُنْتُ نَهَيْتُكُمْ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ بَعْدَ ثَلَاثٍ، وَعَنِ النَّبِيذِ إِلَّا فِي سِقَاءٍ، وَعَنْ زِيَارَةِ الْقُبُورِ، فَكُلُوا مِنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ مَا بَدَا لَكُمْ، وَتَزَوَّدُوا وَادَّخِرُوا، وَمَنْ أَرَادَ زِيَارَةَ الْقُبُورِ فَإِنَّهَا تُذَكِّرُ الْآخِرَةَ، وَاشْرَبُوا، وَاتَّقُوا كُلَّ مُسْكِرٍ
-আমি তোমাদেরকে নিষেধ করেছিলাম তিন দিনের পর কুরবানীর মাংস খেতে; আর মশক ব্যতীত অন্য পাত্রে নবীয তৈরি করতে এবং কবর যিয়ারত করতে। এখন তোমরা কুরবানীর মাংস খেতে পার যত দিন ইচ্ছা এবং সফরে তা পাথেয় হিসাবে নিতে পার এবং তা জমা করে রাখতে পার। আর যে কবর যিয়ারত করতে ইচ্ছা করে, সে যিয়ারত করবে। কেননা তা পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আর তোমরা (যে কোন পাত্রে) পান করবে, কিন্তু প্রত্যেক নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে বেঁচে থাকবে।[93]
সালামা ইবনু আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী e বলেছেন,
مَنْ ضَحَّى مِنْكُمْ فَلَا يُصْبِحَنَّ بَعْدَ ثَالِثَةٍ وَفِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ، فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللهِ، نَفْعَلُ كَمَا فَعَلْنَا عَامَ الْمَاضِي؟ قَالَ: كُلُوا وَأَطْعِمُوا وَادَّخِرُوا فَإِنَّ ذَلِكَ الْعَامَ كَانَ بِالنَّاسِ جَهْدٌ فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا فِيهَا
-তোমাদের মধ্যে যে ব্যাক্তি কুরবানী করেছে, সে যেন তৃতীয় দিবসে এমতাবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর মাংস কিছু পরিমান অবশ্যই থাকে। এরপর যখন পরবর্তী বছর আসল, তখন সাহাবীগন বললেন,ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমরা কি সে রূপ করবো যে রূপ গত বছর করেছিলাম? তখন তিনি বললেন, তোমরা নিজেরা খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ কেননা, গত বছর তো মানুষের মধ্যে ছিল অভাব অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম যে, তোমরা তাতে সাহায্য কর।[94]
১১. কুরবানী আদায় করতে না পারলে কাযা করার বিধান
কুরবানীর সময় পার হয়ে গেলে তার কাযা করতে হয়। এই কাযা আদায়ের পদ্ধতি দুই ধরণের: সরাসরি জীবিত পশুটি দান করা অথবা পশুর মূল্য সদাকাহ করা।
যদি কেউ একটি নির্দিষ্ট পশুকে নিজের ওপর কুরবানী হিসেবে ওয়াজিব করে নেন, কিন্তু কুরবানীর দিনগুলো অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তা কুরবানীনা করেন, তবে তিনিঐ নির্দিষ্ট পশুটিই জীবিত সদকা করে দিবেন; এক্ষেত্রে ধনী ও দরিদ্র উভয়ের জন্য একই হুকুম।[95]
কোনো দরিদ্র ব্যক্তি যদি কুরবানী করার নিয়তে কোনো পশু ক্রয় করেন এবং কুরবানীর সময় অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তা কুরবানী না করেন, তবে তিনি পশুটি জীবিত সদকা করবেন। কারণ দরিদ্র ব্যক্তির কুরবানীর উদ্দেশ্যে পশু ক্রয় করা মানত করার সমতুল্য।[96]
আর যদি কোনো সচ্ছল ব্যক্তি কুরবানী করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো পশু নির্ধারণ না করে থাকেন এবং কোনো পশু ক্রয়ও না করে থাকেন, এমতাবস্থায় কুরবানীর দিনগুলো অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তবে তিনি কুরবানীযোগ্য একটি পশুর মূল্য সদকা করবেন।[97]
কুরবানীর দিনগুলো অতিবাহিত হওয়ার পর যদি উক্ত ব্যক্তি দরিদ্র হয়ে পড়েন, তবুও পশু বা তার মূল্য সদকা করার বাধ্যবাধকতা তার ওপর থেকে রহিত হবে না। কারণসময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর এটি তার যিম্মায় ঋণহিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে; ফলে পরবর্তীতে দরিদ্র হওয়ার কারণে তা বাতিল হয়ে যায় না।[98]
যদি কারো ওপর নির্দিষ্ট পশুটি জীবিত সদকা করা ওয়াজিব হয়ে থাকে, কিন্তু তিনি তা সদকা না করে জবাই করে ফেলেন, তবে তিনিঐ পশুর পুরো গোশত সদকা করে দেবেনি। তার জন্য সেই গোশত খাওয়া বৈধ নয়। যদি তিনি গোশতের কিছু অংশ খেয়ে ফেলেন, তবে যতটুকু খেয়েছেন, তার সমপরিমাণ মূল্য জরিমানা হিসেবে সদকা করে দিতে হবে।[99]
