প্রস্তাবনা
আজ হতে প্রায় ১৩ বছর আগের কথা। আমি তখন ঢাকায় নতুন এসেছি। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল (বিশেষত সীমান্তবর্তী জেলা) থেকে ঢাকায় আসলে প্রায়শ যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় সেটি হলো ভাষা। আমার সেই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছিল। এর অন্যতম কারণ আমি সিলেট থেকে এসেছিলাম! ঠিক সিলেট বললে ভুল হবে; আমার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার। ঢাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতসহস্র শিক্ষার্থীর সংসর্গে থাকার সুবাদে একটি বিষয় আমি লক্ষ করেছি, সাধারণত দুটি বিভাগের মানুষকে তাদের গ্রামের বাড়ি কোথায় জিজ্ঞেস করলে তাঁরা জেলার পরিবর্তে বিভাগের নাম বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একটি হলো সিলেট বিভাগের মানুষ আর অপরটি বরিশাল বিভাগের।
বাংলাদেশে সচরাচর দুটি আঞ্চলিক ভাষাকে দুর্বোধ্য মনে করা হয়। একটি হলো চাটগাঁইয়া বা চিটাইঙ্গা ভাষা (চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা) আর অন্যটি সিলেটি ভাষা। এর সাথে আমি আরও একটি কথা যোগ করতে চাই, এই দুটি ভাষা হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও বৃহৎ আঞ্চলিক ভাষা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্ষিক ভাষাবিষয়ক প্রকাশনা Ethnologue এর ২০২৫ সালের Ethnologue 200 তালিকায় চাটগাঁইয়া ভাষা ও সিলেটি ভাষার অবস্থান যথাক্রমে ৯৮তম (১ কোটি ৩০ লক্ষ ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী) ও ১১৭তম (১ কোটি ১৫ লক্ষ ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী)।
সিলেটিদের পক্ষে পুরাপুরি শুদ্ধ বাংলায় কথা বলা যে কতটা কঠিন তা ঢাকায় না আসলে বুঝতে পারতাম না। আমার অশুদ্ধ বাংলার জন্য শিক্ষক আর সহপাঠীদের কাছে কতবার যে সমালোচিত হয়েছি তার কোনো ইয়ত্তা নেই। একটি কথা তো অনেকের মুখে প্রায়ই শুনতাম, সিলেটি ভাষা নাকি বাংলা ভাষার হাত—পা ভেঙে দিয়েছে! এই কথাটি শুনলেই আমি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হতাম। আমার মনে তখন প্রশ্ন জাগত, সিলেটি ভাষা কেন বাংলা ভাষার হাত—পা ভাঙতে যাবে বা আসলেই ভেঙেছে কিনা! এরপর থেকেই মূলত সিলেটি ভাষা নিয়ে জানার আগ্রহ তৈরি হয়।
২০১৩ সালের মে মাস, আমি তখন গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। একদিন পারিবারিক গ্রন্থাগারে বই ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম। হঠাৎ একটি বই নযরে পড়ল ‘আমাদের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা: উত্তরাধিকার ও মুসলমানী নাগরী’। তারপর কয়েকদিন সিলেটি ভাষার ইতিহাসসংশ্লিষ্ট কিছু বইপত্র পড়লাম। একদিন সেগুলো নিজের মতো করে বাক্যালাপ আকারে ডায়েরিতে লিখে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, কেউ সিলেটি ভাষা নিয়ে উপহাস করলে তাকে এই লেখা পড়তে দিব। এরপর বহু বছর কেটে যায়।
২০২০ সালের মে মাস, ঠিক ৭ বছর পর, লকডাউনের আশীর্বাদে (আশীর্বাদই বলব কেননা একমাত্র লকডাউনই আমার মতো যাযাবর মানুষকে ২০১২ সালের পর কয়েক মাস এক গৃহে থাকতে বাধ্য করেছে) বাড়িতে অলস দিন কাটাচ্ছিলাম। একদিন ছোটবেলায় টিফিনের টাকা দিয়ে কেনা গল্পের বইগুলো বের করে পড়ছিলাম। কোথাও যেন পড়েছিলাম, মানুষ যতই বড় হতে থাকে তার মন ততই ছোট হতে থাকে। নিদেনপক্ষে আমার মধ্যে এই বিষয়টা খুব গভীরভাবে কাজ করে। এই জন্যই বোধহয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পরেও আমার সেই শৈশবের এসপের গল্পগুলো পড়তে বেশ ভালো লাগছিল।
