Logo
হুথি-সৌদি সংঘাত: ইরান যুদ্ধের ধারাবাহিকতা নাকি ইয়েমেন সংকটের নব পর্যায়?
মুহাম্মাদ বিন নূর
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬

গত জুলাইয়ে ইয়ামানের সানআ বিমানবন্দরে সৌদি জোটের হামলার পর সৌদি আরব এবং ইয়ামানের হুথিদের মধ্যে যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছে, তা আসলে ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের ফলে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটেরই একটি নতুন ফ্রন্ট, নাকি ইয়ামানে এক দশকেরও বেশি সময় থেকে চলমান সংকটের নব পর্যায়, এক কথায় এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বেশ কঠিন।

পুরো বিষয়টি সহজভাবে দেখলে- ইয়ামানের হুথিগোষ্ঠী এবং সৌদি তথা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে ২০১৫ সাল থেকে যে গৃহযুদ্ধ চলছিল, সৌদি আরব সে যুদ্ধকে ইয়ামানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে না দেখে সরাসরি তাতে অংশ নেয়। স্বভাবতই হুথিরাও জবাবে মূল সৌদি ভূখণ্ডে বিভিন্ন সময় আক্রমণ চালিয়েছে।

অবশেষে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়ামানের অভ্যন্তরে উভয়পক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়িত হয়। সে যুদ্ধবিরতি চুক্তি পরবর্তীতে আর নবায়ন না হলেও এর মাধ্যমে যে ‘আপেক্ষিক শান্তি’ প্রতিষ্ঠা হয়, তা মোটামুটি টেকসই ছিল বলা চলে। এরপর ২০২২-২৩ সালে ওমান ও চীন মধ্যস্থের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। একদিকে মাসকাটে হুথিদের সঙ্গে সৌদিদের সরাসরি শান্তি আলোচনা, অন্যদিকে বেইজিংয়ে ইরান-সৌদি সমঝোতা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার চুক্তি, সব মিলিয়ে সৌদি-ইয়ামানের মধ্যে এক ধরনের স্থিতাবস্থা তৈরি হয়।

তাতে ইয়ামানের পরিস্থিতি যে খুব স্বাভাবিক হয়েছিল, তা নয়— কিন্তু খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছিল তো বটেই। এমনকি হুথি নিয়ন্ত্রিত সানআর বিমানবন্দর থেকে হজ্জযাত্রীদের ফ্লাইট সৌদিতে গমন করতো, যদিও সে বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ খুব স্পষ্ট ছিল না, কিন্তু বাস্তবে হুথিদের এলাকাতেই সেটির অবস্থান। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত এই স্থিতাবস্থা বজায় থাকার পেছনে একই সঙ্গে ইয়ামানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, হুথিদের প্রধান মিত্র ইরানের সাথে সৌদির মোটামুটি সুসম্পর্ক, হুথিদের সাথে সৌদিদের এক ধরনের সমঝোতা — সবকিছুরই সম্মিলিত ভূমিকা ছিল।

এর মধ্যে হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। আল-আকসা’র তুফান শুরু হলে হুথিরা গাযার প্রতিরোধযোদ্ধাদের সমর্থনে বাব এল-মান্দেব অবরোধ করে। এতে ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সাথেও হুথিদের মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় কোনও পক্ষকেই না জানিয়ে, বিশেষত ইসরায়েলের সাথে কোনও ধরনের আলোচনা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের সাথে যুদ্ধিবিরতি চুক্তিতে প্রবেশ করে। হুথিগোষ্ঠীর সাথে এটি ছিল প্রথম কোন মার্কিন সমঝোতা। তখন এই ঘটনায় ইসরায়েল প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হলেও সৌদির তাতে বিশেষ কোন আপত্তি ছিল না, যেহেতু তারাও হুথিদের সাথে কোনও ধরনের সংঘর্ষের মধ্যে ছিল না।