কুরবানী একটি বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ ইবাদত। প্রতি বছরে একবার কুরবানী করার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ত্যাগের একটি অভ্যাস গড়ে ওঠে। এই উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলিমদের পক্ষ থেকে কুরবানীর গোশত পৌঁছে যায়অসংখ্য অভাবী মানুষের ঘরে। ধনী-দরিদ্র সবাই আনন্দে শরীক হয়ে আল্লাহর নিআমত ভোগ করেন।কুরবানী একটি ইবাদত, আর ইবাদত আদায় করতে হয় শরয়ী নির্দেশনা অনুসরণ করে। তাই যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব, তাদের জন্য সঠিক মাসাইল জেনে কুরবানী আদায় করা জরুরী।
[1]. সূরা আল-হাজ্জ: ৩৭।
[2]. তিরমিযী, আস-সুনান, হাদীস: ১৪৯৩; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস: ৩১২৬।
[3]. ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস: ৩১২৭।
[4]. সূরা কাওসার: ২।
[5]. তিরমিযী, আস-সুনান, হাদীস: ১৫১৮; আবূ দাঊদ, আস-সুনান, হাদীস: ২৭৮৮।
[6]. ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস: ৩১২৩; হাকেম একে সহীহ বলেছেন।
[7]. শুআইব আল-আরনাঊত, সুনান আবী দাঊদের টীকা, খ. ৪, পৃ. ৪১৬।
[8]. বুখারী, আল-জামি আস-সহীহ, হাদীস: ৯৫৪।
[9]. উমদাতুল কারী শারহু সহীহিল বুখারী, খ. ৬, পৃ. ২৭৭।
[10]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৫।
[11]. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খ. ৫, পৃ. ২৯১।
[12]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৫।
[13]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৬২; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খ. ৫, পৃ. ২৯১।
[14]. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খ. ৫, পৃ. ২৯১।
[15]. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩২৫-৩২৬; আল-ফিকহুল হানাফী ফী সাওবিহিল জাদীদ, খ. ৫, পৃ. ২১৩।
[16]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৬৬; আল-ফিকহুল হানাফী ফী সাওবিহিল জাদীদ, খ. ৫, পৃ. ২১৩।
[17]. আল-মুহীতুলবুরহানী, খ. ৬, পৃ. ৮৮।
[18]. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩১৬; আল-বাহরুর রাইক, খ. ৮, পৃ. ১৯৭।
[19]. বুখারী, আল-জামি আস-সহীহ, হাদীস: ৯৮৫, ৫৫৬২, ৭৪০০।
[20]. বুখারী, আল-জামি আস-সহীহ, হাদীস: ৯৫৫।
[21]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৬।
[22]. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খ. ৫, পৃ. ২৯৬।
[23]. আন-নিহায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ, খ. ২৩, পৃ. ২৪; মাজমাউল আনহুর, খ. ২, পৃ. ৫১৯।
[24]. আন-নিহায়াহ ফী শারহিল হিদায়াহ, খ. ২৩, পৃ. ২৪।
[25]. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খ. ৫, পৃ. ২৯৭।
[26]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৭।
[27]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৭।
[28]. আল-জাওহারাতুন নায়্যিরাহ, খ. ২, পৃ. ১৮৯।
[29]. আল-ইখতিয়ার লি-তালীলিল মুখতার, খ. ৫, পৃ. ১৮।
[30]. তিরমিযী, আস-সুনান, হাদীস: ১৪৯৯।
[31]. আল-ইখতিয়ার লি-তালীলিল মুখতার, খ. ৫, পৃ. ১৮।
[32]. মুসলিম, আস-সহীহ,হাদীস: ১৯৬৩; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস: ৩১৪১; আবূ দাউদ, আস-সুনান, হাদীস: ২৭৯৭; নাসাঈ, আস-সুনান, হাদীস: ৪৩৭৮।
[33]. আন-নববী, শারহু সহীহিল মুসলিম, খ. ১৩, পৃ. ১১৭।
[34]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৮০; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খ. ৫, পৃ. ৩০০।
[35]. আহমাদ বিন হাম্বল, আল-মুসনাদ, খ. ৪১, পৃ. ৪৯৭, হাদীস: ২৫০৪৬।
[36]. আদ দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৭; বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৮৬।
[37]. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩২৩; বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৮৬।
[38]. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩২৩।
[39]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৮৬।
[40]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৭।
[41]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৭।
[42]. তিরমিযী, আস-সুনান, হাদীস: ১৪৯৭।
[43]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৭।
