Logo
নালায়ে কলন্দর: এক সূফী হৃদয়ের আর্তি ও আত্মসমর্পন
মুহাম্মদ জামান আহমদ
  • ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬

সূফীবাদভিত্তিক কাব্য বা আধ্যাত্মিক সাহিত্য দীর্ঘকাল ধরে মুসলিম উম্মাহর আত্মার খোরাক জুগিয়ে আসছে। সেই ধারার—ই এক অমূল্য সংযোজন হলো—“নালায়ে কলন্দর”। এটি উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ শামসুল উলামা আল্লামা আব্দুল লতিফ চেীধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)—এর হৃদয় গভীরের নিঃসৃত প্রতিফলন। নালায়ে কলন্দর শুধুমাত্র একটি কাব্যগ্রন্থ নয়, এটি এক সত্যসন্ধানী আত্মার অন্তর্দহন, খোদায়ী প্রেম, হুব্বে রাসূল, এবং আত্মসমর্পণের এক অপূর্ব প্রকাশ। এর প্রতিটি কবিতায় এক আত্মমগ্ন সাধকের আরয, প্রত্যাশা, নিবেদন, জাগরণ, নিন্দা, উপদেশ, সতর্কবাণী, দাবি, দুঃখ—বেদনা, অভিযোগ, করুণাভিখ, অনুতাপ, তাওবাহ, দুআ ও কান্নার ধ্বনিত স্পন্দন প্রস্ফুটিত হয়েছে। এই কাব্যমালার প্রতিটি পঙ্ক্তি আবেগঘন, প্রেমময় ও আধ্যাত্মিকতায় ভরপুর। নালায়ে কলন্দরের কবিতাগুলো সহজবোধ্য, অথচ গভীর—যা পাঠকের হৃদয়কে স্পর্শ করে। কাব্যে ব্যবহৃত ভাব—ব্যঞ্জনা, উপমা ও ভাষার অলংকার প্রাঞ্জল, পাঠযোগ্য এবং মরমিয়া আবহে মোড়ানো।

মূলত উর্দু ভাষায় রচিত এই কাব্যগ্রন্থে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) একদিকে যেমন আল্লাহ তাঅলার প্রশংসাগীতি লিখেছেন, অন্যদিকে মহানবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)—এর প্রতি হৃদয় নিংড়ানো অকৃত্রিম প্রেম—ভালোবাসায় মনের মাধুরী মিশিয়ে নাতিয়াও লিখেছেন, যা এই কাব্যগ্রন্থের মূল রসদ। যেগুলো পাঠ করলে আশিকানে মুস্তফা ইশকে রাসূলের সূরা পান করার স্বাদ উপভোগ করবেন। কখনোবা পাক মদীনার ধ্যানে ডুবে যাবেন। রাসূল প্রেমে নিজেদেরকে অশ্রম্নসিক্ত করবেন। পাশাপাশি ওলী—আউলিয়ার পবিত্র পদচিহ্ন অনুসরণীয় লেখাও লিখেছেন। আবার কোথাও কোথাও আকর্ষণীয় রূপকে গভীর আত্মসমর্পণে নত হয়েছেন পরম দয়াময়ের বারগাহে।
নালায়ে কলন্দরের শুরুতেই আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) লিখেছেন হামদ। নিজেকে ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতরভাবে উপস্থাপন করে আল্লাহ তাআলার গুণকীর্তন করেছেন—
حمد کیسے کر سکوں یہ کام ہے آبدار کا
اسرار کا ہے نمائش خلق عالم مخزنِ
তোমার তারীফ করার ক্ষমতা কেবল রাখেন ওলী—আবরার
কুল আলমে সবার মাঝে প্রকাশ তোমার রূপ মহিমার
[কাব্যানুবাদ: কবি রূহুল আমীন খান]

আগেই বলেছি এই কাব্যগ্রন্থের মূল খোরাক হচ্ছে নাতে রাসূল (সা.)। ইশকে নবীর প্রেমে উদ্ভাসিত হয়ে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) কবি হিসেবে নাতিয়া শুরু করেছেন পৃথিবীতে নবীজির আগমনের কথা স্মরণ করে, যা পাঠকের আগ্রহ আরও প্রবলভাবে বাড়িয়ে দেয়।
رنگ لایا ہے جہاں میں سید ابرار سے
گلشن عالم اجالا گلبن اسرار سے
বিশ্বনবীর আবির্ভাবে জাগলো মহাসাড়া,
হাসলো কুসুম বিশ্বভুবন পুলক মাতোয়ারা
[কাব্যানুবাদ: কবি রূহুল আমীন খান]