পুরো পরিস্থিতি বদলে যায় ২০২৬ সালে, ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের পর। হুথিরা ‍যদিও ইরানের আওতাধীন কোন সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়, তাদের নিজেদের স্বকীয় কৌশল আছে, স্বার্থ আছে, সে অনুযায়ী প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে, কিন্তু তারা যে ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র, তা তো সকলেরই জানা। ফলে ইরান সৌদিসহ উপসাগরীয় রাষ্ট্রসমূহের উপর হামলা শুরু করলে স্বভাবতই সৌদির নযর পড়ে হুথিদের ওপর।

তখনও হুথিরা ইরানের সমর্থনে একটি গুলিও ছোড়েনি— সৌদিকে লক্ষ্য করেও না, বাব এল-মান্দেব অবরোধের জন্যও না। যদিও ইরান হরমুজ অবরোধের পর থেকেই বলে আসছিল, প্রয়োজনে আরেকটি জলপথও অবরোধ করা হবে, স্পষ্টতই তাদের ইঙ্গিত ছিল হুথিদের সহায়তায় বাব এল-মান্দেব অবরোধের দিকে।

এই পরিস্থিতিতেই ইয়ামানের ভিতরেও পরিস্থিতি খানিকটা বদলাতে শুরু করে, সৌদি সমর্থিত শাসক এবং হুথিগোষ্ঠী উভয়েই নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধির চেষ্টা শুরু করে, দেশটির অভ্যন্তরের যে স্থিতাবস্থা চলছিল ২০২৩ সাল থেকে, তাতে কিছুটা পরিবর্তন আসে, সেই সাথে হরমুজ বন্ধ হওয়াতে বাব এল-মান্দেবের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায় সকল পক্ষের নিকটই।

ইরান যুদ্ধ এবং ইয়ামানের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বদলের ফলে হুথিদের সামরিক সক্রিয়তার একটি সম্ভাবনা যখন তৈরি হয়েছে, সেই মুহূর্তে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সানআ বিমানবন্দরে সৌদি সমর্থিত জোটের আক্রমণের ফলে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পায়। হুথিদের দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দাফনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া প্রতিনিধি দলের বিমান অবতরণে বাধা দেওয়া শুধু রাজনৈতিকই নয়, ধর্মীয় দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল।

আবার সৌদি আরব ও সৌদি সমর্থিত ইয়ামানেরে সরকারের জন্য চলমান পরিস্থিতিতে সানআর সাথে ইরানের সরাসরি বিমান যোগাযোগ কৌশলগত ঝুঁকির কারণ বলে বিবেচিত হচ্ছিল। সৌদি সমর্থিত সরকার এই পরিস্থিতিতে হুথি প্রতিনিধি দলের দেশে ফেরার জন্য ইয়ামানী এয়ারলাইন্স ব্যবহারের প্রস্তাব দিলে হুথিরা তা প্রত্যাখ্যান করে। হুথিরা ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইটে সানআয় অবতরণ করতে চাইলে সৌদি সমর্থক জোট তা প্রত্যাখ্যান করে।

আপাতদৃষ্টিতে ২০২৬ সালে সৌদি-হুথি সংঘর্ষের প্রত্যক্ষ সূচনাবিন্দু এই ঘটনা। জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ সেপ্টেম্বরে এসে বেশ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। সানআ বিমানবন্দরের বিপরীতে সৌদির আবহা বিমানবন্দরে হুথিরা হামলা চালালেও ঘটনা সেখানে থেমে থাকেনি। সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে হুথিরা হামলা চালায়। এর মধ্যে কৌশলগত দিক থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হচ্ছে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনে ড্রোন হামলা। এই হামলা ইরাকের অভ্যন্তর থেকে হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও কিন্তু হুথিদের সংশ্লিষ্টতা বিশ্লেষকদের চোখে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয়। বিশষত ইরানের নেতৃত্বাধীন “প্রতিরোধ অক্ষের” প্রতিটি শক্তি আসলে ইরান, ইরাক, ইয়ামান, লেবানন সব দেশের ভিতরেই কমবেশি সক্রিয়। কাজেই ইরাকের অভ্যন্তর থেকেও হুথি হামলা একেবারে অসম্ভব নয়। আবার ইরাকের স্থানীয় ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের দ্বারাও এ ঘটনা ঘটার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

