Logo
ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে পবিত্র ভূমি আল-কুদস
শহীদ আবূ উবায়দা (র.)
  • ৯ জানুয়ারী, ২০২৬

[গত ৩০ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ইসরায়েলদখলদার বাহিনীর বর্বর হামলায় শাহাদত বরণ করেন হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আব উবায়দা। ২৯ ডিসেম্বর আল-কাসসাম ব্রিগেডের নতুন মুখপাত্র গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কমান্ডারের শাহাদতের খবর ঘোষণা করেন, এবং প্রথমবারের মতো এই ঘোষণায় আনুষ্ঠানিকভাবে আব উবায়দার পরিচয় প্রকাশ করা হয়, জানা যায় তার নাম- হুজায়ফা সামির আল-কাহলুত। আব উবায়দা হুজায়ফা সামির আল-কাহলুত ২০১৩ সালে গাযা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন, তার মাস্টার্সের থিসিস ছিল “الأرض المقدسة بين اليهودية والنصرانية والإسلام” বিষয়ে। প্রায় সাড়ে ছয় শত পৃষ্ঠার এই সুবিশাল গবেষণাকর্মের ফলাফল অংশে আব উবায়দা তার গবেষণার সারকথা তুলে ধরেছেন। মাসিক পরওয়ানার পাঠকদের জন্য উক্ত গবেষণার কেবল ফলাফল অংশটুকু অনুবাদ করেছেন মুহাম্মাদ বিন নূর। – সম্পাদক]

হামদ এবং সালাত-সালাম শেষে গবেষক তার গবেষণা থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ নিম্নরূপ বর্ণনা করেন:

১. ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে চলমান সংঘাত মূলত সমকালীন বিশ্বের তিনটি প্রধান ধর্ম— ইসলাম, খ্রিষ্টধর্ম ও ইয়াহুদীবাদের মধ্যকার গভীর ও সুপ্ত দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। যদিও আধুনিক যুগে পবিত্র ভূমিকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে প্রকাশ্য সংঘাতটি মুসলমান ও ইয়াহুদীদের মধ্যে বলে প্রতীয়মান, তথাপি খ্রিষ্টান শক্তি (বিশেষত পশ্চিমা খ্রিষ্টান সমাজ তথা প্রোটেস্ট্যান্ট জায়োনিস্টরা) এই সংঘাতের পেছনে সক্রিয় ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রকৃতপক্ষে, পশ্চিমা খ্রিষ্টান সমর্থন ব্যতীত বরকতময় ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইয়াহুদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না।

২. ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের সংঘাতের পিছনে গভীর ধর্মীয় পটভূমিকা রয়েছে, মৌলিক দৃষ্টিকোণ থেকে এবং বাহ্যিকভাবে, উভয় দিক থেকেই এটি মূলত আকীদার সংঘাত। বাহ্যতঃ অনেক সময় আধুনিক রাজনৈতিক ভাষ্য, কূটনৈতিক পরিভাষা কিংবা ইয়াহুদী বিভ্রান্তিমূলক বর্ণনার আড়ালে এ সংঘাতকে আচ্ছাদিত করে রাখা হয়, কিন্তু সংঘাতটির মৌলিক আকীদাগত ভিত্তি অনস্বীকার্য। এই বাস্তবতার উপর বহু গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় নির্ভরশীল; সংক্ষেপে সেগুলো হলো—

(ক) মুসলিম উম্মাহর সদস্য ও নবপ্রজন্মের মধ্যে এই উপলব্ধি জাগ্রত করা অপরিহার্য যে, ফিলিস্তিনের উপর সংঘটিত আক্রমণ প্রকৃতপক্ষে একটি আকীদাগত আক্রমণ। অতএব, এর এক্ষেত্রে উম্মাহর সর্বস্তরের শক্তিকে সম্পৃক্ত করে ইসলামের স্বার্থের পক্ষে এই সংঘাতের নিষ্পত্তি করতে হবে। এটি নিছক রাজনৈতিক, জাতীয়তাবাদী কিংবা আরবদের ইস্যু নয়; বরং এটি দ্বীন, ইবাদত এবং উম্মাহর উপর অর্পিত আল্লাহর খিলাফতের আমানত সংরক্ষণের প্রশ্ন। একই সঙ্গে এটি রাসূলুল্লাহ e–এর ওসীয়ত, উম্মাহর সালাফদের আদর্শ এবং শতাব্দীজুড়ে সঞ্চিত ইসলামী সভ্যতার উত্তরাধিকার রক্ষার বিষয়।