ডায়েরিটার দিকে সহসাই দৃষ্টি পড়েছিল। পাতা ওলটাতে ওলটাতে লেখাটি দেখতে পেয়েছিলাম। আমি তখন কী পরিমাণ যে আশ্চর্য হয়েছিলাম তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। আমার মধ্যে যেন সেই কিশোর ফারহীর প্রতিবাদী রূপটা জেগে ওঠেছিল। যাকে কেউ ন্যূনতম বিদ্রুপ করলে তার উপযুক্ত জবাব না দিয়ে সে ক্ষান্ত হতো না। অতঃপর বহুকাল অতিক্রান্ত হয়। একদিন চিন্তা করলাম কথাগুলো শেয়ার করা দরকার। অন্তত নবাগতদের প্রেরণা জোগাবে। আমি এটা বলছি না যে, প্রমিত বাংলা শিখবেন না, বরং বলছি প্রমিত বাংলার পাশাপাশি নিজের মাতৃভাষাটাও ধরে রাখবেন। আমি অধিকন্তু বিশ্বাস করি যে, কারো মাতৃভাষা নিয়ে ব্যঙ্গ করা এক ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতা। লেখাটি কিশোর ফারহীর দ্বারা রচিত। শব্দচয়ন ও ভাষার ব্যবহার যেভাবে ছিল সেভাবেই রেখে দিয়েছি। এভাবেই স্মৃতিগুলো বেঁচে থাক হাজার বছর ধরে…
আমার আপন মাতৃভাষা
কী ভেবেছেন? বাংলার কথা বলব?
— না, একদমই না। বাংলাদেশের অধিবাসী হলেই যে মাতৃভাষা বাংলা হতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই।
— হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, বাংলা আমার রাষ্ট্রভাষা; কিন্তু আমার মাতৃভাষা নয়।
তাহলে আমার মাতৃভাষা কী?
— সিলেটি ভাষা।
কথাটি হাস্যকর তাই না?
— মোটেই না।
মাতৃভাষার সংজ্ঞা কী?
— – Oxford Advanced Learner’s Dictionary তো বলছে—The language that you first learn to speak when you are a child!— কই! আমি তো প্রথম বাংলা ভাষা শিখিনি। আমার মায়ের ভাষা সিলেটি। আমি সিলেটি ভাষাই শিখেছি।
এখন তো কেউ কেউ বলবেন— বাংলা ভাষার বিকৃত রূপ সিলেটি ভাষা। (সিলেটি ভাষা বাংলা ভাষার হাত—পা ভেঙে দিয়েছে!)
— আপনাকে কে বলল, সিলেটি ভাষা বাংলা ভাষার হাত—পা ভেঙেছে! আপনি সিলেটি ভাষা সম্পর্কে কতটুকু জানেন?
— আমি যদি প্রশ্ন করি, বাংলা ভাষা কোন ভাষাগোষ্ঠী থেকে এসেছে?
সবাই বলবেন— ইন্দো—ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠী থেকে।
— আপনি কি জানেন? সিলেটি ভাষাও ইন্দো—ইউরোপীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
— আপনি কি জানেন? সিলেটি ভাষাও বাংলা ভাষার মতো একটি ইন্দো—আর্য ভাষা!
— আপনি কী করে জানবেন! আপনি তো শুধু পারেন ভাষা নিয়ে ব্যঙ্গোক্তি করতে!
— এখন জেনে রাখুন:
— সিলেটি ভাষা বাংলা ভাষার হাত—পা ভাঙেনি। সিলেটি ভাষাও বাংলা ভাষার মতো একটি পূর্ণ বিকশিত ভাষা।
এখন বলবেন— সিলেটি ভাষা যদি একটি পূর্ণ বিকশিত ভাষা হয়ে থাকে তাহলে তোমরা লেখার জন্য বাংলা বর্ণমালা ব্যবহার করো কেন? তোমাদের কোনো বর্ণমালা নাই?
— আপনাকে কে বলল সিলেটি ভাষার বর্ণমালা নেই! প্রত্যেকটি পূর্ণ বিকশিত ভাষারই দুটি রূপ থাকে। একটি কথ্য রূপ আরেকটি লেখ্য রূপ। সিলেটি ভাষারও লেখ্য রূপ আছে।
কী সেটা? কখনো শুনলাম না তো!
— নাগরী লিপি। (এর আরও কয়েকটি নাম আছে— সিলেটি নাগরী, জালালাবাদী নাগরী, মোহাম্মদী নাগরী ও মুসলমানী নাগরী)
নাগরী লিপি! কোথায় যেন শুনেছি মনে হচ্ছে!
— আমি বলছি, কোথায় শুনেছেন! বলুন তো বাংলা লিপির উৎস কী?