নবীজির আগমনের ফলে জাহিলিয়াতের অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষগুলো নূরানী পরশ পেয়ে নতুন বসন্তে ফোটা ফুলের মতো পবিত্র হয়েছিল। তাদের জরাজীর্ণ জীবনে শত বছরের আঁধার কেটে যে নতুন সূর্য উঁকি দিয়েছিল, সে সূর্য ধীরে ধীরে পুরো পৃথিবী আলোকিত করেছিল স্বমহিমায়। নবীজির আগমনী আরেকটি কাব্যে তিনি জাহিলিয়াতের অন্ধকার দূর হয়ে পৃথিবীর মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন আকর্ষনীয় উপমায়—
چمک اٹھا مقدر کا ستارا عالمیں ایکدم
رکھا جب فرش پر پائے نبی دُرِّ بنی آدم
خریفی باد سے جب گرگئی برگ و گل عالم
ربیعی باد سے بارِ دیگر تازہ ہوا عالم
চকমকিয়ে উঠলো জ্বলে বিশ্বলোকের ভাগ্য—তারা
মানব—রতন নবী যখন এলেন ধরায় জাগলো সাড়া
বিশ্ববাগের কুসুম কলি ঝরলো যখন হিমেল ঝড়ে
এলো নবীন বসন্ত ফের আসলে নবী ধরার পরে
[কাব্যানুবাদ: কবি রূহুল আমীন খান]

সৃষ্টি জগতের শুরু হয়েছে আমার নবীজির নূর মুবারক সৃষ্টির মাধ্যমে। নূর দ্বারা সৃষ্ট নবীকে আল্লাহ তাআলা ইহ—পরকালে সর্বোচ্চ সম্মানিত মর্যাদার আসন দিয়ে মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। সেই নূরে মুহাম্মদীর সৃষ্টি তত্ত্ব ও তাঁর মর্যাদা তুলে ধরেছেন আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)—
خدا نے تم کو نور سے بنایا شکل بشر بنا کر دیکھایا
دنیا میں تم ہو راج والا حشر میں تم تاج والا
নূর দিয়ে বানিয়ে তোমায় পাঠালেন মানব সূরতে
দুনিয়ার বাদশাহ তুমি, বাদশাহীর মুকুটও আখিরাতে

রাসূলুল্লাহ (সা.)—এর মীলাদ বা জন্ম পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ঘটনা। এই নাতগুলো পাঠ করলে রাসূলুল্লাহ (সা.)—এর জন্মকালীন স্মৃতি মনে হয়; ফলে উম্মতের অন্তরে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। আবেগ আপ্লুত উম্মতে মুহাম্মদী কান্নাজড়িত কণ্ঠে সমস্বরে রওদায়ে রাসূলের পানে সজোরে সালাত ও সালাম পেশ করে। আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) ছন্দে ছন্দে সেই সালাত ও সালাম লিখেছেন—
سلام ائے رحمت عالم ملائک رب سبھی کا ہو
غلام بے وفا بد نام کا تسلیم گوارا ہو
খোদা—ফেরশতা সবার সালাম তোমার প্রতি হে রাসূল
অকৃতজ্ঞ গোলামের যত সালাম করে নিও গো ক্ববূল

নবীজির রওদায় সালাম দিলে আশিকের অন্তরে যে প্রশান্তি আসে, সেই প্রশান্তির কথা বলে বুঝানো অসম্ভব। মদীনা দেখার আকুতি, মদীনা দেখে দেখে সালাম পেশ করার আকুতি আশিকের আমরণের চাওয়া—

دل میرا مشتاق ہے دیدار مدینہ
تسلیم روضہ سے ملے دِل میں سکینہ
মন আমার উদাস থাকে সোনার মদীনা দেখতে
রওযা পানে দিলে সালাম, শান্তি মিলে হৃদয়েতে

আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) এমনভাবে নবীপ্রেমে মজেছেন, যেন নবীজির প্রেম ছাড়া পৃথিবীতে তাঁর আর কোনো সম্বল নাই। পাক মদীনা যিয়ারতে যাবার জন্য তিনি উন্মুখ। যে জায়গাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) মুবারক পা রেখেছেন, সেই পবিত্র জায়গাসমূহ দেখার আশায় তিনি প্রার্থনা করছেন—
غریبوں کا گزر یا رب در دولت مدینہ ہو
قدم گاہ نبی دیکھ کر تڑپ دل کی سکینہ ہو
গরীবের এ আর্জি খোদা তাওফীক দাও মদীনা যাবো
নবীর কদম রাখার জায়গা দেখে আকুল হৃদে শান্তি পাবো