হরমুজ অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় এই পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ছিল সৌদি আরবের তেল রফতানির প্রধান মাধ্যম। ধারণা করা হচ্ছিল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে চূড়ান্ত আক্রমণ হলেই কেবল এই পাইপলাইন আক্রান্ত হতে পারে, কিন্তু বাস্তবে তার আগেই এ হামলা সৌদি আরবের তেল রফতানিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়। এই হামলা হুথিদের দ্বারা হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত না হলেও বাব এল-মান্দেবে সৌদি জাহাজের বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণা, ইয়ানবু ও জাযানে সৌদি জ্বালানি অবকাঠামোতে হুথিদের হামলা, আরামকোসহ আরো বিভিন্ন অবকাঠামোতে হুথিদের হামলার বিষয়সমূহ হুথিরাই নিশ্চিত করেছে। এই প্রতিটি ঘটনার প্রত্যক্ষ সূচনাবিন্দু সানআ বিমানবন্দরে সৌদি হামলা, কিন্তু বাস্তবে ইরান যুদ্ধের ধারাবাহিকতা থেকে এ সকল ঘটনাকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ খুবই কম। যদিও ইরান এখন কিছুটা কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখতে চাচ্ছে এসব কিছু থেকে।

হরমুজ অবরুদ্ধ, পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন বিধ্বস্ত– এই অবস্থায় সৌদির হাতে আর একটি মাত্র বিকল্প পথ অবশিষ্ট থাকে, সেটি হচ্ছে বাব এল-মান্দেব। বাব এল-মান্দেবের আশপাশে আগে থেকেই হুথিদের কৌশলগত অবস্থান ছিল, ২০২৬ সালে এসে সে অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে, এবং তারা সৌদির বিরুদ্ধে অবরোধ ঘোষণা করেছে! ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সৌদি আরবের তেল রফতানির জন্য অনেকগুলো বিকল্প রাস্তার যে কৌশলগত সুবিধা, ইরান ও তাদের মিত্রদের দ্বারা সেই সব কয়টি বিকল্পই বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব এবং সৌদি সমর্থিত ইয়ামান সরকার বলা চলে সেপ্টেম্বরে এসে পূর্ণ মাত্রায় যুদ্ধে ফিরে যায়। ২০২২-২০২৩ সাল থেকে যে স্থিতাবস্থা কার্যকর ছিল, তা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। ইয়ামানের ভিতরে যেমন দুই ইয়ামানী পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ এবং বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই চলছে, একইভাবে সৌদি আরবও আবার সরাসরি এই যুদ্ধে পূর্ণ মাত্রায় অংশ নিচ্ছে। জবাবে হুথিরাও সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে নিয়মিত।

এই পরিস্থিতিতে হুথিদের কয়েকটি ড্রোন হামলা নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় এসকল ড্রোন “মক্কা শরীফের দিকে” যাচ্ছিল, পথিমধ্যে আটকানো হয়েছে। এধরনের অভিযোগ অবশ্য ২০১৬-১৭ সালেও শোনা গিয়েছিল। হুথিরা স্পষ্টত সৌদিদের এ দাবি অস্বীকার করে জানায় যে, তাদের প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু মক্কা নগরী নয়, বরং সৌদি আরবের জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো।

