Logo
রক্ত সম্পর্কের ভাই কিংবা দূর সম্পর্কের ভাইকে স্বামী এবং বোনকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দান অবৈধ
জবাব দিচ্ছেন: মাওলানা আবূ নছর মোহাম্মদ কুতুবুজ্জামান তাফাদার
  • ৩ মে, ২০২১

ইউরোপ-আমেরিকায় বসবাসকারী নারী-পুরুষের কেউ কেউ চুক্তির ভিত্তিতে রক্ত সম্পর্কের ভাই কিংবা দূর সম্পর্কের ভাইকে স্বামী এবং বোনকে স্ত্রী হিসেবে তাদের নিকট অভিবাসন করান। শরীআতের দৃষ্টিতে তা জায়িয কিনা? জানতে চাই।

বদরুল ইসলাম

নোয়াগাঁও, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট

 

জবাব: বর্ণিত বিষয় মিথ্যাচার ও ধোঁকা-প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত হওয়াতে ইসলামে এমনটা করা সম্পূর্ণ হারাম। পবিত্র কুরআন মজীদের অনেক স্থানে মিথ্যাচারকে কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ সাব্যস্ত করে মিথ্যাবাদীর উপর আল্লাহর অসন্তোষ ও অভিশাপের কথা ঘোষিত হয়েছে। যেমন:

ولهم عذاب أليم بما كانوا يكذبون (البقرة:١٠(

-আর মিথ্যাচারের কারণে তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (বাকারা, আয়াত-১০)

إنما يفتري الكذب الذين لا يؤمنون بآيات الله وأولئك هم الكاذبون (النحل: ١٠٥(

-আর নিশ্চয় তারাই মিথ্যা রচনা করে যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস রাখে না, বস্তুত তাঁরাই মিথ্যাবাদী। (আন নাহল, আয়াত-১০৫)

হাদীস শরীফের বহু বর্ণনায় মিথ্যাচার ও ধোঁকা গোনাহে কবীরাহ ও হারাম ঘোষিত হয়েছে। যেমন:

সহীহ মুসলিম ও সুনানে তিরমিযীসহ বহু হাদীস গ্রন্থে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা মিথ্যা কথা পরিহার কর, কেননা মিথ্যা কথা গোনাহসমূহে লিপ্ত করায় এবং গোনাহ জাহান্নামে পৌছিয়ে দেয়। মানুষ সর্বদা মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত হলে অবশেষে আল্লাহর নিকট মিথ্যাবাদী হিসেবে তার নাম লিপিবদ্ধ করা হয়। (বুখারী, বাবু কাওলিল্লাহ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ)

হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ليس منا من غش “যে প্রতারণা করল সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (সুনানে আবী দাউদ, বাবুন নাহয়ি আনিল গাশ)

উল্লেখ্য যে, মুখে মিথ্যা বলা এবং কোনো মিথ্যা তথ্যে লিখিত ভাবে পরিবেশন করা হারাম হওয়ার দিক থেকে একই পর্যায়ভুক্ত।

জবাবদাতা: প্রিন্সিপাল ও খতীব, আল ইসলাহ ইসলামিক সেন্টার 

মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র

প্রশ্ন: শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময় ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ও গবেষণায় অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে থিসিস ও অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে বিদেশে অধ্যয়নরত অনেক শিক্ষার্থী, যেমন—বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা, পড়াশোনার পাশাপাশি আয়-রোজগারে ব্যস্ত থাকার কারণে নিজেরা এই কাজগুলো যথাযথভাবে করতে পারেন না। ফলে তারা নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে কিছু এজেন্সি বা ব্যক্তির সহায়তা নেন, যারা তাদের হয়ে থিসিস বা অ্যাসাইনমেন্ট লিখে দেয়। এক্ষেত্রে ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে জানতে চাই: ১. এভাবে অ্যাসাইনমেন্ট বা থিসিস করিয়ে নেওয়া একজন শিক্ষার্থীর জন্য কতটুকু ন্যায়সঙ্গত? ২. টাকার বিনিময়ে অন্যের হয়ে থিসিস বা অ্যাসাইনমেন্ট লেখা কি ইসলামে বৈধ? ৩. এটি কি হারাম উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত হবে?
ফেইসবুকে আমরা...