(খ) বিশুদ্ধ, স্বচ্ছ ও প্রামাণ্য ইসলামী আকীদার মাধ্যমে পবিত্র ভূমি (ফিলিস্তিন) সংক্রান্ত ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের (বিকৃত) আকীদার মুকাবিলা করা অপরিহার্য। এই মুকাবিলা সম্ভব না হলে কাফিরগণ তাদের বিকৃত বিশ্বাসের বলেই মুসলমানদের উপর আধিপত্য বিস্তার করবে। এর ফলে ফিলিস্তিন দখল দীর্ঘস্থায়ী হবে, আর মুসলমানরা আল্লাহর পথনির্দেশ থেকে বিচ্যুত বিকল্প সমাধানের পেছনে ছুটে বেড়াবে, যার পরিণতি অনিবার্য ধ্বংস ও পরাজয়।

(গ) সংঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে এই সঠিক উপলব্ধি থেকে ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূখণ্ড নিয়ে দখলদার ইয়াহুদী ও তাদের দোসরদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা উপলব্ধি করা যায়। গণহত্যা, যুদ্ধ, অবৈধ বসতি স্থাপন, বিভাজন প্রাচীর নির্মাণ, কুদসকে ইয়াহুদীকরণ, পবিত্র স্থানের অবমাননা, মুসলমানদের উপর নিপীড়ন এবং আল-আকসা মসজিদ ধ্বংসের পরিকল্পনা; এই সকল কার্যকলাপের প্রত্যেকটির পেছনেই তাওরাতী ও তালমুদী ধর্মীয় ভিত্তি বিদ্যমান। সুতরাং এসবের মুকাবিলা দুর্বল পার্থিব নথির মাধ্যমে নয়, বরং কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক প্রামাণ্য ইসলামী দলীলের মাধ্যমে করতে হবে।

(ঘ) এই সংঘাতের আকীদাগত পটভূমি ও বাস্তবতা সম্পর্কে অসচেতন যে কোনো আরব মুসলিম (বিশেষত ফিলিস্তিনী) রাজনীতিবিদ বা কূটনীতিক অনিবার্যভাবে ফিলিস্তিন ও এর পবিত্র স্থানসমূহ হারানোর পথেই অগ্রসর হন। কারণ আধুনিক কূটনীতি, রাজনৈতিক তত্ত্ব ও সমকালীন স্বার্থ ফিলিস্তিন প্রশ্নের ঊর্ধ্বে স্থান পেতে পারে না। এখানে আকীদাগত দৃষ্টিকোণের উপস্থিতি অপরিহার্য; অন্যথায় এসকল নেতৃবৃন্দ ইয়াহুদী ও পশ্চিমা ক্রুসেডার শক্তির প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার ফাঁদে পড়বে। কাজেই সঠিক আকীদা ও এই সংঘাতের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে যথাযথ ধারণাবিহীন কোন রাজনীতিবিদ যদি উম্মাহর শত্রুদের মুকাবিলা করেন, তবে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার প্রতিনিধিত্ব বিপর্যয় ডেকে আনবে, এরকম পরিস্থিতিতে নীরব থাকা মুসলমানদের জন্য কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

৩. পবিত্র ভূমি সম্পর্কে মুসলমান, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের আকীদায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ঐকমত্য বিদ্যমান:

(ক) তিন ধর্মের অনুসারীরাই পবিত্র ভূমিতে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নিজ নিজ মৌলিক ধর্মীয় উৎসের ওপর নির্ভর করে।

(খ) তিন ধর্মই ফিলিস্তিনের ভূমিকে পবিত্র জ্ঞান করে এবং বিশেষ মর্যাদা ও উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করে; এমনকি এই ভূমির মর্যাদা পৃথিবীর অন্যান্য সকল ভূমির তুলনায় উচ্চতর বলে বিবেচিত হয় (মুসলমানদের দৃষ্টিতে হারামাইন শরীফাইন ব্যতীত)।