আমরা জানি রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটি জিনিস—ই তাঁর আশিক উম্মতের কাছে নিঃসন্দেহে মূল্যবান। নালায়ে কলন্দরের কবি রাসূলে পাক (সা.)—এর রওদা দেখে নিজের হৃদয় আলোকিত করার বাসনা জানিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)—এর মুবারক পায়ের ধূলি নিজের চোখের সুরমা বানিয়ে মাখার জন্য ব্যাকুল হয়েছেন। এটি শুধু কথার অলংকার নয়; বরং এটি প্রেমিকের আত্মার আকাক্সক্ষা। একজন কলন্দর নিজের অহংকার বিসর্জন দিয়ে তাঁর মাশুকের পায়ের ধুলোকেও চোখের সুরমা মনে করেন—এটাই প্রকৃত ইশক।
غبارِ پا رسول اللہ میری آنکھوں کا سرمہ ہو
ہمیں روضہ کے درسن سے دلِ تاریک اجالا ہو
রাসূল পাকের পায়ের ধূলি মাখবো চোখে সুরমা করে
রওযা দেখে আঁধার হৃদয় উজল আলোয় উঠবে ভরে

আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) জীবদ্দশায় বারবার মদীনা শরীফ তথা দরবারে রিসালাতে যেতে আল্লাহর কাছে তাওফীক ভিক্ষা চেয়েছেন। কেননা বারবার মদীনা যাওয়া মানে তাঁর কাছে শুধু ভৌগোলিক সফর নয়, বরং যিনি রহমত—শাফাআত ও আত্মশুদ্ধির ভান্ডার, তাঁর দরবারের পথে যাত্রা। তিনি জানেন প্রিয়তম নবীর দরবারে গেলে দুনিয়া—আখিরাতের সকল উপকরণ পাওয়া যায়। তিনি বলছেন—
خدا سے بھیک لے کر ہم مدینے جانے والا ہے
در دولت حبیب اللہ سے اخر کچھ بھی لینا ہے
খোদার কাছে ভিক্ষা চেয়ে হবো মদীনার পথিক
দরবারে রিসালাতে গিয়ে কিছু না কিছু নেবই ঠিক

সাকরাত ও মৃত্যু মানুষের জীবনের এক ভয়াবহ চরম সত্য। আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) মৃত্যুর সেই কঠিন সময়ে রাসূলে পাক (সা.)—এর দীদার চেয়েছেন। যাতে রাসূলের নূরানী চেহারা মুবারক দর্শনে তাঁর মৃত্যুকষ্ট লাঘব হয়ে যায়।
جاں کنی کے سامنے چہرا دیکھا لینا مجھے
سینہ پہ دستِ کرم راکہ کے نبھا لینا مجھے
দেখাও তোমার নূরানী মুখ আমার মৃত্যুক্ষণে
যন্ত্রণা দূর হবে হাত মুবারক রাখলে সীনার সনে

পরকালীন জীবনেও কলন্দর আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গ লাভের আশায় আকুতি—মিনতি করেছেন। নবীজির মুবারক হাতে হাউযে কাউসারের পানি পান করার আশায় ছটফট করেছেন। হাশরের ময়দানে মীযানের সেই ক্রান্তি লগ্নে রাসূলুল্লাহ (সা.)—এর চাদর মুবারকের নিচে আশ্রয় লাভ করার জন্য নিবেদন করেছেন—
اے محمد حشر میں ساتھی بنالینا مجھے
روز محشر دستِ اپنے سے پلالینا مجھے
ভয়াবহ হাশরে আমায় সাথে করে নিও তোমার
দয়া করে নিজ হাতে পিলাইও আবে কাউসার
جب ترازو کے کنارے آپ ہی ہونگے کھڑا
دامنِ رحمت میں اس دم میں چھپا لینا مجھے
আমি গুনাহগার দাঁড়াব যখন মীযানেরও ধারে
আড়াল করে নিও গো আমায় দয়ারই চাদরে

