Logo
কাযা নামাযের ধারাবাহিকতা
জবাব দিচ্ছেন: মাওলানা আবূ নছর মোহাম্মদ কুতুবুজ্জামান তাফাদার
  • ৪ মে, ২০২১

উমর কাযা নামাযের ওয়াক্তের সংখ্যা যদি মনে না থাকে তাহলে তার করণীয় কি?

প্রশ্নকারী: রায়হান হোসেন

জবাব: কারো দায়িত্বের ফরয কোনো নামায অনাদায় থাকলে বা ছুটে গেলে চাই সেটা নতুন কিংবা পুরাতন হোক, সংখ্যায় কম বা বেশি যাই হোক সে নামাযকে ‘ফাওয়াইত’ নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এর কাযা করা শরীআতের বিধানানুযায়ী ফরয। এরকম নামাযের সংখ্যা কারো অজানা থাকলে কাযা আদায়ের ক্ষেত্রে এতটুকু বেশি পরিমাণে আদায় করে নেওয়া বাঞ্চনীয়। যাতে অনাদায় রয়েছে বলে কোনো সন্দেহ না থাকে। উল্লেখ্য যে, ছুটে যাওয়া নামাযের সংখ্যা ছয় বা ততোধিক হলে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আবশ্যক নয়। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আগের ছুটে যাওয়া নামায আগে আদায় করা জরুরি নয়। আর সংখ্যায় পাঁচ কিংবা তার চেয়ে কম সংখ্যক হলে কাযার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অপরিহার্য, যতক্ষণ না সময়ের অভাবে নির্দিষ্ট ওয়াক্তের নামায অনাদায় থাকার আশঙ্কা দেখা না দেয়।

আর উমর কাযা বলতে ফকীহগণ যা বুঝিয়েছেন তা হচ্ছে অতীত জীবনের আদায়কৃত সকল ফরয ও ওয়াজিব নামায মনোযোগ ও অধিক যতœ সহকারে পুনরায় পড়া, চাই সে সকল নামাযে ভুল-ত্রুটির সম্ভাবনা সন্দেহ থাকুক কিংবা না থাকুক। তাই উমর কাযার ক্ষেত্রে নামাযের সংখ্যার হিসাব করা হবে কোনো ব্যক্তির বালেগ হওয়ার সম্ভাব্য বয়স থেকে গণনা করে। উল্লেখ্য যে, উমর কাযা ফকীহগণের কারো কারো মতে মুস্তাহাব।

(কানযুদ্দাকাইক: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮১, আদ দুররুল মুখতার: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯৭, আল বাহরুর রাইক: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৬, আল জাওহারাতুন নায়্যিরাহ: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৬৭)

 

জবাবদাতা:

প্রিন্সিপাল ও খতীব, আল ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার
মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র

প্রশ্ন: শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময় ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ও গবেষণায় অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে থিসিস ও অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে বিদেশে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থী, যেমন—বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা, পড়াশোনার পাশাপাশি আয়-রোজগারে ব্যস্ত থাকার কারণে নিজেরা এই কাজগুলো যথাযথভাবে করতে পারেন না। ফলে তারা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কিছু এজেন্সি বা ব্যক্তির সহায়তা নেন, যারা তাদের হয়ে থিসিস বা অ্যাসাইনমেন্ট লিখে দেয়। এক্ষেত্রে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে জানতে চাই: ১. এভাবে অ্যাসাইনমেন্ট বা থিসিস করিয়ে নেওয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য কতটুকু ন্যায়সঙ্গত? ২. টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে থিসিস বা অ্যাসাইনমেন্ট লেখা কি ইসলামে বৈধ? ৩. এটি কি হারাম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত হবে?
ফেইসবুকে আমরা...