এটা তো সবাই পারে— ব্রাহ্মী লিপি। ওহো! এখন মনে পড়েছে, নাগরী লিপি তো ব্রাহ্মী লিপির অন্তর্ভুক্ত।
— হ্যাঁ, জন্মগতভাবে নাগরী লিপি একটি ব্রাহ্মী লিপি।
তুমি যে একটু আগে নাগরী লিপির অন্যান্য নামের মধ্যে মোহাম্মদী লিপি ও মুসলমানী লিপি উল্লেখ করেছিলে এর কারণ কি? এর সাথে মুসলমানদের কী সম্পর্ক?
— এর পেছনে একটি ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। সিলেটি নাগরী লিপির উদ্ভব কেবল ভাষাতাত্ত্বিক প্রয়োজন থেকে নয়, বরং সিলেট অঞ্চলের মুসলিম সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় রক্ষার আকাক্সক্ষা থেকেও উৎসারিত। ১৩০৩ সালে প্রখ্যাত সূফী—সাধক শাইখ জালাল উদ্দীন আল মুজাররাদ ইয়ামিনী (শাহজালাল র.) এর নেতৃত্বে সিলেট বিজয়ের পর এতদাঞ্চলে ইসলাম ও সূফীবাদের বিস্তার লাভ করে। ফলে স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্যচর্চার ধারা গড়ে ওঠে। সেই সাহিত্যচর্চার জন্য এমন একটি লিপির প্রয়োজন দেখা দেয় যা সহজে লিখনযোগ্য, সাধারণ মানুষের বোধগম্য এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তৎকালীন সময়ে প্রচলিত দেবনাগরী লিপির সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতির ঘনিষ্ঠ সংযোগ থাকার কারণে সিলেটের মুসলিম সমাজ সেটিকে নিজেদের সাহিত্যচর্চার উপযোগী বলে মনে করেননি। ফলে তারা আরবী ও ফারসী হরফের প্রভাবকে ভিত্তি করে, কিন্তু স্থানীয় ভাষাগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি স্বতন্ত্র লিপি নির্মাণের দিকে অগ্রসর হন। এই প্রক্রিয়ার ফল হিসেবেই জন্ম নেয় সিলেটি নাগরী লিপি যা মুসলিম সমাজের হাতেই বিকশিত, লালিত ও ব্যবহৃত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক বাস্তবতার কারণেই সিলেটি নাগরী লিপিকে অনেক সময় ‘মুসলমানী নাগরী’ বা ‘মোহাম্মদী লিপি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। হযরত শাহজালাল ও তাঁর ৩৬০ জন সফরসঙ্গীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবের কারণে এই লিপির উদ্ভব হওয়ায় অনেকে এটিকে ‘জালালাবাদী লিপি’ হিসেবে নামকরণ করেছেন।
গবেষকরা এ ব্যাপারে কী বলেন?
— দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর মতে, হযরত শাহজালাল (র.) এর খানকাহ সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল। দেবনাগরীজাত হিন্দু ধর্মীয় সংস্কৃতি থেকে মুক্তি লাভ করে স্বকীয় সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে মুসলমানী নাগরী লিপি সৃষ্টি করা হয়। ড. আব্দুল মুসাব্বির ভূঁইয়া তাঁর ‘JALAL VADI NAGARI’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘The history of the advent of Islam and Sufism is also connected with the history of the script’ অর্থাৎ এই অঞ্চলে ইসলাম ও সূফীবাদের আবির্ভাবের ইতিহাস নাগরী লিপির বিকশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত।
গবেষকদের এমনটা মনে হওয়ার কারণ কী?
— কেননা নাগরী লিপি সিলেটের মুসলিম সমাজের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার একটি প্রতীক। এটি এমন একটি লিপি যা কেবল লেখার মাধ্যম নয়, বরং একটি চেতনা ও পরিচয়ের বহিঃপ্রকাশ। নাগরী লিপিতে রচিত অধিকাংশ সাহিত্যকর্মই সূফীবাদ, ধর্মীয় উপদেশ ও নৈতিক শিক্ষাসংক্রান্ত। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হলো: হালতুন্নবী, মহব্বতনামা, হাসর মিছিল, মফিদুল মুমিনীন, ভেদসার, জঙ্গনামা, নূর নসীহত প্রভৃতি।
তুমি এই তথ্যগুলো কোথায় পেয়েছো?
— দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, ‘আমাদের সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা: উত্তরাধিকার ও মুসলমানী নাগরী’ (ঢাকা, ২০০১)
মোহাম্মদ সাদিক, ‘সিলেটি নাগরী: ফকিরী ধারার ফসল’, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি (২০০৮)
আচ্ছা, নাগরী লিপিতে কতটি বর্ণ আছে?
