1. redwan.iub@gmail.com : admin2021 :
  2. admin@parwana.net : Parwana Net : Parwana Net
  3. editor@parwana.net : Parwana Net : Parwana Net
Logo
দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট ও আল্লামা ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী
মোহাম্মদ খায়রুল হুদা খান
  • ৭ এপ্রিল, ২০২১

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব জাতির হিদায়াতের জন্য শাশ্বত বাণী কুরআন কারীম প্রেরণ করেছেন এবং কিয়ামত পর্যন্ত এর হিফাযতের যিম্মাদারি নিজেই গ্রহণ করেছেন। কুরআন কারীমের এই হিফাযত বা সংরক্ষণের অন্যতম একটি দিক হচ্ছে এর সঠিক তিলাওয়াতেরও সংরক্ষণ। যুগ যুগ ধরে বিশ্বব্যপী কুরআন শিক্ষাদানে মুসলিম বিশ্বের মহামণীষীগণ জীবনভর খিদমত ও কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। তবে তাঁদের এই খিদমতগুলো বেশিরভাগই ছিল ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং সীমিত। এক্ষেত্রে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশে কুরআন কারীমের সঠিক তিলাওয়াত সংরক্ষণের শ্রেষ্ঠতম দিকপাল হলেন শতাব্দীর মুজাদ্দিদ, রঈসুল কুররা ওয়াল মুফাসসিরীন, শামসুল উলামা হযরত আল্লামা আবদুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট একটি ব্যতিক্রমী কিরাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেটি বিগত প্রায় আট দশক ধরে কিরাত শিক্ষাদানের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করে বাংলাদেশের গন্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও তার খিদমাত বিস্তারে সক্ষম হয়েছে।

শামসুল উলামা হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) স্বীয় পীর ও মুরশিদ হযরত শাহ ইয়াকুব বদরপুরী (র.)-এর কাছ থেকে সর্বপ্রথম ইলমে কিরাতের সনদ লাভ করেন। পরবর্তীতে পীর ও মুরশিদের নির্দেশে হযরত শাহ আবদুর রউফ করমপুরী (র.)-এর কাছে কুরআন অধ্যয়ন করে সনদ লাভ করেন, যিনি ২৯ বছর মক্কা শরীফে অবস্থান করেছেন এবং সেখানকার প্রখ্যাত কারীদের কাছে কুরআন শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের দুজনেরই সনদ শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া আল আনসারী (র.) হয়ে ইমাম আবূ আমরিদ্দানী (র.) পর্যন্ত পৌঁছেছে।

কুরআন কারীমের এ আশিক ১৯৪৪ ইং (১৩৬৩ হিজরী) সনে হজ্জ করতে মক্কা শরীফে গেলে হারামাইন শরীফাইনের কারী ও ফকীহগণের প্রধান (শাইখুল কুররা ও রাঈসুল ফুকাহা) শায়খ আহমদ হিজাযী (র.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং ইলমে কিরাতে তাঁর পারদর্শিতা ও খ্যাতির কথা শুনে তাঁর কাছে কুরআন মাজীদ শিক্ষা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। কিন্তু ছাহেব কিবলাহ (র.) হিন্দ (ভারত) থেকে এসেছেন জানতে পেরে তিনি কিরাত শুনতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন। কারণ তৎকালীন সময়ে এতদঞ্চলে বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ছিল না বললেই চলে। এমনকি কোনো কোনো এলাকায় কুরআন কারীমের হরফ পর্যন্ত পরিবর্তন করে পড়া হতো। যাই হোক হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) এর অতি আগ্রহ এবং পীড়াপিড়িতে তিনি রাজী হন এবং তাঁর তিলাওয়াত শুনে বিমোহিত হন। দুই সফরে হযরত ছাহেব কিবলাহ (র.) শায়খ আহমদ হিজাযী (র.)-এর কাছে সম্পূর্ণ কুরআন কারীম পাঠ করে শুনান। শায়খ আহমদ হিজাযী (র.) হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-কে কিরাতের সনদ দান করেন। সনদ প্রদানকালে শায়খ আহমদ হিজাযী (র.) ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এ সনদ একটি আমানত, যে আমানত আমার ইলমে কিরাতের উস্তাদ ও বুযুর্গগণ আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। আজ আমি তা তোমার হাতে সোপর্দ করলাম। যদি এ আমানতের হ্রাস-বৃদ্ধিজনিত খেয়ানত করো, তবে এর পরিণাম তুমিই ভোগ করবে। কারণ আজমে (অনারব দেশে) এখন হরফের উচ্চারণ ও পঠন পদ্ধতি বিষয়ে নানারকম মতভেদ দেখা দিয়েছে।”

হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) শায়খ আহমদ হিজাযী (র.) থেকে সনদ লাভ করে দেশে ফেরার পর তৎকালীন আসামের প্রথিতযশা বুযুর্গ শায়খ আবদুন নূর গড়কাপনী (র.) স্বপ্নযোগে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছ থেকে ইশারা পেয়ে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) কে ইলমে কিরাত শিক্ষা দিতে উদ্বুদ্ধ করেন। স্বপ্নযোগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইশারা পাওয়ার ঘটনাটি এরকম যে, হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) ভারতের উত্তর প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী রামপুর আলিয়া মাদরাসা থেকে হাদীস, তাফসীর ও ফিকহ বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করে বর্তমান ভারতের আসাম রাজ্যের করিমগঞ্জ জেলার বদরপুর আলিয়া মাদরাসায় অধ্যাপনায় নিয়োজিত হন। এ সময় স্বীয় পীর ও মুরশিদ হযরত আবূ ইউসুফ শাহ মুহাম্মদ ইয়াকুব বদরপুরী (র.)-এর নির্দেশে মক্কা শরীফ গমন করে হযরত আহমদ হিজাযী মক্কী (র.)-এর নিকট থেকে ইলমে কিরাতের সনদ লাভ করেন। সেখানে থেকে ফিরে তিনি পুনরায় বদরপুর আলিয়া মাদরাসায় অধ্যাপনা শুরু করেন। একদিন হযরত ছাহেব কিবলাহ (র.) ক্লাসে ছাত্রদের দারস দেওয়ার সময় সেখানে হযরত আবদুন নুর গড়কাপনী (র.) তাশরীফ নিলেন। সমকালীন খ্যাতনামা আলিম ও বুযুর্গ ছিলেন তিনি। ছাহেব কিবলাহ (র.) তাঁকে সমাদরে পাশে বসতে অনুরোধ করে পাঠদানে ব্যস্ত হলেন। ক্লাসের সময় শেষ হলে ছাহেব কিবলাহ (র.) তার কুশলাদি ও আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, সর্বসাধারণ তো দূরের কথা এতদঞ্চলের অনেক আলিমেরও কিরাত বিশুদ্ধ নয়। তাই ছাহেব কিবলাহ (র.) দারসে কিরাতের জন্য অন্তত সপ্তাহে এক ঘন্টা সময় যেন আমাদের দেন। ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) জবাবে বললেন, আমার হাতে সময় একেবারে কম, বিশেষ করে ক্লাসে ছাত্রদের পাঠদানের আগে নিজে ভালোভাবে তা দেখে নিতে হয়, তাই সময় দেয়া মোটেই সম্ভব নয়। এ কথার পর আবদুন নুর গড়কাপনী (র.) চলে গেলেন। পরদিন ঠিক একইভাবে উপস্থিত হয়ে একই কথার পুনরাবৃত্তি করলে ছাহেব কিবলাহ (র.) আবারও অপারগতা প্রকাশ করলেন। তখন হযরত আবদুন নুর (র.) বললেন, আমি নিজ থেকে আপনার নিকট আসিনি। বড় জায়গা থেকে নির্দেশ পেয়েই তবে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) তখন স্বীয় মুরশিদ হযরত বদরপুরী (র.)-এর নির্দেশ কিনা জানতে চাইলে হযরত আবদুন নুর (র.) বললেন, না আরও বড় জায়গা থেকে নির্দেশ পেয়েছি। ছাহেব কিবলাহর অনুরোধে তিনি বর্ণনা করলেন, “আমি স্বপ্নে হুযূর (সা.)-এর দিদার লাভ করি। আমি হুযূর (সা.)-এর কন্ঠে সুললিত তিলাওয়াতে কালামে পাক শুনতে পাই। আরয করলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! এই কিরাত কিভাবে শিখব? তখন নবী পাক (সা.) ডান দিকে যাকে দেখিয়ে ইশারা করলেন, চেয়ে দেখি সেই সৌভাগ্যবান আপনি।” একথা শুনার সাথে সাথে হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) কেঁদে ফেললেন এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ঠিক আছে আমি সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার ১২টার পরে নিকটবর্তী হযরত আদম খাকী (র.) (তিনশত ষাট আউলিয়ার অন্যতম)-এর মাজার সংলগ্ন মসজিদে কিরাতের দারস দেওয়ার ওয়াদা দিলাম। এভাবেই ১৯৪৬ ইং সালে ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর ইলমে কিরাতের খিদমতের সূত্রপাত। এভাবেই ১৯৪৬ সালে ভারতের আসামে হযরত আদম খাকী (র.) (হযরত শাহজালাল (র.) এর অন্যতম সঙ্গী) এর মাযার সংলগ্ন মসজিদে প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে কিরাতের দারস দেওয়ার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী এই দারুল কিরাতের খিদমত আরম্ভ হয়। সমকালীন উলামা-মুদাররিসীন ও শিক্ষার্থীবৃন্দ তার নিকট কিরাত শিক্ষার জন্য জমা হতে থাকেন। এ সময় পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে, কখনো নৌকা না পেলে সাঁতার কেটে হলেও নদী পেরিয়ে তিনি সেই মসজিদে গিয়ে কিরাত শিক্ষা দিতেন। এরপর থেকে হযরত ছাহেব কিবলাহ (র.) বিভিন্ন অঞ্চলে পায়ে হেঁটে, ঘোড়ায় চড়ে দীর্ঘপথ অতিক্রম করে অবৈতনিকভাবে ইলমে কিরাতের দারস দিয়েছেন। স্বীয় উস্তাদ শায়খ আহমদ হিজাযী (র.) এর ওসীয়াত অনুযায়ী কুরআন শিক্ষা দানের সে আমানত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) যথাযথভাবে রক্ষা করেছেন এবং বিশুদ্ধ কিরাত শিক্ষাদানের দায়িত্ব আনজাম দিয়ে গেছেন জীবনভর। যার ফলশ্রুতিতে আজ দুনিয়াব্যাপী তাঁর ইলমে কিরাতের খিদমত একটি মকবূল খিদমত হিসেবে সুপরিচিত।