(গ) তিন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী ফিলিস্তিনের ভূমি শেষ যুগের ঘটনাবলি, কিয়ামতের আলামত, প্রতীক্ষিত মসীহের আগমন এবং পরকাল ও বিশ্বসমাপ্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।

(ঘ) ফিলিস্তিনে— বিশেষত কুদস (জেরুযালেম) নগরীতে— তিন ধর্মের অনুসারীদের জন্য পবিত্র স্থানসমূহ আছে।

৪. পবিত্র ভূমি সম্পর্কে মুসলমান, ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের আকীদায় মৌলিক ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে:

(ক) ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা যে ধর্মীয় উৎসসমূহের ওপর ভিত্তি করে পবিত্র ভূমিতে তাদের আকীদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, সেসব উৎসের বিকৃতি ও অবিশ্বাসযোগ্যতা সুপ্রতিষ্ঠিত; কারণ এগুলো দীর্ঘকাল মানবীয় হস্তক্ষেপ ও রদবদলের শিকার হয়েছে, যা নিরপেক্ষ গবেষকদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রমাণিত। ফলে এসব উৎস পরস্পরবিরোধী এবং সুস্থ বিবেক ও নির্ভুল জ্ঞানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অপরদিকে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসসমূহ (কুরআন ও সহীহ নববী সুন্নাহ) বিকৃতি ও পরিবর্তনের হাত থেকে সম্পূর্ণরূপে সংরক্ষিত; স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এগুলোর হিফাযতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অতএব পবিত্র ভূমি সম্পর্কে মুসলমানদের আকীদা ওহীভিত্তিক এবং মানবীয় বিকৃতি থেকে মুক্ত।

(খ) ইয়াহুদীরা নিজেদের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বে বিশ্বাসী এবং নিজেদেরকে ‘আল্লাহর নির্বাচিত জাতি’ বলে গণ্য করে; যার ফলে তাদের দাবিতে এই ভূমি একান্তভাবে তাদের জন্য নির্ধারিত, অন্য কোনো জাতি বা ধর্মের জন্য নয়। খ্রিষ্টানদের আকীদায় তারা নিজেদেরকে আল্লাহর সন্তান ও প্রিয়জন মনে করে; অতএব তারা এই ভূমির উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেদেরকে মসীহ আলাইহিস সালামের প্রতিনিধিরূপে বিবেচনা করে, যিনি শেষাবধি এই ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করবেন বলে তাদের বিশ্বাস। পক্ষান্তরে মুসলমানদের দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠত্ব কোনো জাতি, বংশ বা পরিচয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত নয়; বরং তা নির্ভর করে তাওহীদ, ঈমান, তাকওয়া ও আনুগত্যের ওপর। এই ভূমির উত্তরাধিকার সেই সকলের জন্য যারা তাদের দ্বীনের মানদণ্ডে উপযুক্ত। ইসলাম হলো সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর চূড়ান্ত দ্বীন, যা কোনো জাতিগত বা বংশগত শ্রেষ্ঠত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়।

(গ) পবিত্র ভূমিকে কেন্দ্র করে শেষ সময়ের ঘটনাবলি সম্পর্কে ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানদের বিশ্বাস মূলত কল্পকাহিনি ও উপকথানির্ভর, যেগুলোর কোনো সুদৃঢ় প্রামাণ্য ভিত্তি নেই। মানুষের কল্পনাই এসবের উৎস। এসব বিশ্বাসে স্পষ্ট বর্ণবাদী প্রবণতা বিদ্যমান। অপরদিকে মুসলমানদের বিশ্বাস সম্পূর্ণ “তাওকীফী”, অর্থাৎ সরাসরি আল্লাহর ওহীর ওপর প্রতিষ্ঠিত, যেখানে মানবীয় মতামত বা অনুমানের কোনো অবকাশ নেই।

