Logo
রোগী দেখতে যাওয়া; একটি হারিয়ে যাওয়া সুন্নাহ
যুবাইর মাবরুর
  • ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আমরা ক্রমশ আধুনিক হচ্ছি। যুগের স্রোতে গা ভাসিয়ে নিজেদের চিরচেনা পথ থেকে হারিয়ে যাচ্ছি বহুদূরে। আমরা মূল থেকে বিচ্ছিন্ন শাখা প্রশাখা হয়ে দিকভ্রান্তের মতো ছুটে বেড়াচ্ছি। কিছুদিন আগের সমাজ চিন্তা করলেও আমরা দেখতে পাই, শান্ত সুন্দর এক সমাজের। মানুষে মানুষে আত্মিক বন্ধন। আনন্দ ভাগাভাগি কিংবা কষ্টে সহমর্মী হয়ে চলা আমাদের বাবা চাচাদের। আমাদের বাড়ি, পাড়া, গ্রাম ছিল আন্তরিকতায় ভরপুর। রোগে শোকে নির্ভরতার হাত একে অপরের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে তাদের জীবন চলেছে। প্রযুক্তির কল্যাণে আমরা একা থেকে আরো একা হয়ে যাচ্ছি। বদ্ধ ঘরে বসে থেকে ইন্টারনেটের রঙিন দুনিয়ায় ভেসে যায় আমাদের সময়। সামাজিকতা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। পাশের ঘরে বা পাশের বাড়িতে কী হচ্ছে সে খবর আমরা জানি না। আদর্শ সমাজ বিনির্মানে ইসলাম অনন্য কিছু নীতির প্রচলন করেছে। তার মধ‍্যে অন‍্যতম হচ্ছে খিদমতে খালক বা সৃষ্টির সেবা। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে শুধু মানুষ না অন‍্যান‍্য মাখলূকের প্রতিও মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। সৃষ্টির সেবা করার মধ‍্য দিয়ে একজন মানুষ তার রবের নিকটবর্তী হতে পারে খুব সহজেই। এমনকি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার রহমত লাভের অন‍্যতম মাধ‍্যম হলো সৃষ্টির প্রতি দয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ ارْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ.

-আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি অনুগ্রহকারীদের প্রতি রাহমান রাহীম আল্লাহ অনুগ্রহ করেন, তোমরা যমীনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো তাহলে আকাশের মালিক তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। (আবূ দাঊদ, হাদীস-৪৯৪১; তিরমিযী, হাদীস-১৯২৪)

সৃষ্টির প্রতি দয়া করার অন‍্যতম এক পদ্ধতি হলো অসুস্থ মানুষের সেবা করা। তাদের দেখতে যাওয়া। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদত ছিল কোন মানুষের অসুস্থতার খবর শুনলে তাকে দেখতে যাওয়া। সীরাতে এমন ঘটনা অহরহ দেখা যায়। শুধু যে মুসলমানদের দেখতে যেতেন তা না, বিধর্মী কেউ অসুস্থ হলে তাকেও তিনি দেখতে যেতেন। মদীনা শরীফে এক ইয়াহুদী বালক ছিল। মাঝে মাঝে সে নবীজির খিদমত করত। একবার সে অসুস্থ হয়ে পড়লে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  তাকে দেখতে গেলেন। নবীজি তার ঘরে গিয়ে তার মাথার নিকট বসে বললেন, তুমি ইসলাম গ্রহণ করে নাও। পাশেই ছিল তার বাবা। নবীজির এ কথা শুনে বালকটি অভিমত জানার জন্য তার বাবার দিকে তাকাল। তার বাবা তাকে বললো, তুমি আবুল কাসিম (নবীজির উপনাম) কে মেনে নাও। বাবার অনুমতি পেয়ে ছেলে ইসলাম গ্রহণ করে নিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘর থেকে বের হয়ে বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি একে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়েছেন (বুখারী, হাদীস-১৩৫৬)। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলতে গিয়ে সায়‍্যিদুনা উসমান (রা.) বলতেন, আমরা সফর ও সফর ছাড়া সব অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছি। তিনি আমাদের অসুস্থতার খোঁজ-খবর রাখতেন। আমাদের জানাযার সাথে সাথে যেতেন। আমাদের সাথে জিহাদ করতেন। অল্প হোক বেশি হোক যা থাকত তা দিয়েই আমাদের প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করতেন (মুসনাদে আহমাদ: ৫০৪)। তিনি নিজে এ কাজ করে থেমে থাকেননি, আমাদেরকে নির্দেশও দিয়ে গেছেন। অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়ার জন্য রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিয়ে বলেছেন-

عَنْ أَبي مُوسَى رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: أَطْعِمُوا الجَائِعَ، وَعُودُوا المَرِيضَ، وَفُكّوا العَانِيَ.

-আবূ মূসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাও এবং বন্দিকে মুক্ত কর। (বুখারী, হাদীস-৫৩৭৩) বুখারী শরীফের অপর হাদীসে এসেছে-

أَمَرَنَا النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِسَبْعٍ، وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ فَذَكَرَ: عِيَادَةَ المَرِيضِ، وَاتِّبَاعَ الجَنَائِزِ، وَتَشْمِيتَ العَاطِسِ، وَرَد السّلاَمِ، وَنَصْرَ المَظْلُومِ، وَإِجَابَةَ الدّاعِي، وَإِبْرَارَ المُقْسِمِ.