১৯৪৬ ইং সন থেকে দীর্ঘ চার বছর ধরে বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে কিরাত শিক্ষা দান করেন হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)। ১৯৫০ ইং সনে তিনি নিজ বাড়িতে কিরাতের দারস প্রথম চালু করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক, আলিম-উলামা তথা সর্বসাধারণের সুবিধার্থে ছুটির অবসরকালীন রামাদ্বান মাসকে কিরাত শিক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয়। উপরন্তু কুরআন নাযিলের মাস রামাদ্বানে কুরআনে কারীমের সাথে বিশেষ এই সম্পর্ক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মনে আলাদা একটি আধ্যাত্মিক প্রভাব ফেলে। প্রতি বছর রামাদানে ছাহেব কিবলাহ (র.) নিজ বাড়িতে শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা নিজ খরচে করতেন। পঞ্চাশ হতে একশত এভাবে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সকলকে তা’লীম দিয়ে এবং সমগ্র কুরআন মাজীদ নিজে শুনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী করে তবেই তিনি সনদ প্রদান করতেন এবং সনদপ্রাপ্ত কারী ছাহেবদেরকে কিরাত শিক্ষাদানে উদ্বুদ্ধ করতেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তে থাকায় অন্যান্য স্থানে শাখা কেন্দ্র অনুমোদন ও একটি বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় দারুল কিরাতের জন্য ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) এর ওয়ালিদ মুহতারাম হযরত মুফতী মাওলানা আবদুল মজিদ চৌধুরী (র.) এর নামানুসারে এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় “দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট”।

দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে কেন্দ্রীয় বোর্ড অফিস ফুলতলী ছাহেব বাড়ি থেকেই বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে দারুল কিরাতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) এর কাছ থেকে প্রথম পর্যায়ে কিরাতের সনদ গ্রহণ করে ছাহেব কিবলাহর সহযোগী হিসেবে কিরাত শিক্ষাদান ও বোর্ড পরিচালনায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন হযরত মাওলানা শাতির আলী গর্দীশপুরী (র.), মরহুম দেওয়ান আবদুল বাছির (র.), হযরত মাওলানা কারী আবদুল লতিফ খাদিমানী (র.), সাবেক প্রধান বিচারপতি এডভোকেট সৈয়দ এবিএম মাহমুদ হোসেন (র.) প্রমুখ। ছাহেব কিবলাহ (র.) শুরুর দিকেই তাঁর ভূ-সম্পত্তির বিশাল অংশ (প্রায় ৩৩ একর) এ ট্রাস্টের নামে ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন।

হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) এর সুযোগ্য উত্তরসূরী ও বড় ছাহেবজাদা হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলীর সরাসরি তত্ত্বাবধানে শাখা অনুমোদন, নবায়ন, শিক্ষক নিয়োগ, প্রশ্নপত্র সরবরাহ, পরীক্ষা গ্রহণ, হিসাব নিরীক্ষণ ইত্যাদি সকল কার্যক্রম বোর্ড থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়ে থাকে। শায়খ আহমদ হিজাযী (র.) এর আরবী ভাষায় লিখিত তাজবীদের কিতাব এবং অন্যান্য তাজবীদের নিয়মাবলী সম্বলিত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) রচিত ‘আল কাউলুছ ছাদীদ’ এবং বড় ছাহেবজাদা হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী রচিত ‘প্রাথমিক তাজবীদ শিক্ষা’ কিতাব দুটি বোর্ড অনুমোদিত ইলমে তাজবীদের পাঠ্য হিসেবে দারুল কিরাতে পড়ানো হয়। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ভাষার শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন পূরণার্থে ইতিমধ্যে বইগুলো বাংলা, উর্দু ও ইংরেজিতে ভাষান্তর করা হয়েছে। এ বোর্ডের অধীনে সর্বমোট ৬টি ক্লাস এর মাধ্যমে সমস্ত কুরআন শরীফ সহীহ শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি ক্লাসের সমাপনান্তে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে কিরাতের সনদ দেওয়া হয়।

অতি দ্রুততার সাথে সফলতার পথে এগিয়ে চলেছে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট। দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের অধীনে বর্তমানে কেবল বাংলাদেশেই দুই হাজার ছয়শত এর উপরে শাখা কেন্দ্র ছড়িয়ে রয়েছে। তাছাড়া ভারত, ইউকেসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, আমেরিকা, সাউথ আফ্রিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কয়েক শত শাখা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেগুলোতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ছাড়াও বিভিন্ন জাতি ও ভাষার মুসলিম শিক্ষার্থীগণ বিশুদ্ধ কুরআন তিলাওয়াত শিক্ষা গ্রহণ করে সনদপ্রাপ্ত হয়ে ইলমে কিরাতের দ্বীপ্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে বিশ্বব্যপী।

বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে কুরআনে কারীমের এই খিদমতে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)। কেবল শিক্ষাদানের মাধ্যমেই নয়; বরং শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না-বান্না করা, নিজ তহবিল থেকে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা, ব্যক্তিগতভাবে তাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার মাধ্যমে কুরআনের নূরে নূরান্বিত একটি কাফেলা প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। সারাজীবন অবৈতনিকভাবে কিরাতের খিদমত আনজাম দিয়েছেন ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী (র.)। তাঁর নিকট থেকে সনদপ্রাপ্ত তাঁর সাত জন ছাহেবজাদা এবং নাতিগণও অবৈতনিকভাবে এ খিদমত আনজাম দিয়ে যাচ্ছেন।

দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট একটি সম্ভাবনাময়ী প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশ সহ বহির্বিশ্বে হযরত ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) এর হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিশুদ্ধ কুরআনে কারীমের বাণী পৌঁছে দিচ্ছে মুসলমানদের ঘরে ঘরে। হাজারো মসজিদের ইমাম-মুআযযিন, হাজারো মাদরাসার উস্তাদ-মুহাদ্দিসীন মিম্বার-মিহরাব-খানকাগুলোকে কুরআনের বিশুদ্ধ তিলাওয়াতে মোহিত করে তুলছেন প্রতিনিয়ত হযরত আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ প্রতিষ্ঠিত এই দারুল কিরাতের কারণে। যে তিলাওয়াত বিশুদ্ধ না হলে নামায শুদ্ধ হয় না, যে তিলাওয়াত বিশুদ্ধ না হলে অন্তর বিশুদ্ধ হয় না, সেই তিলাওয়াতের সঠিক শিক্ষাদান ছাহেব কিবলাহ (র.) প্রদত্ত আমানতের সংরক্ষণ ও যথাযথ বিকাশ সাধনে দারুল কিরাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যদি আন্তরিকতা, সতর্কতা ও নিষ্ঠার সাথে এগিয়ে আসেন, তাহলে অদূর ভবিষ্যতে দারুল কিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট পৌঁছে যাবে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে- মুসলিম বিশ্বের ঘরে ঘরে।

ফেইসবুকে আমরা...