—৩২টি, এর মধ্যে স্বরবর্ণ ৫টি ও ব্যঞ্জনবর্ণ ২৭টি।
নাগরী লিপি এখন দেখা যায় না কেন?
— এজন্য কিছুটা সিলেটের জনগণ দায়ী। তারা নিজেরাই নিজেদের বর্ণমালাকে পরিত্যাগ করেছে; কিন্তু অধিক দায়ী হলো সরকার। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই নাগরী লিপি আজ অবলুপ্তির পথে। তবে আনন্দের বিষয় হলো, যুক্তরাজ্যস্থ সংগঠন Sylheti Translation And Research (STAR) নাগরী লিপির computer font তৈরি করে নাগরী লিপিকে নতুনভাবে জন্ম দিয়েছে।
সর্বশেষ প্রশ্ন— সিলেটি ভাষাকে কতিপয় মানুষ স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে গণ্য করেন না কেন?
— এটি নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলে কয়েকজন হয়তো স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে গণ্য করেন না। সিলেটি শব্দকোষের সাথে প্রমিত বাংলা শব্দকোষের বেশ সাদৃশ্য থাকার কারণে অল্পসংখ্যক ভাষাবিদ এটিকে বাংলা ভাষার উপভাষা বলেছেন, তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী এটিকে স্বতন্ত্র ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেছেন কেননা উচ্চারণরীতি ও ব্যাকরণের দিক থেকে বাংলা ও সিলেটি ভাষার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
সিলেটি ভাষার ব্যাকরণও আছে?
— হ্যাঁ, সিলেটি ভাষার নিজস্ব ব্যাকরণ আছে। এই জন্যই তো বলেছিলাম— সিলেটি ভাষা বাংলা ভাষার হাত—পা ভাঙেনি!
পরিশিষ্ট
সিলেটি ভাষার কিছু শব্দ নিয়ে আমার ছেলেবেলার দুটি মজার ঘটনা আছে সেগুলো না বললে লেখাটি অপূর্ণ থেকে যাবে।
প্রথম ঘটনা:
আমি তখন নার্সারিতে পড়ি (নার্সারির অনেক ঘটনাই আমার এখনো মনে আছে)। একদিন ক্লাসে ম্যাম ব্যঞ্জনবর্ণ পড়াচ্ছিলেন। আমি অমনোযোগী ছাত্র ছিলাম। ক্লাসে সারাক্ষণ দুষ্টুমি করতাম। সেদিনও পেন্সিল দিয়ে ডেস্কে আঁকাআাকি করছিলাম। হঠাৎ শুনতে পেলাম ম্যাম আমাকে ডাকছেন, আমি ওনার দিকে তাকালাম। তিনি তখন শিমের ছবি দেখিয়ে জপ করাচ্ছিলেন, ‘শ—য়ে হ্রস্ব ই—কারে শি আর ম’, ম্যাম শিম বলার আগেই আমরা বলে ওঠলাম ‘উরি’। ম্যামের বাড়ি সিলেটের বাহিরে ছিল (কোথায় ছিল বলতে পারব না। আমরা ওনাকে বেঙ্গলি বলতাম। সিলেটের অনেক জায়গায় সিলেটের বাহিরের লোকদের বেঙ্গলি বলা হয়)। ওনি সম্ভবত তখনো উরি শব্দটির সাথে পরিচিত হয়ে ওঠেননি। ওনি যতবারই শিম বলতেন আমরা ততবারই উরি বলতাম। আমরা তখন বুঝতে পারিনি যে, উরির শুদ্ধ বাংলা শিম। ওনি ভেবেছিলেন, আমরা সবাই মশকরা করছি। পরের ঘটনা না বলাই ভালো!
দ্বিতীয় ঘটনা:
আমি তখন K.G one এর ছাত্র। ক্লাস টেস্ট পরীক্ষায় ম্যাম পাঁচটি ফলের নাম লিখতে বলেছিলেন। আমি লিখেছিলাম—
১. খলা (কলা)
২. খাটল (কাঁঠাল)
৩. খয়ফল (পেঁপে)
৪. হফরি (পেয়ারা)
৫. নাইকল (নারিকেল)
পরের ঘটনা কী বলা যায়? না! কক্ষনো না!
কেউ যদি প্রশ্ন করেন আমার এই ফলগুলোর কথা মনে আছে কীভাবে? এর উত্তর হলো আমি ছোটোবেলা থেকেই এই ফলগুলো খুব একটা পছন্দ করি না। আমার কথাটি ফুরালো নটে গাছটি মুড়ালো…