-হযরত বারা ইবনু আযীব (রা.) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি বিষয় করতে নির্দেশ দিয়েছেন আর সাতটি বিষয় থেকে নিষেধ করেছেন। এরপর তিনি উল্লেখ করেন, রোগীর সেবা করা, জানাযার সাথে সাথে চলা, হাঁচির উত্তর দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, মাযলুমকে সাহায্য করা, দাওয়াতে সাড়া দেওয়া এবং কসমকারীর কসম পূরণ করা। (বুখারী, হাদীস-২৪৪৫)

ইসলাম এক মুসলমানের প্রতি আরেক মুসলমানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে সামাজিক সহাবস্থান এবং মানবতার এক মহান দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি প্রতিবেশীর হক আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ e আমাদেরকে অপর ভাইয়ের হক আদায়ের ব্যাপারে তাকীদ দিয়েছেন-

 عن أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ‏.‏ قِيلَ مَا هُنَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏”‏ إِذَا لَقِيتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ وَإِذَا دَعَاكَ فَأَجِبْهُ وَإِذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ وَإِذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللَّهَ فَسَمِّتْهُ وَإِذَا مَرِضَ فَعُدْهُ وَإِذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ. 

-আবূ হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের ছয়টি হক রয়েছে। জিজ্ঞেস করা হলো, সেগুলো কী ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন, ১. কারো সাথে তোমার দেখা হলে তাকে সালাম করবে, ২. তোমাকে দাওয়াত করলে তা তুমি কবূল করবে, ৩. সে তোমার নিকট ভালো উপদেশ চাইলে তুমি তাকে ভাল উপদেশ দিবে, ৪. সে হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে, তার জন্য তুমি (ইয়ারহামুকাল্লাহ বলে) রহমাতের দুআ করবে, ৫. সে অসুস্থ হলে তার সেবা-শুশ্রুষা করবে এবং ৬. সে মৃত্যুবরণ করলে তার জানাযার সাথে যাবে (মুসলিম, হাদীস-৫৫৪৪)। একটি মানবিক সমাজ গঠনে এই একটি হাদীসই যথেষ্ট যদি যথাযতভাবে তা বাস্তাবায়ন করা যায়।

কোন মানুষ যখন অসুস্থ কাউকে দেখতে যায় তখন তার উপস্থিতি অসুস্থ লোকের মানসিক শান্তির একটা কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুন্দর কিছু কথা কিংবা একটুখানি সান্ত্বনা তার দুর্বল হৃদয়ে একটু সতেজতা দান করে। এই যে মানবতা, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এটাই ইসলামের শিক্ষা। কোন মুসলমান যখন অসুস্থ হয় তাঁকে দেখতে যাওয়া এবং তার সেবার জন্য এগিয়ে যাওয়া আরেক মুসলমানের উপর আবশ্যক। কিয়ামতের দিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন-

আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিন বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কীভাবে আমি আপনাকে দেখতে যাব? আপনি তো সারা জাহানের পালনকর্তা। আল্লাহ পাক বলবেন, তুমি কি জানতে না যে, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল; তুমি তাকে দেখতে যাওনি। তুমি কি জানতে না যে, তুমি যদি তাকে দেখতে যেতে তাহলে অবশ্যই তুমি আমাকে তার কাছে পেতে।

হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে খাবার দাওনি। সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনাকে কীভাবে খাবার দেব? আপনি তো সারা জাহানের প্রতিপালক! আল্লাহ বলবেন, তোমার কি মনে নেই, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল; কিন্তু তাকে তুমি খাবার দাওনি। তোমার কি জানা ছিল না যে, যদি তাকে খাবার দিতে, তাহলে অবশ্যই তা আমার কাছে পেতে।

হে আদম সন্তান! তোমার কাছে আমি পানি পান করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পান করাওনি। বান্দা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আপনাকে কেমনে পানি পান করাবো? আপনি তো সমগ্র জগতের প্রতিপালক? তিনি বলবেন, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল; তুমি তাকে পান করাওনি। তুমি কি জানতে না যে, যদি তাকে পান করাতে, তাহলে তা অবশ্যই আমার কাছে পেতে। (মুসলিম: ২৫৬৯)

অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়া অনেক বড় সওয়াবের কাজ। বিভিন্ন হাদীসে রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াদাতুল মারিদ-এর ফদীলত বর্ণনা করেছেন।

عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، يَقُولُ: « مَا مِنْ مُسْلِم يَعُودُ مُسْلِماً غُدْوةً إِلاَّ صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يُمْسِي، وَإِنْ عَادَهُ عَشِيَّةً إِلاَّ صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يُصْبحَ، وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ في الْجَنَّةِ.

-আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে কোন মুসলিম অন্য কোন (অসুস্থ) মুসলিমকে সকাল বেলায় কুশল জিজ্ঞাসা করতে যাবে, তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফিরিশতা কল্যাণ কামনা করেন। আর যদি সে সন্ধ্যা বেলায় তাকে কুশল জিজ্ঞাসা করতে যায়, তাহলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফিরিশতা তার মঙ্গল কামনা করেন। আর তার জন্য জান্নাতের পাঁকা ফল নির্ধারিত হবে। (তিরমিযী:৯৬৭)

রোগীর সেবায় ব‍্যয় করা প্রতিটা সময় জান্নাতের বাগানে  অবস্থান করার মতো। আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-

وَعَنْ ثَوبَانَ رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: « إنَّ المُسْلِمَ إِذَا عَادَ أخَاهُ المُسْلِمَ، لَمْ يَزَلْ في خُرْفَةِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَرْجِعَ ». قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَمَا خُرْفَةُ الجَنَّةِ ؟ قَالَ: « جَنَاهَا ». رواه مسلم

-হযরত সাওবান ( রা.) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন মুসলিম যখন তার অন্য কোন মুসলিম ভাইয়ের রোগ জিজ্ঞাসা করতে যায়, সে না ফেরা পর্যন্ত জান্নাতের ‘খুরফার’ মধ্যে সর্বদা অবস্থান করে। জিজ্ঞাসা করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! খুরফাহ কী? তিনি বললেন, জান্নাতের পাঁকা ফল। (মুসলিম-২৫৬৮)

অসুস্থ মানুষের সেবা করা জান্নাতী মানুষের লক্ষণ। সহজে জান্নাত লাভের এক অপূর্ব সুযোগ হলো পীড়িত মানুষের সেবা। হাদীসে এসেছে-

مَنْ عَادَ مَرِيضًا، نَادَى مُنَادٍ مِنَ السّمَاءِ: طِبْتَ، وَطَابَ مَمْشَاكَ، وَتَبَوّأْتَ مِنَ الْجَنّةِ مَنْزِلًا.

-হযরত আবূ হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলু্ল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোনো মুসলিম অপর কোনো অসুস্থ ভাইয়ের সেবা করে তখন আসমানে এক ঘোষক ঘোষণা করেন, তুমি ধন্য। তোমার পথচলা মসৃণ হোক। তুমি জান্নাতে ঠিকানা বানিয়ে নিয়েছ। ( তিরমিযী, হাদীস-২০০৮; ইবন মাজাহ, হাদীস-১৪৪৩)]

কোন অসুস্থ মানুষকে দেখতে গেলে আপনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা শিখবেন। অনুভব করতে পারবেন আল্লাহ পাক আপনাকে কতটুকু ভালো রেখেছেন। অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শে গেলে মন নরম হয় এবং আখিরাতের কথা স্মরণ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

عُودُوا المريضَ، واتَّبِعوا الجَنائِزَ تُذَكِّرْكُم الآخرةَ.

-আবূ সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তেমরা অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করো এবং জানাযার সাথে সাথে চলো। এগুলো তোমাদেরকে পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে। (মুসনাদে আহমদ: ১১৪৪৫)

অসুস্থ মানুষের দুআ কবূল হয়। তাদের দুআ নেয়ার জন‍্যও তাদেরকে দেখতে যাওয়া। রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

إذا دَخَلْتَ على مريضٍ فمُرْهُ يَدْعُو لك، فإنَّ دعاءَه كدعاءِ الملائكةِ.

-হযরত উমর ইবন খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যখন কোন অসুস্থ মানুষের শয‍্যা পাশে যাবে তখন তাকে তোমাদের জন‍্য দুআ করার অনুরোধ করবে। কেননা অসুস্থ মানুষের দুআ ফেরেশতার দুআর মতো। (ইবনু মাজাহ: ১৪৪১)

 

অসুস্থ মানুষের পাশে গেলে তাদের সুস্থতার জন‍্য দুআ করার পদ্ধতিও রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়ে দিয়েছেন। বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে এসেছে উম্মুল মুমিনীন আয়িশা (রা.) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোন অসুস্থ মানুষ আসলে তিনি দুআ করতেন,

أذهب البأس، رب الناس، اشف وأنت الشافي، لا شفاء الا شفاؤك، شفاء لا يغادر سقما

-হযরত আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন এমন কোন অসুস্থ লোকের শিয়রে যাবে যার মৃত‍্যুর সময় এখনো উপস্থিত হয়নি তখন সাতবার এই দুআ পাঠ করবে,

أَسْأَلُ اللهَ العَظيمَ رَبَّ العَرْشِ العَظِيمِ أَنْ يَشْفِيَك

-আল্লাহ তাকে সে রোগ থেকে সুস্থতা দান করবেন। (মুসতাদরাক আলাস সাহীহাইন: ১৩০৮)

আল্লাহ পাক আমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ এ সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন। আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরো দৃঢ় করে দিন। আমাদেরকে অপরের প্রতি সহমর্মী বানিয়ে দিন। আমাদের অন্তরকে রাব্বুল আলামীনের সৃষ্টির প্রতি দয়া করার তাওফীক দান করুন।

ফেইসবুকে আমরা...