[44]. তিরমিযী, আস-সুনান, হাদীস: ১৪৯৮ (হাদীসের ইবারত তিরমিযীর); আবূ দাউদ, আস-সুনান, হাদীস: ২৮০৪ (আবূ দাউদের ইবারতে ‘ولانضحِّي بعَوراءَ –আমরা যেন অন্ধ পশু কুরবানী না করি অংশটুকু অতিরিক্ত আছে)।
[45]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৭।
[46]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৭।
[47]. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩২৫; আল-ফিকহুল হানাফী ফী সাওবিহিল জাদীদ, খ. ৫, পৃ. ২১২-২১৩।
[48]. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খ. ৫, পৃ. ২৯৮।
[49]. আল-ফিকহুল হানাফী ফী সাওবিহিল জাদীদ, খ. ৫, পৃ. ২১৩।
[50]. আল-ফিকহুল হানাফী ফী সাওবিহিল জাদীদ, খ. ৫, পৃ. ২১৩।
[51]. ফাতাওয়া কাযীখান, খ. ৩, পৃ. ২৩৭।
[52]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৭০।
[53]. আল-বাহরুর রাইক, খ. ৮, পৃ. ১৯৮; আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৫।
[54]. মুসলিম, আস-সহীহ, হাদীস: ১৩১৮।
[55]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৭১।
[56]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৭১।
[57]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৭২।
[58]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৭; আল-ফিকহুল হানাফী ফী সাওবিহিল জাদীদ, খ. ৫, পৃ. ২১৩।
[59]. আল-বাহরুর রাইক, খ. ৮, পৃ. ১৯৮।
[60]. আল-হিদায়া, খ. ৪, পৃ. ৩৬০; শারহু মুখতাসারিত তাহাবী, খ. ৭, পৃ. ৩২৮; আল-মুহীতুল বুরহানী, খ. ৬, পৃ. ৯৬।
[61]. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩১৫।
[62]. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩২৬।
[63]. তিরমিযী, আস-সুনান, হাদীস: ১৪৯৫।
[64]. আবূ দাউদ, আস-সুনান, হাদীস: ২৭৯০।
[65]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৭১; রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩২৬; আল-ফিকহুল হানাফী ফী সাওবিহিল জাদীদ, খ. ৫, পৃ. ২১4।
[66]. ই‘লাউস সুনান, খ. ১৭, পৃ. ১২৬।
[67]. ফাতাওয়া কাযীখান, খ. ৩, পৃ. ২৩৭।
[68]. ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুসান্নাফ, খ. ১৩, পৃ. ৩৭০, হাদীস: ২৫৮৪৮।
[69]. ইবনু আবী শায়বাহ, আল-মুসান্নাফ, খ. ১৩, পৃ. ৩৭০, হাদীস: ২৫৮৪৯।
[70]. আবদুর রাযযাক, আল-মুসান্নাফ, খ. ৪, পৃ. ৩৩১, হাদীস: ৭৯৬৭।
[71]. ফাতাওয়া কাযীখান, খ. ৩, পৃ. ২৩৭।
[72]. ফাতাওয়া কাযীখান, খ. ৩, পৃ. ২৩৭।
[73]. আল-লুবাব ফী শারহিল কিতাব, খ. ৩, পৃ. ২৩৬; আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৮।
[74]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৯।
[75]. আবূ দাউদ, আস-সুনান, হাদীস: ২৭৯৫ (ইবারত আবূ দাউদের); ইবনু মাজাহ, আস-সুনান, হাদীস: ৩১২১।
[76]. শারহুমুখতাসারিততহাবী, খ. ৭, পৃ. ২৩৮।
[77]. কানযুদ দাকায়িক, পৃ. ৫৯৯; আল-বাহরুর রাইক, খ. ৮, পৃ. ১৯৩।
[78]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৮০।
[79]. কিফায়াতুল মুফতী, খ.৮, পৃ. ২৬৫।
[80]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৯।
[81]. হাশিয়াতুত তহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ, পৃ. ৭৪৫।
[82]. আদ-দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৮।
[83]. রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩২৯।
[84]. আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খ. ৫, পৃ. ৩০১।
[85]. দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৯।
[86]. দুররুল মুখতার, পৃ. ৬৪৯।
[87]. মুখতাসারুল কুদূরী, পৃ. ২০৮।
[88].আল-ইখতিয়ার লি-তালীলিল মুখতার, খ. ৫, পৃ. ২০।
[89].আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ, খ. ৫, পৃ. ৩০০।
[90]. বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৮১; আল-জাওহারাতুন নায়্যিরাহ, খ. ২, পৃ. ১৯০।
[91]. সূরাআল-হাজ্জ: ২৮।
[92]. আল-জাওহারাতুন নায়্যিরাহ, খ. ২, পৃ. ১৯০।
[93]. নাসাঈ, আস-সুনান, হাদীস: ৪৪৩০।
[94]. বুখারী, আল-জামি আস-সহীহ, হাদীস: ৫৫৬৯।
[95].বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৬৮।
[96].বাদাইউস সানাঈ , খ. ৫, পৃ. ৬৮।
[97].রদ্দুল মুহতার, খ. ৬, পৃ. ৩২০।
[98].বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৬৮।
[99].বাদাইউস সানাঈ, খ. ৫, পৃ. ৬৮।

