1. redwan.iub@gmail.com : admin2021 :
  2. admin@parwana.net : Parwana Net : Parwana Net
  3. editor@parwana.net : Parwana Net : Parwana Net
Logo
নারী পুরুষের নামাযের সকল রুকন একই না হওয়ার কারণ
জবাব দিচ্ছেন: মাওলানা আবূ নছর মোহাম্মদ কুতুবুজ্জামান তাফাদার
  • ৮ মে, ২০২১

আমরা যেভাবে নামায পড়ি, এভাবে কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়তেন? পুরুষের নামাযের নিয়ম থেকে মহিলার নামাযের নিয়ম কতিপয় স্থানে আলাদা কেন?

প্রশ্নকারী: বদরুল ইসলাম
সিলেট

 

জবাব: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে বর্ণিত হাদীসের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাসমূহের ভিত্তিতে মাযহাবের ইমামগণ গ্রহণযোগ্য মূলনীতির ভিত্তিতে রায় প্রদান করেছেন। সুতরাং ইমাম আবূ হানীফা (র.) নামাযের পদ্ধতি সম্পর্কে যে রায় প্রদান করেছেন তা তার নিকট সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হাদীস শরীফের ভিত্তিতেই ছিল। তাই আমাদের মধ্যে যারা মাযহাবের ইমামগণের কারো সিদ্ধান্ত মেনে সে অনুযায়ী নামায আদায় করছেন, তাদের নামায আদায়ের পদ্ধতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামায আদায়ের পদ্বতির অনুসরণ ও অনুকরণে সুন্নাহ মুতাবিক হচ্ছে।

আর পুরুষের নামায থেকে নারীদের নামাযই কেবল ভিন্ন নয় বরং শরীআতের অন্যান্য বিধি-বিধানে ও নারী-পুরুষের পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। এর কারণ হচ্ছে সৃষ্টিগত দিক থেকে উভয়ের কাঠামোগত ভিন্নতা। তাই রুকু, সিজদাহসহ যে সকল বিষয়ে ভিন্ন হওয়ার ব্যাপারে ফুকাহায়ে কিরামের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সে সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণনা রয়েছে। যেমন সিজদার পদ্ধতিতে ভিন্নতা প্রসঙ্গে হাদীসে এসেছে-

عن يزيد بن أبي حبيب، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر على امرأتين تصليان فقال: إذا سجدتما فضما بعض اللحم إلى الأرض فإن المرأة ليست في ذلك كالرجل

-তাবিঈ ইয়াযিদ ইবনে আবী হাবীব (র.) বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযরত দুই মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তাদেরকে বললেন, যখন সিজদা করবে তখন শরীর যমীনের সাথে মিলিয়ে দিবে। কেননা মহিলারা এক্ষেত্রে পুরুষদের মতো নয়। (আল মারাসিল লি আবী দাউদ, হাদীস নং ৮৭; সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং ৩২০১; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং ৪০৫৪)

সিজদা ও বৈঠক বিষয়ে ভিন্নতা সম্পর্কে অন্য হাদীসে এসেছে-

‎عن عبد الله بن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: “إذا جلست المرأة في الصلاة وضعت فخذها على فخذها الأخرى، وإذا سجدت ألصقت بطنها في فخذيها كأستر ما يكون لها، وإن الله تعالى ينظر إليها ويقول: يا ملائكتي أشهدكم أني قد غفرت لها

-হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, মহিলা যখন নামাযের মধ্যে বসবে তখন যেন এক (ডান) উরু অপর উরুর উপর রাখে। আর যখন সিজদা করবে তখন যেন পেট উরুর সাথে মিলিয়ে রাখে, যা তার সতরের জন্য অধিক উপযোগী। আল্লাহ তাআলা তাকে দেখে (ফিরিশতাদেরকে সন্বোধন করে) বলেন, হে ফিরিশতারা! তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। (সুনানে বায়হাকী, হাদীস নং ৩১৯৯)

হাত উত্তোলন সম্পর্কে ভিন্নতা প্রসঙ্গে হযরত ওয়াইল ইবনে হুজরের বণিত হাদীসে এসেছে-

‎فقال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: يا وائل بن حجر، إذا صليت فاجعل يديك حذاء أذنيك، والمرأة تجعل يديها حذاء ثدييها

-হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে ওয়াইল ইবনে হুজর! যখন তুমি নামায শুরু করবে তখন কান বরাবর হাত উঠাবে। আর মহিলা হাত উঠাবে বুক বরাবর। (আল মু’জামুল কাবীর, হাদীস নং ২২)

মৌলিকভাবে নারীদের নামাযের পদ্ধতির বর্ণনা সম্পর্কে হাদীসে এসেছে- عن ابن عباس أنه سئل عن صلاة المرأة، فقال: تجتمع وتحتفر

-হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কে মহিলাদের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো। তিনি বললেন, খুব জড়সড় হয়ে অঙ্গের সাথে অঙ্গ মিলিয়ে নামায আদায় করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বাহ, হাদীস নং ২৭৭৮)

আর এভাবে অন্যান্য স্থানের ভিন্নতা ও হাদীস শরীফের গ্রহণযোগ্য বর্ণনায় আলোকে স্থিরকৃত। তাই এ সম্পর্কে ফুকাহায়ে কিরামের সিদ্ধান্তের বিপরীতে সন্দেহ পোষণ কিংবা প্রশ্ন উত্থাপন অযৌক্তিক।

জবাবদাতা: প্রিন্সিপাল ও খতীব, আল ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার
মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র

ফেইসবুকে আমরা...