চলে এসেছিল আহবানে তাঁর মাথা নত করে বৃক্ষরা ছুটে
পা নেই তবু এসেছিল তারা কা-ের পরে ভর করে হেঁটে।
সারি সারি গাছ লিখেছিল যেন একটি চরণে গুণগান তাঁর
লিখেছিল তারা ডালপালা দিয়ে শোভন লিপিতে মাঝে রাস্তার।
মেঘেরা যেমন তিনি যেথা যান সঙ্গে সঙ্গে সেথা যায় সরে
ছায়া দিতে তাঁরে উনানের কড়া খরতাপ হতে প্রখর দুপুরে।
খ-িত সেই চন্দ্রের আমি শপথ করি যে সকলের কাছে
নবী-হৃদয়ের সঙ্গে তাহার অনুপম এক মিল রহিয়াছে।
কল্যাণ আর মহত্ত্ব কত জমা করেছিল সেই দিন গুহা!
কাফিরগণের সকল দৃষ্টি অন্ধ যে ছিল দেখে নাই উহা।
গুহার ভিতরে সত্য নবীজি, সিদ্দীক তাঁর সঙ্গী সেথায়
বিচলিত নন, শত্রুরা বলে হয় তো কেহই নাই এ গুহায়।
ওরা ভাবিয়াছে, থাকিতেন যদি শ্রেষ্ঠ নবীজি গুহার ভিতরে
জাল বুনিত না মাকড়সা আর কবুতর হেথা আসিত না উড়ে।
আল্লাহর দেওয়া সুরক্ষা তাঁর যথেষ্ট ছিল বাঁচাতে জীবন
শক্ত সাঁজোয়া উচ্চ দুর্গ ছিল না তাঁহার কিছু প্রয়োজন।
কালের চক্রে কষ্টে পড়িয়া আশ্রয় তাঁর যখনই চেয়েছি
নিরাপদ আর অলঙ্ঘনীয় শরণ তাঁহার তখনই পেয়েছি।
যখনই চেয়েছি দুই জাহানের প্রাচুর্য আমি নবীজির কাছে
তখনই পেয়েছি অকাতরে দান, সর্বশ্রেষ্ঠ দান সেথা আছে।
অমান্য তুমি করিও না ওহী, স্বপ্নেও তাঁর আসে যদি তবু
নয়নযুগল ঘুমিয়ে গেলেও হৃদয় তাঁহার ঘুমায় না কভু।
এসেছিল ঐ ওহী তাঁর কাছে উপনীত হলে নবুওয়াতে তাঁর
অবকাশ নাই সেই সময়ের স্বপ্নের বাণী না মানিবার।
আল্লাহ মহান! ওহী তো কখনো অর্জন করা যায় না চাহিলে
অপবাদ দেওয়া যায় না যে কভু নবীকেও তিনি গাইব বলিলে।
উজ্জ্বল তাঁর মুজিযাসমূহ, কাহারো নিকট গোপন তা নয়
বিহনে তাহার মানুষের মাঝে ন্যায্য বিচার কায়িম না হয়।
হস্ত তাঁহার পরশ বুলিয়ে পীড়িতের কত আরোগ্য দিল!
তেমনি পাপের বন্ধন হতে কত অভাগারে মুক্ত করিল!
সজীব হইল নিরস বছর দুআয় তাঁহার ফলিল ফসল
কালো আঁধারের সুকঠিন কালো রং হলো তার শুভ্র উজ্জ্বল।
মেঘের প্রবল বর্ষণে, সব উপত্যকাই যেন তার ফলে
প্লাবিত হয়েছে সাগরের- স্রোত কিবা বৃষ্টির বাঁধভাঙ্গা ঢলে।
কাব্যানুবাদ: ড. মুহাম্মদ ফজলুর রহমান