(ঘ) ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই ভূমিতে ইয়াহুদীদের আচরণ তাদের শত্রু ও বিরোধীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা, সহিংসতা, রক্তপাত ও প্রাণনাশ দ্বারা চিহ্নিত ছিল; বিরোধী পক্ষ ও শত্রুদের উপর একই রূপ আচরণ খ্রিষ্টানদের মধ্যেও তাদের শাসনামলে পরিলক্ষিত হয়েছে। পক্ষান্তরে মুসলমানদের শাসনামলে ইয়াহুদী ও খ্রিষ্টানরা দীর্ঘকাল নিরাপত্তা, শান্তি ও সহাবস্থানের পরিবেশে বসবাস করেছে। ইসলামী রাষ্ট্রের ছায়ায় তাদের বসবাসের সময়কালই এই ভূমিতে তাদের ইতিহাসের স্বর্ণযুগ হিসেবে পরিগণিত।

৫. খ্রিষ্টধর্মের সূচনালগ্ন থেকেই এ ধর্মের বিষয়ে ইয়াহুদীদের বিকৃতি, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্র বিদ্যমান। এক্ষেত্রে ইয়াহুদীদের বহু প্রচেষ্টা রয়েছে, এমনকি তারা খ্রিষ্ট ধর্মকে প্রায় ইয়াহুদীবাদের কাছাকাছি আদর্শের মানবসৃষ্ট ধর্মে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা খ্রিষ্টধর্মের একটি বৃহৎ অংশকে ঐতিহাসিক শত্রু থেকে মিত্র এবং ইয়াহুদীবাদ ও তার বিকৃত আকীদার প্রচারকে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছে। এমনকি তারা পশ্চিমা খ্রিষ্টানদের নিকট থেকে ফিলিস্তিনে ইয়াহুদীদের তথাকথিত অধিকারের স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হয়েছে; তদুপরি মানবজাতির ওপর ইয়াহুদীদের শ্রেষ্ঠত্বের দাবিও প্রতিষ্ঠা করেছে!

৬. এই গবেষকের নিকট স্থান, বস্তু ও ব্যক্তির ক্ষেত্রে পবিত্রতার ধারণা ও তার গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রতিপন্ন হয়েছে। পবিত্রতার এই ধারণা কীভাবে আকীদা ও চিন্তাধারা গঠনে প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তী আচরণ ও সামাজিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করে—তা অনুধাবন করা অপরিহার্য। বিভিন্ন ধর্মে পবিত্রতা, কুদসিয়ত ও বরকতের ধারণা ও প্রকারভেদ সম্পর্কে অবগত হওয়া জরুরি, যাতে এসব বিশ্বাসের ভিত্তিতে গৃহীত কার্যকলাপ যথাযথভাবে বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করা যায়।

৭. আকীদা বুঝা, তার ব্যাখ্যা প্রদান এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট চর্চাসমূহ উপলব্ধির জন্য ধর্মীয় ও চিন্তাগত উৎসসমূহ গভীরভাবে অধ্যয়নের কোনো বিকল্প নেই। যেসব উৎস থেকে মানুষ তাদের বিশ্বাস গ্রহণ করে, সেগুলোর গভীরে প্রবেশ করা, পবিত্র ও সংবিধানস্বরূপ বিবেচিত গ্রন্থসমূহ বিশ্লেষণ করাই কেবল কোনো ধর্ম, মতবাদ বা সম্প্রদায়ের আকীদা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদানের যথার্থ পন্থা।

৮. ফিলিস্তিনে ইয়াহুদী বা খ্রিষ্টানদের সকল ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক অধিকারের দাবি ভিত্তিহীন ও বাতিল; এর পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক প্রমাণ বিদ্যমান নেই। মুসলমানরাই এই ভূমির প্রকৃত ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক অধিকারের অধিকারী। অতএব তাদের কারও জন্য এই অধিকার ত্যাগ করা, অস্বীকার করা কিংবা এ বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন বৈধ নয়। বরং শরঈ দৃষ্টিতে ফিলিস্তিনের ভূমিকে যেকোনো দখলদার শক্তি থেকে মুক্ত করা পর্যন্ত মুসলমানদের ওপর সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই অধিকার সংরক্ষণ করার দায়িত্ব বর্তায়। আর যদি তারা এতে অবহেলা করে, তবে তারা আল্লাহর শরীআত বাস্তবায়ন ও তাঁর আদেশ পালনের আমানত রক্ষা করতে ব্যর্থ হবে।

ফেইসবুকে আমরা...