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো উভয়পক্ষের দাবির মধ্যে শব্দগত তফাত রয়েছে। সৌদির মূল দাবি মক্কার “দিকে” ড্রোন যাচ্ছিল, মক্কার “নিকটে” সেসকল ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। ভৌগলিক কারণে ইয়ামান থেকে মক্কা শরীফ ছাড়াও জেদ্দা, তায়েফ কিংবা ইয়ানবু অঞ্চলে ড্রোন হামলা করলেও মক্কার “দিকে” এবং মক্কার “নিকটে” কথা দুটি সত্য হতে পারে, কিন্তু এর মাধ্যমে মক্কা শরীফকে লক্ষ্য করে হামলা প্রমাণিত হয় না।

অন্যদিকে হুথিদের মূল দাবি হচ্ছে তারা মক্কার “উদ্দেশ্যে” কোন ড্রোন হামলা করেনি। ফলে উভয় বিবৃতি শাব্দিক দিক থেকে সঠিক হওয়া সম্ভব, যদিও উভয়পক্ষের মূল উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বয়ান প্রতিষ্ঠা করা। উল্লেখ্য সামরিক, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর অবস্থান বিবেচনায় হুথিরা জেদ্দা, তায়েফ কিংবা ইয়ানবু অঞ্চলে হামলা করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে তারা এসকল লক্ষ্যবস্তুর কথা স্বীকারও করেছে।

কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সৌদির পক্ষে বয়ান নির্মাণের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অদ্ভুত সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। সম্পূর্ণ ভূরাজনৈতিক একটি পরিস্থিতিকে মাত্রাতিরিক্ত ধর্মীয় রূপ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বয়ান প্রচার এবং এ সকল বয়ানের সপক্ষে ভুয়া ভিডিও প্রচারও লক্ষণীয়। যদিও এগুলো সরাসরি সৌদি সরকারের প্রচারণা নয়, মূলত সৌদি আরব যে বয়ান ছড়াতে তাদের অবস্থান ঠিক করেছে, সে বয়ানের পক্ষেই সৌদিপন্থীদের এসব প্রচেষ্টা লক্ষণীয়। ইয়ামানে সৌদি আরবের ভূমিকা কতটা নৈতিক, সে আলোচনা না করেই পবিত্রভূমির যুক্তিতে সৌদির বিরুদ্ধে কোন ধরনের আক্রমণকে ধর্মীয় ভাবাবেগের সাথে মেশানোর এক ধরনের প্রচেষ্টা শুধু আরব বিশ্বেই নয়, বাংলাদেশেও যথেষ্ট পরিমাণে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যের মূল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এসব পার্শ্ববর্তী বিষয়। ইসরায়েলের আহ্বানে ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া অবৈধ যুদ্ধের পারিপার্শ্বিক ঘটনা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক ঘটনাই ঘটছে। ইয়ামানের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আংশিক সত্য, পাশাপাশি তাদের অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশও এক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে এবারের যুদ্ধেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং হুথিদের মধ্যে ২০২৫ সালে সম্পন্ন শান্তিচুক্তি অব্যাহত রয়েছে, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও হুথি— উভয়পক্ষের আগ্রহেই অব্যাহত রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র হুথিদেরকে আপাতত ইরানের মিত্র হিসেবে না দেখে সৌদি আরবের নিজস্ব সমস্যা হিসেবে দেখছে, হুথিরাও শক্তিশালী মিত্র ইরানের জন্য সুবিধা করে দিতে চাইলেও সেটা কেবলই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নিজেদের হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করার মাধ্যমেই করবে, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কারো মুখোমুখি হতে অন্তত এখনো তারা আগ্রহী নয়। ফলে ইয়ামানের বর্তমান পরিস্থিতিকে ইরান যুদ্ধের ধারাবাহিকতা নাকি ইয়ামান সংকটের নব পর্যায় কোনটাই এক কথায় বলা সম্ভব নয়। আর সে জন্যই, এ সংকটের সমাধানও তুলনামূলক জটিল আকার ধারণ করেছে।

ফেইসবুকে আমরা...