নালায়ে কলন্দর কাব্যগ্রন্থের ‘পীরানে পীর’ নামক কাব্যে আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র.)—এর শান—মান—মর্যাদার কথা তুলে ধরেছেন। সুলতানে সিলেট হযরত শাজালাল মুজাররদ ইয়ামিনী (র.)—এর শানে লিখেছেন, তিনি কীভাবে কুফুরী মেঘের ঘনঘটা সরিয়ে ইসলামের আলো প্রচার করেছিলেন। লিখেছেন তাঁর পীর ও মুরশিদ হযরহ শাহ ইয়াকুব বদরপুরী (র)—এর শানেও।
ফিতনার যামানায় আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) ছাত্র সমাজকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের উপর অটল রাখার লক্ষ্যে ১৯৮০ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি “বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া” নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এবং সংগঠনের কর্মীদের জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে তিনি দুআ করেন। সেই দুআকে তিনি কাব্যে রূপ দিয়েছেন এভাবে—
مبارک ہو مبارک ہو مبارک چہرۂ یاراں
تمہارے دین و دنیا فضلِ باری سے مبارک ہو
মোবারক হোক, মোবারক হোক প্রিয়! তোমাদের মুখখানি
তোমাদের দ্বীন—দুনিয়া উজালা হোক, হোক রবের মেহেরবানী

রাসূলুল্লাহ (সা.)—এর সুন্নাহ’র পাবন্দ একজন সূফী, একজন মনীষী যার হাতে অগণিত মানুষ বাইয়াত হয়েছে, তিনি তাঁর কাব্যে নিজেকে দীনহীন, অপরাধী, তুচ্ছ, অবনমিত হিসেবে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন। ভাবা যায়? তিনি নিজের গভীর আত্মসমালোচনা করেছেন এই বলে—
زندگی برباد میری شامت اعمال پر
بد نصیبی چھا گئی ہے جرم کے اصرار پر
জীবনের সর্বনাশ হলো আমারই গুনাহতে
ডুবে আছি পাপে—তাপে দুর্ভাগ্যের ছায়াতে

আধ্যাত্মিক সম্রাট আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.) পৃথিবীব্যাপী আল্লাহ তাঅলার কালাম কুরআন মাজীদ ও ইলমে নববীর খিদমত করেছেন। জায়গায় জায়গায় মসজিদ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। জীবনের শত ব্যস্ততার ফাঁকেও সীরাত, তাফসীর, আকাঈদ, তাসাওউফ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। পাশাপাশি একটি সংগ্রামী জীবন অতিবাহিত করে মানুষের কাছে চির অমর হয়ে আছেন। এত এত খিদমত আনজাম দেওয়ার পরও তিনি তাঁর রবের দরবারে নিজেকে যতটা নমনীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়, তিনি করেছেন। রাব্বুল আলামীনের দরবারে করজোড়ে নত শিরে দাঁড়িয়ে শিশুর ন্যায় কেঁদে কেঁদে বলেছেন—
ہاتھ جوڑے اے خدا میں حاضرِ دربار ہوں
بندگاں تیرے میں یا رب میں بڑا بدکار ہوں
تم اگر چھوڑو مجھے میں چھوڑ کر جاؤں کہاں
آستاں پر سر گِرائے حاضر دربا ہوں
করজোড়ে খোদা আমি হাযির তোমার দরবার
বান্দাগণের মাঝে আমি বড়—ই গুনাহগার
তুমি তাড়িয়ে দিলে আমি যাবো কোথা যাবো আর?
নত শিরে দাঁড়িয়ে আছি গো তোমারই দরবার

নালায়ে কলন্দর অর্থ দুনিয়াবিমুখ সাধকের ক্রন্দন বা রোদন। যে রোদনের মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নৈকট্য লাভ করা যায়। এই কাব্যের মূল সুরও সেই “কলন্দরী” আত্মার প্রতিচ্ছবি। দুনিয়াবী মোহের বিপরীতে এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে আখিরাতের কথা, আত্মশুদ্ধির আহ্বান এবং আল্লাহ ও রাসূলের প্রেমে আত্মবিলীনের কথা উচ্চারিত হয়েছে। এটি কেবল সাহিত্যপিপাসুদের নয়, বরং তাসাওউফের সেই অনুসন্ধিৎসু অনুরাগীদের জন্যেও এক অমূল্য রত্ন। নালায়ে কলন্দর কাব্যগ্রন্থটির পাঠ এবং এর উপর সুর করে গীত হওয়া নাশিদ উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করে। আমাদের জন্য আল্লামা ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র)—এর কাব্য প্রতিভা, আধ্যাত্মিকতা, জীবনী স্মরণ করা এবং সর্বেপরি তাঁর ফায়েয লাভ করার মাধ্যম হোক নালায়ে কলন্দর।

ফেইসবুকে আমরা...